৪ ঘণ্টা আগের আপডেট রাত ১:৫১ ; বুধবার ; জুন ২৩, ২০২১
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

সৃষ্টিশীল মানুষের মুখের ভাষা কেড়ে নিতেই কী ডিজিটাল আইন?

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
৮:৪৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২১

সৃষ্টিশীল মানুষের মুখের ভাষা কেড়ে নিতেই কী ডিজিটাল আইন?

আহমেদ জালাল>> ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হওয়া লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু থেকে তরুণ প্রজন্ম কী মেসেজ পাচ্ছে? এহেন ডিজিটাল দৈত্যের ভয়ে অনেক লেখক-সাংবাদিক আজকাল সত্য কথা লিখতে ভয় পান কিনা? কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাকে আটকের সময় নির্যাতন করা হয়েছে। বন্দিদশা থেকে জামিনে মুক্তির পর দেহে নির্যাতনের চিহ্ন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। সাক্ষাৎকারে কার্টুনিস্ট কিশোর বলেছেন-মুশতাক আহমেদকে বন্দী অবস্থায় নির্যাতন করা হয়েছিল।

এই ডিজিটাল আইন নামক কালো আইনে সবার মুখের ভাষা কেড়ে নিতে নয়, কেবল যাদের মুখের ভাষা তির্যক, যারা এ রাষ্ট্রকে পথ দেখাতে চায়, যারা সৃষ্টিশীল মানুষ, তাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতেই কী এ আইন তৈরি করা হয়েছে? আর এ আইনে প্রথম শহীদ হলেন সৃষ্টিশীল লেখক মুশতাক আহমেদ।

আমরা সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিষয়টি জানি। কাজল কী কোনো দুর্ধর্ষ অপরাধী? তিনি একজন পেশাদার সাংবাদিক। নামকরা আলোকচিত্রী। তাঁর বিরুদ্ধে সরকার দলীয় একজন সাংসদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। এরপর তিনি বাসার সামনে থেকে অপহৃত হন। সেই অপহরণের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ অপহরণকারীদের খুঁজে বের করতে পারেনি। অপহরণের দীর্ঘসময় পর হঠাৎ কাজলকে আবিষ্কার করা হয় বেনাপোল সীমান্তে। বেনাপোল থানা–পুলিশ তাঁর নামে একটি মামলা করে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সীমান্তের এ পারে আসার দায়ে। কিন্তু বিজিবি ও বিএসএফের সতর্ক ও সশস্ত্র পাহারা এড়িয়ে তিনি কীভাবে ও পারে গেলেন, সেই প্রশ্নের কী জবাব আছে? কারা তাঁকে সীমান্তের ওপারে নিয়ে গিয়েছিলেন? কেন নিয়ে গিয়েছিলেন? ওপার থেকেই–বা কারা তাঁকে এপারে ঠেলে পাঠালেন? কাজল বলেছেন, ৫৩ দিন তাঁর চোখ বাঁধা ছিল। একজন চোখ বাঁধা মানুষের পক্ষে সীমান্ত পার হওয়া সম্ভব নয়। তাহলে কী পুরো বিষয়টি সাজানো ছিল?

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীতেও এই বাংলাদেশে মতপ্রকাশের জন্য লেখার জন্য রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় নির্যাতনে মরতে হয়। চাপাতির কোপে মস্তক বিচ্ছিন্ন হয়। মাথার ঘিলু বেরিয়ে আসে রাস্তায়। কালো আইনটি প্রণয়নের সময় থেকেই মানবাধিকার কর্মী ও মুক্তমনা মানুষরা এই আইনের বিরোধিতা করে আসছিলো। সবার শঙ্কা ও উৎকণ্ঠাকে সত্য প্রমাণিত করে অনবরত সেই আইনের অপব্যবহার চলছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

এ আইনে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় এমন কিছু ধারা এবং উপধারা আছে। এটিকে সংস্কার করেও কোনোভাবে রাখা সম্ভব না। কারণ এটি আদ্যোপান্ত একটি নিপীড়নমূলক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী আইন।’ এজন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজন নেই। অতি দ্রুত মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী এবং স্বাধীন মতকে নিপীড়নকারী এ কালো ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চাই। এই কালো আইনে সকল গ্রেপ্তারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি চাই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত সকল ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
———————————–
লেখক : আহমেদ জালাল, নির্বাহী সম্পাদক ও বার্তা প্রধান, রণাঙ্গণের মুখপত্র ‌’ দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’।

কলাম

আপনার মতামত লিখুন :

 

ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
শাহ মার্কেট (তৃতীয় তলা),
৩৫ হেমায়েত উদ্দিন (গির্জা মহল্লা) সড়ক, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: ০৪৩১-৬৪৮০৭, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  শীঘ্রই চালু হচ্ছে বরিশাল-ভোলা-হাতিয়া-চট্টগ্রাম উপকূলীয় যাত্রীবাহী স্টিমার সার্ভিস  বাবুগঞ্জের ৪ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন যারা...  মর্মান্তিক: করোনায় স্বামীর মৃত্যুর কিছুক্ষণ পরে চলে গেলেন স্ত্রীও  পটুয়াখালীতে নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতায় আহত ১২  চরফ্যাসনে নির্বাচনী সহিংসতায় যুবককে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন  তজুমদ্দিনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের আলোচনা সভা  গৌরনদীতে দু’জন নিহতের ঘটনায় দুটি মামলা, গ্রেপ্তার ৩  নৌবন্দরের পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যুবক নিহত  করোনাভাইরাস আক্রান্তে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৬ জনের মৃত্যু  রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার