১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

সেই কার্গোর সন্ধান মেলেনি, উদ্ধার অভিযানের সিদ্ধান্ত আজ

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:১৫ পূর্বাহ্ণ, ২৩ এপ্রিল ২০১৭

বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রী পরিবহনকারী দ্রুতগামী জলযান এমভি গ্রীন লাইন-২ (ওয়াটার ওয়েজ) এর সঙ্গে সংঘর্ষে ডুবে যাওয়া পাথর বোঝাই কার্গোর সন্ধান মেলেনি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল অঞ্চলের উদ্ধার যান ‘নির্ভীক’ নিয়ে উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান চালাতে পারেনি।তবে এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)’র বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, আবহাওয়া খুব খারাপ হওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান শুরু করা যাচ্ছে না। আর কার্গোটি কোথায় তাও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। নদী উত্তাল থাকায় ডুবুরিরাও নদীতে নামতে পারছেন না। তা ছাড়া ডুবে যাওয়া কার্গোটি পাথর ভর্তি থাকায় সেটি খুব ভারী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকারী যান ‘নির্ভীক’ সেটি উদ্ধারে সক্ষম হবে কিনা সে বিষয়ে কাল আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, তলা ফেটে যাওয়া এম ভি গ্রীন লাইনের সামনের অংশ চরে উঠে থাকায় এর পেছনের অংশের প্রায় পুরোটাই পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ঝুলে রয়েছে। তবে এটি পুরোপুরি নিমজ্জিত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।’

গতকাল শনিবার (২২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া এলাকা সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। কার্গোটি ঢাকা থেকে বরিশালের দিকে আসছিল। অপরদিকে বিকেল ৩টায় যাত্রী নিয়ে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল এমভি গ্রীন লাইন-২। এটি চরবাড়িয়ার ভাঙন কবলিত এলাকা পার হওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা কার্গোটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে কার্গোটি সাথে সাথে ডুবে যায়। সংঘর্ষে গ্রীন লাইনের সামনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও তলা ফেটে যায়। তলা ফেটে পানি উঠতে থাকলে ভেতরে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন। একপর্যায়ে জলযানটি চরবাড়িয়া এলাকায় ভিড়িয়ে যাত্রীদের নদীর তীরে নামিয়ে দেয়। তবে তলা ফেটে যাওয়ায় জলযানটি ক্রমশই ডুবে যেতে থাকে।

এমভি গ্রীন লাইনের পরামর্শক (প্রশাসন) শামসুল আরেফিন রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই এলাকাটি বিপজ্জনক হওয়ায় সব সময়ই জায়গাটি পার হওয়ার সময় জাহাজের গতি কম থাকে। আজও কম গতিতে ওই এলাকা অতিক্রম করছিল তাদের জাহাজ। পাথর বোঝাই কার্গোটিকে দূর থেকেই আমাদের জাহাজের মাস্টার মাইকে বারবার সতর্ক করে।

কিন্তু কার্গোটির চালক তা উপেক্ষা করায় সংঘর্ষ হয়।’ শামসুল আরেফিন আরও বলেন, ‘শত্র“তাবশত ও পরিকল্পিতভাবে এমনটা করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। গ্রীন লাইনের পেট বরাবর আঘাতটি লাগলে জানমালের অনেক ক্ষতি হতো। এখন জাহাজ ও ইঞ্জিনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও যাত্রীদের কোনো ক্ষতি হয়নি।’

11 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন