৭ মিনিট আগের আপডেট রাত ১:৪৩ ; মঙ্গলবার ; আগস্ট ৯, ২০২২
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

হাসপাতালে ওষুধ সঙ্কট, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
৬:৫১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৭

পটুয়াখালীর হাসপাতালগুলো নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু দিয়ে ভরপুর। তবে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেই কোনো ওষুধ। ফলে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের চিকিৎসা সেবা।

শিশু জন্মের পর সব থেকে বেশি যে রোগে আক্রান্ত হয় তা হচ্ছে নিউমোনিয়া। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ১৮ শতাংশ শিশু মারা যায় নিউমোনিয়ায়। কিন্তু জেলা শহরগুলোতে শিশুদের এই রোগ প্রতিরোধে নেই পর্যাপ্ত ওষুধসহ প্রয়োজনীয় অবকামোগত সুবিধা। ফলে অনেক সময় চিকিৎসা না নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত রোগে অনেক শিশুকে।

সাম্প্রতিক সময়ে পটুয়াখালী জেলায় হঠাৎ করেই নিউমোনিয়াসহ ফুসফুসের বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে- হাসপাতালে শিশুদের জন্য ৯৮টি বেড থাকলে বর্তমানে ৩৩৬ জন শিশু ভর্তি আছে। আর হাসপাতালের মোট রোগীর সংখ্যা ৬১৬ জন। চিকিৎসকের ৫৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২২ জন। আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পদ খালি আছে দীর্ঘ ১৫ বছরেরও অধীক সময় ধরে। ফলে শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন এখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা। এতে চিকিৎসা না নিয়েই অনেক শিশুর অভিভাবককে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

এ কারণে নিউমোনিয়া প্রতিরোধে মায়েদের সচেতনা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

গত ৫ নভেম্বর পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে- হাসপাতালে শিশু বিভাগের প্রতিটি বিছানায় দুই থেকে তিনজন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। আর হাসপাতালের মেঝে থেকে শুরু করে করিডোর কোথাও যেন পা ফেলার জায়গা নেই। এক একটি নেবুলাইজারের পাশে মায়েদেরে লম্বা সারি। তবে সরকারিভাবে নেই নেবুলাইজারে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয় ওষুধ।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের নার্স ইনচার্জ আকলিমা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ওষুধ তো দূরের কথা একটি সিরিঞ্জেরও সরবরাহ নেই। ফলে অনেক গরীব রোগীর পক্ষে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়না।

তবে আরও বেহাল অবস্থা হাসপাতালের বহিঃবিভাগের চিকিৎসা সেবার। সাব অ্যাসিট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) দিয়ে চলছে বহিঃবিভাগের শিশুদের চিকিৎসা সেবা। যারা চিকিৎসা দেয়ার কথা কমিউনিটি ক্লিনিক কিংবা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মানের সেবা কেন্দ্রে।

তবে জেলা শহরে মেডিকেল কলেজ মানের একটি হাসপাতালে এই মানের স্বাস্থ্য সহকারীদের দিয়ে রোগী দেখানোর ফলে শিশুরা মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক ডা. সিদ্ধার্থ সঙ্কর দাস সাংবাদিকদের বলেন, শিশু জন্মের পর সব থেকে বেশি যে রোগে আক্রান্ত হয় তা হচ্ছে নিউমোনিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে পটুয়াখালী জেলায় হঠাৎ করেই নিউমোনিয়াসহ ফুসফুসের বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

ফলে শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা। এ কারণে নিউমোনিয়া প্রতিরোধে মায়েদের সচেতনা বাড়াতে হবে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.আব্দুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতি দিন এখানে ৬০০ এর অধিক রোগী ভর্তি থাকছে। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওষুধ শেষ হয়ে যায়। এ বছর ওষুধ ক্রয়ের জন্য ইতোমধ্যে আমরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

তবে হাসপাতালে চিকিৎসকদের অধিকাংশ পদ খালি থাকায় চিকিৎসা দিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এরপরেও আমরা সর্বোত্তম সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি।’’

খবর বিজ্ঞপ্তি, পটুয়াখালি

 

আপনার মতামত লিখুন :

 
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  সাগরে নিম্নচাপ: উপকূলে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা  রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই দোয়া পড়বেন  বিএনপির ওপর কোনো অত্যাচার করা হয় নাই: তোফায়েল আহমেদ  রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া ২ লাখ টাকা ব্যবসায়ীকে বুঝিয়ে দিলেন দিনমজুর  সাংবাদিকের ওপর হামলা: পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত: গ্রেপ্তার ৩  কখনও ডিবি পুলিশ আবার কখনও সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি  পটুয়াখালী/ গভীর সাগরে ট্রলারডুবি: ২ জেলেসহ নিখোঁজ ৮ ট্রলার  সন্ধ্যানদীতে নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার  ঝালকাঠিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা: স্বামী আটক  ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী থেকে গলিত লাশ উদ্ধার