২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

সাবেক সাংসদ ইউনুসকে নিয়ে উজিরপুর আ’লীগে উত্তাপ

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:১৮ অপরাহ্ণ, ২৮ অক্টোবর ২০১৯

শাকিব বিপ্লব:: বরিশালের উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন প্রস্তুতি কল্পে বর্তমান ও সাবেক দুই সাংসদের মধ্যে পূর্ব বিরোধ নতুন রুপ নিতে যাচ্ছে এমনটি আভাস পাওয়া গেছে। কমিটি গঠনের প্রথম ধাপ ইউনিয়ন কমিটিতে বর্তমান সাংসদ শাহ আলমের অনুসারীদের উপেক্ষা করায় একটি ক্ষুব্ধ অংশ নিরবে বিদ্রোহী অবস্থান নিয়েছে। এই অংশটিকে উপজেলার ৯ ইউনিয়নে সম্মেলন প্রস্তুতি বৈঠকসমূহে আমন্ত্রণ না জানানোর ফলে পকেট কমিটি গঠন প্রস্তুতির অভিযোগ তুলেছে। ক্ষুব্ধ নেতৃত্ব প্রত্যাশিদের অভিযোগ উপজেলা আ’লীগের শীর্ষ একজন নেতা এই প্রক্রিয়া সাধনে অগ্রণী ভুমিকায় থাকলেও নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন সাবেক সাংসদ ও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস। জেলা ও উপজেলার আ’লীগের দায়িত্বশীল এই দুই নেতার দিক-নির্দেশনায় ইউনিয়ন কমিটি গঠনে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসরণ করা হচ্ছে না। বিশেষ করে সাতলা ইউনিয়ন কমিটিকে ঘিরে চাপা উত্তেজনা থেকে আ’লীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের তথ্য উপাত্ত মিডিয়া অঙ্গনে সহসাই চলে এসেছে।

দল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়- প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই উজিরপুর আ’লীগ দ্বিধা-বিভক্ত। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের সাথে স্থানীয় সাবেক দলীয় সাংসদ তালুকদার মো. ইউনুসের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছিল। যার শেষ পরিণতিতে সদ্য অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে ইকবাল দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি এই নেতা নিজস্ব একটি বলয় গড়ে তোলায় তৎসময়ের সাংসদ ইউনুস কোন ভাবেই পেরে উঠছিলেন না। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে ইউনুসের সাথে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রুপ ধারণ করে। ইউনুস দলীয় প্রার্থী আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চুর পক্ষাবলম্বনে করে মাঠে নামলে উত্তাপ বিষ্ফোরণমুখ ধারণ করে। ঘটনাচক্রে নির্বাচনে বাচ্চুর কাছে ইকবাল পরিজিত হয়ে রাজনীতি থেকে নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নেয়। পরবর্তীতে দলীয় সাংসদ শাহ আলমের সাথে সাবেক এমপি ও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুসের প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি নতুন মাত্র যুক্ত করে। কিন্তু উভয় নেতার বিরোধ প্রকাশ্য রুপ ধারণ না করলেও নিরবে তা প্রকট হয়ে উঠছিল। উপজেলা কমিটি গঠনে কেন্দ্র থেকে তাগিদ আসার পরে সেই বিরোধ এখন উত্তাপে রুপ নিচ্ছে।

সূত্র জানায়- উপজেলা আ’লীগের নেতৃত্বে থাকা একটি অংশ তালুকদার মো. ইউনুসের পক্ষে মাঠে সক্রিয় থাকায় সাংসদ শাহ আলমও অবস্থান শক্ত করতে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত হাফিজুর রহমান ইকবালকে সম্প্রতি কাছে টেনে নেন।

তবে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের দাবি- কৌশলী রাজনৈতিক ইকবাল দলীয় নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র আশ্বাসের প্রেক্ষিতে পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হতে শাহ আলামের অনুকূলে অবস্থান নিয়েছেন। অবশ্য হাফিজুর রহমান ইকবালের টার্গেট উপজেলা আ’লীগের শীর্ষ পদে আসীন হওয়া। আগামী ২২ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় উজিরপুর উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনের কথা রয়েছে। সভাপতি পদপ্রত্যাশি ইকবাল দলীয় সাংসদ শাহ আলমের পক্ষ নেওয়ায় সাবেক সাংসদ তালুকদার মো. ইউনুসের অনুসরীরা নিজেদের অবস্থান শক্তপোক্ত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

সূত্রের ভাষ্যমতে- উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন পূর্ব ইউনিয়নের কমিটি গঠনে নিজেদের সমর্থকদের পদ-পদবি নিশ্চিতে সাবেক সাংসদ ও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইউনুসের অনুসারীরা কৌশলী পথে হাটতে শুরু করেছে। ইউনিয়নের নয়া নেতৃত্বে তাদের সমর্থিতদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনে দলীয় নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষ বধিত সভায় ইকবাল সমর্থিতদের ডাকা হলেও গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহে তাদের অন্ধকারে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সাতলা ইউনিয়নের সম্মেলনকে ঘিরে সেখানে দু’গ্রুপ পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সাতলা ইউনিয়ন পরিষদে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দলীয় একাংশের অভিযোগ- বর্তমান সাংসদ শাহ আলমকে দুর্বল করতে তার সমর্থিত ইকবালের অনুসারীদের ওই সম্মেলনে ডাকা হয়নি। এমনকি ইউনিয়নের সম্মেলন উপলক্ষে ওয়ার্ডভিত্তিক ওয়ার্ক করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। সাতলা বাজারে বসে ইউনিয়ন আ’লীগের নেতৃত্বে থাকা আব্দুল মালেক মাস্টার ও ইদ্রিস সরদার তাদের পছন্দের লোকদের নয়া কমিটিতে আসার তাগিদ দিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। উল্লেখিত দুই নেতা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। গত ২৫ অক্টোবর উজিরপুর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত উপজেলা কমিটির বর্ধিত সভায় ৯ ইউনিয়নের কমিটি গঠন পূর্বক ওয়ার্ড ভিত্তিক সকলের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে উপজেলার নেতৃবৃন্দের অবস্থান থাকলে তাদেরকেও সাথে নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে কোন নিয়ম কানুন মানা হচ্ছে না।

জানা গেছে- উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ইকবাল অনুসারীদের আধিপত্য থাকায় প্রতিপক্ষের ধারণা সবার মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হলে সাবেক এই উপজেলা চেয়ারম্যানের সমর্থকদের অংশিদারিত্ব প্রতিষ্ঠা পাবে। এমন ধারণার আলোকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মালেক মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস সরদারসহ সাতলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খালেক আজাদ নিজেদের মনপুত লোকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল এই তিন নেতা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ তালুকদার ইউনুসের অনুসারী হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবালের ঘোর বিরোধী।

সূত্র জানায়- ৯টি ইউনিয়নের সম্ভব কমিটির অধিকাংশ রুপ-রেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেখানে তালুকদার মো. ইউনুসের অনুসারীদের সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পেয়েছে। এমন অবস্থায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় সাতলা ইউনিয়নের সম্মেলনকে ঘিরে বিদ্রোহীরা জোরালো অবস্থান নিয়েছে একপেশে সিদ্ধান্তের বিপক্ষে।

ওই সূত্রটির দাবি- উপজেলা আ’লীগের নেতৃত্বে থাকা অংশের অধিকাংশ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী হওয়ায় তার নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহায়ক হচ্ছে। নয়া কমিটি গঠনের এই প্রাক-প্রস্তুতিতে বর্তমান সাংসদকে কোনঠাসা করার নানান পদক্ষেপ নিয়ে এখনই কথা ওঠায় দলের মধ্যে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সাতলা ইউনিয়ন কমিটির বর্তমান সভাপতি মালেক মাস্টার স্বীকার করে বলেন- উপজেলা নির্বাচনে দলীয় বিদ্রোহীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান থাকায় অনেককেই ইউনিয়নের সম্মেলন এবং বর্ধিত সভায় আমন্ত্রণ জানানো থেকে কৌশলগত কারণে বিরত থাকা হচ্ছে। ব্যাখ্যাস্বরুপ তার দাবি- বিদ্রোহীদের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে কোন দিকনির্দেশনা না থাকায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র এই বিষয়ে নমনীয় এমন বক্তব্যের উত্তর জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এসএম জামাল হোসেন অনুরুপ ব্যাখ্যা দিলেও একপর্যায়ে ইউনিয়ন কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের এধরনের পদক্ষেপ দলীয় অসন্তোস সৃষ্টি করতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন।

উজিরপুর উপজেলা ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে মতবিরোধ প্রসঙ্গে দলীয় সাংসদ শাহ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য হচ্ছে- কমিটি গঠনের দায়িত্ব থাকা উপজেলা নেতৃবৃন্দ বিতর্ক এড়াতে ব্যর্থ হলে জবাবদিহিতার মুখে পড়বেন।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুসের সাথে কয়েকদফা মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।’

11 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন