১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

সৈয়দ শামসুল হক অন্তিম শয়ানে

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৭:২২ অপরাহ্ণ, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬

চিরঘুমে শায়িত হলেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তিনটি জানাজা শেষে বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে মাটির ঘরে শয়ান নেন তিনি। এর আগে বিকাল ৪টা ২২ মিনিটে ওই কলেজ মাঠে কুড়িগ্রামে তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় তার পরিবার স্বজন, আত্মীয়সহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। এর আগে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে দুপুর ৩টা ৫১ মিনিটে কবির মরদেহ কুড়িগ্রামে পৌঁছায়। মরদেহ নিয়ে কবির পরিবার সদস্যদের সঙ্গে কুড়িগ্রামে যান সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক এমপিসহ সংস্কৃতিজনরা।

 

সেখানে কবির মরদেহ গ্রহণ করেন কবির ছোটভাই অ্যাডভোকেট সৈয়দ আজিজুল হক, জেলা প্রশাসক খান মো.নুরুল আমিন, পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহ, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.জাফর আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মণ্ডলসহ অন্য নেতারা। এরপর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কবির মরদেহ রাখা হয় কলেজ মাঠের পশ্চিম প্রান্তে নব নির্মিত মঞ্চে।

 

সেখানে কবিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা কর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কবিকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। মাঠের উত্তর দিকে জেলা প্রশাসন ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের  উদ্যোগে রাখা হয়েছে শোক বই। সর্বস্তরের মানুষ তাতে কবির প্রতি তাদের ভালবাসা সিক্ত মন্তব্য লিখছেন। পরে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে কবির তৃতীয় ও সর্বশেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এরপর  কলেজের মূল গেটের দক্ষিণে নির্ধারিত জায়গায় তাকে দাফন করা হয়। কবরের এ জায়গাটি কবি নিজেই নির্ধারণ করে গেছেন। কবির পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকন বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, গতবছর একবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে এবং পরে আরও একবার কুড়িগ্রামে এসে মৃত্যুর পর এখানেই শায়িত হবেন বলে ইচ্ছা প্রকাশ করে গেছেন কবি।

 

 

সে অনুযায়ী কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ প্রাঙ্গনে কবরের স্থানও নির্বাচন করে গেছেন তিনি। সেসময় তার ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে তাঁর সমাধি নির্মাণের ব্যাপারে একটি রেজুলেশনও পাস করা হয় যাতে কবি নিজেই স্বাক্ষর করে গেছেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ী কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের মূল প্রবেশ গেটের দক্ষিণ পাশে তাঁর কবরের স্থান নির্বাচন করা হয়। মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ২৬ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈয়দ শামসুল হক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি।

 

বুধবার সকাল ১০ টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই অফিস চত্বরে, পৌনে ১১টায় বাংলা একাডেমি চত্বর ও বাদ যোহর  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে তাঁর তিনটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও বেলা সোয়া ১১টায় সৈয়দ শামসুল হকের মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদসহ সর্বস্তরের মানুষ তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। শহীদ মিনারে রাখা শোকবইয়ে মন্তব্য লেখেন বিশিষ্টজনসহ অনেকেই। সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কবিতা, উপন্যাস, নাটক,ছোটগল্প তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন সব্যসাচী।

 

১৯৬৪ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান সৈয়দ শামসুল হক। ১৯৫০-এর দশকে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’। পরে ‘খেলারাম খেলে যা’, ‘নিষিদ্ধ লোবান’, ‘সীমানা ছাড়িয়ে’, ‘নীল দংশন’, ‘বারো দিনের জীবন’, ‘তুমি সেই তরবারী’, ‘কয়েকটি মানুষের সোনালী যৌবন’, ‘নির্বাসিতা’র মতো বিখ্যাত উপন্যাস উপহার দিয়েছেন। তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘একদা এক রাজ্যে’, ‘বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা’, ‘পরানের গহীন ভিতর’, ‘অপর পুরুষ’, ‘অগ্নি ও জলের কবিতা’। ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘নুরুলদীনের সারা জীবন’ সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত কাব্যনাট্য।’

33 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন