২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

সাংবাদিক মিন্টু বসুর প্রয়াণে বরিশাল মিডিয়াপাড়ায় শোকের ছায়া

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৩:৫১ অপরাহ্ণ, ০৪ অক্টোবর ২০১৭

বরিশালের প্রবীণ সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, শিশু সংগঠক, নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মিন্টু বসুকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নামে।

এরআগে তার মরদেহ খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটারের সামনে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং বরিশাল প্রেসক্লাবে নেওয়া হলে সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রেসক্লাবের সদস্যরা।

বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হলে মিন্টু বসুর মরদেহে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে। সেখানে তার মরদেহে রাষ্ট্রীয়া মর্যাদা গার্ড অব অনার দেওয়া পর বরিশাল মহাশ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এরআগে মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টায় তিনি বরিশাল নগরের শীতলাখোলা রোডের নিজ বাসায় বার্ধক্যজনিত কারণে হঠাৎ করে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে হাসাপাতলে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। এছাড়া তিনি স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী মিন্টু বসু ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার বৈচন্ডি গ্রামে ১৯৪৮ সালের ১২ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম নরেন্দ্রনাথ বসু ও মাতা শৈলবালা বসু। বাবা-মায়ের ৬ সন্তানের মধ্যে তিনি চতুর্থ। স্বাধীনতা পূর্বকালে মিন্টু বসু ছিলেন ‘বরিশাল যুবসংঘ’র নেতৃস্থানীয়কর্মী।

প্রথিতযশা সাংবাদিক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত মিন্টু বসু। সুদীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সংবাদপত্র ‘বাংলাদেশ’ পত্রিকা থেকেই মিন্টু বসুর সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে মিন্টু বসুর সাংবাদিকতা জীবনের শুরু হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গণে।

‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’ পত্রিকা ছিল রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধাদের মুখপত্র। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের কোলকাতায় অবস্থানকালে মিন্টু বসু ‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’র বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক হিসেবে প্রকাশিত ‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’এ দীর্ঘদিন বার্তা সম্পাদক ছিলেন মিন্টু বসু।

তিনি দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল ও আজকের বার্তা পত্রিকায় বার্তা সম্পাদক, দৈনিক গ্রাম সমাচার পত্রিকায় নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদ, দৈনিক দেশবাংলা এবং দৈনিক বাংলার বাণীতে বরিশাল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।

দীর্ঘদিন তিনি একুশে টেলিভিশনের বরিশাল প্রতিনিধিও ছিলেন। বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ছাড়াও বরিশাল প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন মিন্টু বসু।

নাটক, উপন্যাস, জীবনীগ্রন্থ ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর তার ৭৮টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তার প্রথম লেখা উপন্যাস প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে। ৮০’র দশকে তিনি শিশু সংগঠন চাঁদের হাটের মাধ্যমে বরিশালে শিশু নাট্য আন্দোলন গড়ে তোলেন। দেশের অন্যতম প্রাচীন গ্রুপ থিয়েটার খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটারের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘ ২০ বছর। তার লেখা নাটকের সংখ্যা ৩৪। এরমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ১৪টি। ১৯৯৪ সালে তার লেখা নাটক ‘বিপ্লবের মৃত্যু নেই’ মঞ্চস্থ হয় এবং বিশেষ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।

তার একাধিক নাটক টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। ঢাকার নাট্য সংগঠন লোক নাট্যদল মিন্টু বসুকে ১৯৯৩ সালে দেশের শ্রেষ্ঠ নাট্যকর্মীর পদকে ভূষিত করা হয়। এছাড়াও বরিশালের প্রজন্ম নাট্যকেন্দ্র তাকে বিপ্লবী দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ পদক দেওয়া হয়।

তিনি বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং একাধিকবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

মিন্টু বসু মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বরিশাল জেলা কমান্ডের সাবেক সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদকসহ বহু প্রগতিশীল সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তিনি সেক্টরস কমান্ডার ফোরাম বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি ছিলেন। বরিশাল নাগরিক পরিষদের এক সময় সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করতেন মিন্টু বসু।’

7 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন