১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

সড়ক পরিবহন আইনের প্রতিবাদে বাস চলাচল বন্ধ ৬ জেলায়

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

বার্তা পরিবেশক, অনলাইন ::  নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলায় বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। আকস্মিক এ শ্রমিকদের এ ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকাল থেকে খুলনা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরায় বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আগের দিন রোববার (১৭ নভেম্বর) থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে যশোরে।

বাংলানিউজের সিনিয়র, স্টাফ ও ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্টদের পাঠানো খবর:

খুলনা: নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে সকাল থেকে খুলনা থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকরা।

পরিবহন শ্রমিক নেতারা বলছেন, দুর্ঘটনার মামলা জামিনযোগ্যসহ সড়ক আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন চান চালকরা। তাদের দাবি, আইন সংশোধনের পরই এটি কার্যকর করা হোক। এটা না করা পর্যন্ত তাদের এ কর্মসূচি চলবে।

তারা বলেন, সরকারের বিভিন্ন দফতরে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও আইনটি সংশোধন ছাড়াই বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে খুলনায় সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ২১ ও ২২ নভেম্বর শ্রমিক ফেডারেশন বর্ধিত সভা ডেকেছে। ওই সভার এজেন্ডাগুলোর মধ্যে এক নম্বরে আছে সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

এদিকে, খুলনা থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় হাজারো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।

খুলনা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বেবী বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের প্রতিবাদে শ্রমিকরা বাস চালাচ্ছেন না। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন।

তিনি আরও বলেন, কোনো কারণে দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে নতুন আইনে চালকদের মৃত্যুদণ্ড এবং আহত হলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। আমাদের এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই এবং বাস চালিয়ে আমরা জেলখানায় যেতে চাই না। বাংলাদেশে এমন কোনো চালক নেই যে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিতে পারবেন। কারণ একজন চালকের বেতন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এ বাজারে যা দিয়ে সংসার চালানো, ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালানো দায়। সেখানে এত জরিমানা কি করে দেওয়া যাবে। এ কারণেই নতুন পরিবহন আইন সংস্কারের দাবি জানান শ্রমিকরা। নইলে তারা বাস চালাবেন না।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সড়কে অবৈধ নসিমন-করিমন চলে তাদের কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে। এসব যানবাহন বন্ধ ও চালকদের জরিমানা করা হয় না। সব জেল-জরিমানা হয় বাস চালকদের।

খুলনা জেলা বাস মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন সোনা বলেন, শ্রমিকরা ফাঁসি ও যাবজ্জীবন দণ্ডের ভয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিচ্ছে। আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই তারা এসব করছে।

এদিকে, ভোরে ঈগল পরিবহনসহ বেশ কয়েকটি পরিবহনের বাস মহানগরীর রয়্যাল কাউন্টার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে সকাল ৯টার পর থেকে সব বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সাতক্ষীরা: জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

তারা চান, আগে আইনটি সংশোধন করে বাস্তবায়ন করা হোক।

8 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন