১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

সরকারের মহত্ত্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফুটিয়ে তুলতে হবে

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:০৬ অপরাহ্ণ, ১৮ জুন ২০১৬

বরিশাল: বর্তমান সময়ে সংগঠিত পুলিশের স্ত্রী, সন্যাসী, পুরোহিত এবং লেখক, প্রকাশক, কবি, ব্লগার  হত্যায় হতবাক সকলেই। সরাদেশে একের পর এক গুপ্তহত্যার  দানবীয় এইসব ঘটনায় দেশজুড়ে বইছে আতঙ্কের দুর্যোগময় ঝড়োবাতাস।

কেননা, এরা মুক্তবুদ্ধির জাগরণকে রুদ্ধ করতে সিরিয়াল কিলিং পন্থায় বুদ্ধিজীবিদের হত্যার ম্যাসেজ পাঠাচ্ছে মোবাইলে এবং ইন্টারনেট-টুইটারে। তাই, সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদীদের এইসব মুর্খ আস্ফালন ও উত্থান দেখে বাংলাদেশের লড়াকু মানুষ আজ বিস্মিত । গত এক বছরে জনবহুল রাস্তায়, দিনে-দুপুরে বাসায় কর্মস্থল এবং মসজিদ, মন্দির, গির্জায় ঢুকে হত্যার মতো নৃশংস নকসা   বাস্তবায়ন করেই চলেছে এরা। আথচ, সরকার আজ পর্যন্ত এইসব হত্যাকান্ডের কেনোটিরই ক্লু-নির্ধারণ করতে পারছে না। ফলে, এই আপরাধীরা কেউই এখনো বিচারের মুখোমুখি না হওয়ায়। উগ্রবাদী এইসব হত্যাকারীরা আরও বেশী করে সংগঠিত ও উৎসাহিত হচ্ছে এবং বাংলাদেশকে একটি জঙ্গিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তালেবানি মহড়ায় ও আইএস’র অস্থিত্ব জানান দিচ্ছে।

যদিও এইসব জঙ্গিগুষ্ঠির কিছু লোক গ্রেফতার করা হয়েছিলো, কিন্তু তারাও যে, কোনও এক যাদুর কারসাজিতে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে এবং আবার তাদের টার্গেট মিশন বাস্তবায়নে নেমে পড়ছে। এ আবস্থার প্রেক্ষিতে সরকারের উদাসীনতাই দায়ী বলে, দেশের মুক্তবুদ্ধির মানুষের মাঝে অসম্ভব ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি  হচ্ছে। একই সঙ্গে বলা চলে বর্তমান সরকার যেনো জনগণের নিরাপত্তার নূন্যতম অধিকারটুকুও দিতে পারছে না কোনও ভাবে। তাই, ব্যর্থ এই সরকারের স্বেচ্ছাচারি আচরণে… জন-মনের হতাশাও প্রতিনিয়তো মহিরুহ হচ্ছে।

এ-ছাড়াও এক শ্রেনীর মন্ত্রী-আমলা-দলীয় নেতাকর্মীদের ঔদ্যত্বপূর্ণ আচরণ ও বক্তব্যে দেশের অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল সৌহার্দ্য-বজায় রাখতেও সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। কেননা, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব তো, গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্রের ওপরেই বর্তায়। এ-ক্ষেত্রে ঘটছে উল্টোটি, সরকার খুনি-জঙ্গিদের ধরে আইনের আয়তায় না এনে, বরং মুক্তমনা লেখকদের সংযত হওয়ার হুমকি ও পরামর্শ শোনাচ্ছেন। এতে কি, তাহলে এটাই প্রমানিতো হচ্ছে না যে, বর্তমান সরকারের কাছে, মৌলবাদী খুনিদের চাইতে সমাজের মুক্তমনারাই খুব বেশী আপরাধী ? তাই তো, জনগণ সরকারের এই দ্বি-চারি তোষণ অবস্থান কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। ফলে সরকার ও তার গোয়েন্দা সংস্থার আত্মঘাতী আত্মপরিচয়ের মুখ ও মুখোশ দিনে দিনে ঠিকই চিনে নিচ্ছেন জনগণ…।

তাই, এখন সরকারের উচিৎ… অচিরেই সকল সংকট কাটিয়ে, মানুষের মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য, দেশের বিরজমান অস্থিরতার আবসান ঘটানো। এবং সরকারের সুনাম ফিরিয়ে আনতে, এ-পর্যন্ত সংঘঠিত প্রত্যেকটি পরিকল্পিত হত্যায় লিপ্ত সকল জঙ্গি-খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে বিচার এবং মৌলবাদী সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা উচিৎ। একই সঙ্গে এ-ও  জরুরী, দেশের জনগণের মনে শান্তি ও স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়ে, বর্তমান সরকারের মহত্ত্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জন্য কতোবেশী প্রয়োজন? সেটাই প্রমান করতে আরও বেশী আন্তরিক হওয়া দরকার…।

হেনরী স্বপন : কবি লেখক

28 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন