২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

সরকারি সম্পদ বিক্রি করে মৎস্য কর্মকর্তা বিমল এখন টাকার কুমির!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০২:০৮ পূর্বাহ্ণ, ২০ অক্টোবর ২০১৭

চলমান নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ শিকার করার সুযোগ করে দিয়ে জেলেদের কাছ থেকে মৎস্য কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দাস কত টাকা হাতিয়েছেন তা নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যায়। কিন্তু এই কর্মকর্তার কারণে সরকার কী পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছেন তা আসেনি আলোচনায়।

যদিও মাঠে কথিত রয়েছে এবারের অভিযানে জেলেদের ‘মা’ ইলিশ শিকারের সুযোগ করে প্রতি জেলের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন বরিশাল মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস। এই কর্মকর্তার সুযোগের আওতায় থাকা বাকি জেলেদেও কাছ থেকে একইভাবে অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

 

এক্ষেত্রে বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে- তার সাথে চুক্তিবদ্ধ দুই জেলে উৎকোচের টাকা না দিতে পারায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে নিয়ে আসেন বিমল। পরবর্তীতে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে তুলে দুজনকে কারাদন্ড দেওয়া হয়। মূলত এই পরপরই ওই দুই জেলে মুখ মুখলে ফাঁস হয়ে যায় বিমলের এই চৌর্যবৃত্তির কাহিনী। সেই সাথে প্রকাশ হয়ে যায় অভিযানে উদ্ধার ইলিশ নিয়ে বিমলের নাটকীয়তার বিষয়টি।

অভিযোগ রয়েছে- অভিযানে উদ্ধার ইলিশের বৃহৎ একটি অংশ এই কর্মকর্তা নিজের কাছে রেখে দেন। এবং পরবর্তীতে সেগুলো বাজারে কতিপয় ব্যক্তি বিশেষের কাছে বিক্রি করে হাতাচ্ছেন অর্থ। এছাড়াও অভিযানের ইলিশ তিনি মাদরাসা ও অসহায় মানুষকে দেওয়ার নামে কৌশলে বিক্রি করছেন।
বরিশাল শহরের অক্সফোর্ড মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা সেজান জানিয়েছেন- বুধবার সকালেও পুলিশের উপস্থিতে বিমল দাস মসজিদের কথা বলে তাকে ৩ কেজি ইলিশ দেন। কিন্তু সেই ইলিশের দাম আবার বিকেলে নিয়ে গেছেন। একইভাবে রাজু ও মনিরকে পুলিশের উপস্থিতিতে তিনি মাছ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাদের বাসায় গিয়েও টাকা আদায় করেন তিনি।’’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বিমল চন্দ্র দাস বলছেন- একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সেই বিষয়টি সম্পর্কে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ওয়াকিবহাল বলে দাবি করছেন তিনি।’’

অথচ বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. প্রনব কুমার বলছেন- বিমলের বিরুদ্ধে অভিযোগটি শুনেছেন। এবং বিষয়টি তদন্ত করছেন। যদি প্রমাণ মেলে ব্যবস্থা গ্রহণে সুপারিশ রাখবেন।’’

 

 

13 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন