১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

স্কুলছাত্রীর ইজ্জতের দাম ৩০ হাজার টাকা!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:৩৬ অপরাহ্ণ, ১০ ডিসেম্বর ২০১৬

বরিশাল: বরিশালে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে নির্যাতনের আট দিন শেষে ফিরিয়ে আনার পর শালিস বিচারের মাধ্যমে দফারফার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে- এ ধরনের ঘটনায় শালিস বিচারের কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ওই কিশোরীকে পুলিশী হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’

অপহৃতার পরিবার জানায়, শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) থেকে নগরীর আলেকান্দাস্থ ইউসেফ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার মা মঞ্জুরা বেগম মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানায় নিখোঁজের দুই দিন পর রোববার একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। শেষ শুক্রবার রাতে মাদারীপুর থেকে ওই কিশোরীকে ফিরিয়ে আনা হয়।

স্কুলছাত্রী নগরীর ২২নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া এলাকার চা’ দোকানি মনির হোসেনের মেয়ে।

অপহৃতার মা মঞ্জুরা বেগম বলেন- নগরীর ২২নম্বর ওয়ার্ড কাজীপাড়াস্থ আনিসুর রহমান দুলালের বাসায় ভাড়া থাকেন তারা। তাদের বাসার পাশে অর্থাৎ সামনে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আ.ন.ম সাইফুল ইসলাম আজিমের মালিকানাধীন টোটাল গ্যাসের ডিপোর গাড়ি চালাতো মহসিন নামের এক যুবক। ওই যুবক তার মেয়েকে অপহরণ করেন বলে তার দাবি।’

এ বিষয়ে অপহৃতা কিশোরীর সাথে কথা বললে সে জানায়- শুক্রবার রাস্তায় বের হওয়ার পর ড্রাইভার মহসিন তাকে আচার খেতে দিলে সে হঠাৎ করে অচেতন হয়ে পরে এবং তাকে মহসিন মাদারীপুরে তার বোনের বাড়িতে নিয়ে যায়।’

বোনের বাড়িতে নিয়ে মহসিন তাকে নির্যাতন করে বলেও অভিযোগ করে ওই কিশোরী। পরে মহসিনের স্ত্রী সালমা শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশালে তন্নীকে নিজ বাসায় দিয়ে যায়।

বিষয়টি নিয়ে কিশোরীর বাবা মনির হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি সাংবাদিকদের জানান, শনিবার বেলা ১১টায় বিষয়টি মিমাংসার জন্য বসা হয়। সেখানে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মিমাংসার কথা বলেন ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আ.ন.ম সাইফুল ইসলাম আজিম, ফেরদৌস ও মিজানুর রহমান।’

স্থানীয় বাসিন্দা ফয়েজ খান শান্ত বলেন- টোটাল গ্যাসের ডিপোতে বসে তারা শালীসি করে দেয়। সেখানে মেয়ের বাবাই ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। তবে শেষ মেষ ৩০ হাজার টাকায় গিয়ে বিষয়টি মিমাংসা হয় এবং ১’শত টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে ওই কিশোরীর বাবা এবং অভিযুক্ত মহসিন স্বাক্ষর করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।

এ বিষয়ে অবৈধ এবং স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে শালীসি করিয়ে দেওয়া সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আ.ন.ম সাইফুল ইসলাম আজিম বলেন, বিষয়টি পুরোই ভিত্তিহীন। এরকম অভিযোগ আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা। আমি কোন শালিসীতে ছিলাম না। নিজের খেয়ে পরের বনের মেষ তাড়াবার সময় আমার নেই।

শালিসীতে উপস্থিত মিজানুর রহমান মিজান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন- মেয়ে পক্ষ বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই রাজি হয়ে গেছে। আমরা অরও কিছু করতে পারতাম তবে ওই যুবকের আগেও একাধিক বিয়ে এবং বর্তমান সংসারে ৭ বছরের একটি বাচ্চাও আছে। তাই শালীসিতে এই সিদ্ধান্ত নেয় সবাই।’

বরিশাল জেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা রাশিদা বেগম বলেন, তারা এ ব্যাপারে ভিকটিমকে কোন আইনী সহায়তা দিতে পারবেন না অর্থাৎ তাদের কোন এখতিয়ার নেই। তারা মেয়েটাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে ৬ মাস পর্যন্ত রেখে হাতের কাজ শিখিয়ে স্বাবলম্বী করতে পারবেন। এমনকি কিছু টাকা দিয়ে আয়ের জন্য তাকে একটি সেলাই মেশিনও কিনে দিত পারব আমরা।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার ( সাউথ) গোলাম রউফ বলেন, এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরী হয়েছিল। কিন্ত আমি শুনেছি বিষয়টি নিয়ে শালীসি হয়েছে। কিন্তু এসব কেসে স্থানীয় শালীসির কোন সুযোগ নেই। যা করতে হবে আইনের আশ্রয়ে এসে করতে হবে, অর্থাৎ এই শালিসী যারা করেছে তাদেরও আইনের আওয়াতায় আনা হবে এবং কিশোরীকে অপহরণ ও নির্যাতন করে আট দিন রাখার কারনে অভিযুক্তদের ধরতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। এছাড়া ওই কিশোরীকে পুলিশী হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আর এখানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ওই কিশোরী বিচার দাবি করবে কেন? সে এমনিতেই বিচার পাবে।

25 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন