১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

হিরনের সেইসব কাপুরুষ সন্তানেরা…

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ, ২৪ মার্চ ২০১৭

বরিশালে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা শওকত হোসেন হিরন নি:সন্দেহে একজন উন্নয়নশীল নেতা ছিলেন। তার চলে যাওয়ায় বরিশালবাসী মর্মাহত-ব্যাথিত এবং এমন একজন লোক হারিয়েছে যাকে ছাড়া নগরীর ডায়নামিক উন্নয়ন সম্ভব না। রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি পরিবর্তন এনেছিলেন সাম্যতার ভিত্তিতে।

তার উন্নয়ন চিন্তা এবং রাজনৈতিক পূর্ণগঠন সুখকর ছিল। কিন্তু তার আশেপাশে থেকে যে সমস্থ ছাত্র নেতা মতান্তরে ছাত্র নেতা রুপে গুন্ডা বেড়ে উঠেছিল তাদের মাধ্যমে বরিশাল হয়েছিল কলংকিত। এই কলঙ্কের দাগ আবারও লাগলো। চলতি মাসে অভিভাবক সমাবেশে সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ শচীন রায়কে অবরুদ্ধ করে রাখেন হিরন অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল ইসলাম বাপ্পি ও তার পাণ্ডারা। ঠিক একই ভাবে ২০১৬ সালের ২ মার্চ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ভাউচার দেখিয়ে এই বাপ্পি’রা লাঞ্ছিত করেছিল অধ্যক্ষকে।

যদিও এ বছর গ্রেফতার হয়েছেন ছাত্রত্বহীন ছাত্রনেতা বাপ্পি ও তার তিন সহযোগী। কিন্তু এর আগের ঘটনায় এমনটা হতে হয়নি তাদের। যে কারনে হাতেম আলী কলেজে অধ্যক্ষকে থাকতে হতো অপরাধীর মত আর অপরাধী বাপ্পী বাহিনী থাকতো অধ্যক্ষের ভূমিকায়। এমনটা কেন হবে? উত্তর খুঁজতে বেশি দূর যেতে হবে না। শ্রেফ হাতেম আলী কলেজ থেকে এক কিলোমিটার উত্তরে অর্থাৎ বিএম কলেজের একটি ঘটনার দিকে তাকালেই হয়।

২০১৩ সালের ১২ ফেব্র“য়ারী নতুন বাজারস্থ পেট্রোল পাম্প এলাকায় সাবেক অধ্যক্ষ শংকর চন্দ্র দত্তকে মিডিয়া ট্রাইলে লাঞ্ছিত নয় বরংছ মারধর করেছিল বিএম কলেজ ভিত্তিক হিরন অনুসারী ছাত্রলীগের গুন্ডারা। আমার জীবনের অভিশপ্ত দিন হচ্ছে এমন যে ঐ ঘটনা একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে দেখতে হয়েছে। এও দেখতে হয়েছে যারা অধ্যক্ষকে মারধর করেছিল তারাই বিকেলে সদর রোডে একাত্তরের মঞ্চের কর্মসূচীতে তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরনের ডানে-বায়ে বসে মান্যবরের মত শ্লোগান দিচ্ছিল।

এমনকি ২০১১ সালের ১০ ফেব্র“য়ারী অধ্যক্ষ ড. ননী গোপল দাসকে লাঞ্ছিত করেছিল এরাই। এসবের বিচার কি হয়েছিল? না। হয়নি। যদিও মিডিয়ায় ব্যাপক লেখালেখির কারনে ২০১৩ সালের ঘটনায় পাসপোর্ট সোহাগ, সোহেল, মিরাজ ও জহিরুলকে শওকত হোসেন হিরন পুলিশের হাতে ন্যাস্থ করেছিলেন। যা ছিল আইওয়াশ মাত্র। কারণ ঘটনার মূল নায়কেরা থেকে গিয়েছিল ধরাছোয়ার বাইরে। তার মধ্যে একজন জোবায়ের আলম। যাকে সবাই দেখেছিল অধ্যক্ষকে লাথি মারতে। সেই জোবায়ের এখন হিরন অনুসারীতা ছেড়ে সাদিক আব্দুল্লাহর দলে ভিড়েছেন। লম্বা লম্বা শ্লোগান দেন। কিন্তু অধ্যক্ষকে লাথি মেরে যে পাপ করেছিলেন তার প্রাশ্চিত্ত কি কেউ করিয়েছে? এখানের নীতিটাই এমন দাড়িয়েছে যে স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়াই বরিশালের রাজনীতি।

যে কথা বলতে ছিলাম, রাজনীতি সবসময়ে জনমুখী হবার কথা। সেই রাজনীতি যদি হয় জনগণের আতঙ্ক তাহলে নিরিহ মানুষগুলো কোথায় যাবে? কার কাছে বিচার দিবে? এক পেয়ালা দুধের মধ্যে এক ফোটা গো-মুত্র ফেলে দিলে যেমন পুরো পেয়ালার দুধই নষ্ট হয়ে যায়। তেমনি একজন শওকত হোসেন হিরনকে ধবংস করতে বাপ্পি-জুবায়ের-পাসপোর্ট সোহাগের মত হাতেগোনা কয়েকজন রাজনৈতিক কুলঙ্গার রেখে যাওয়াই যথেষ্ট। বাপ্পী সর্বশেষ ঘটনাটি এ কারনে ঘটানোর সাহস পেয়েছেন কারণ পূর্বের আলোচিত-সমালোচিত অনেক ঘটনার বিচার হয়নি। যদি প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন সদিচ্ছা পোষণ করতেন তাহলে হয়তো শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রেক্ষাপটে ভিন্ন বরিশালের অবতারনা হতো। আর বাপ্পীর মত কোন গুন্ডা শিক্ষকদের সামনে আঙ্গুল তুলতে সাহস পেত না। রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিসহ সর্বক্ষেত্রে বরিশালের অনেক অর্জন। কিন্তু যদি হিসেব করা হয় যে বরিশালের লজ্জার কি আছে? তাহলে প্রথমেই সামনে আসে হিরনের আমলে ছাত্রদের হাতে উপুর্যপরি শিক্ষকদের মারধর-লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। আমি কোন উপদেশ দিতে চাই না বা আমার উপদেশের গ্রহণযোগ্যতাও নেই।

আমি অনুরোধ রাখবো, রাজনীতিতে যারা যে আমলেই নের্তৃত্ব দিয়ে থাকুন তাদের সজাগ থাকা উচিত যেন মানুষের সার্বিক কোন অনুভূতিতে আঘাত করার মত কোন অনুচর সাহস না দেখায়। কেউ যদি সাহস দেখিয়েও থাকে তাহলে যেন শাস্থিটাও হয় কঠোর। কারণ এই ধরনের ছাত্রনেতাদের চেয়ে অশিক্ষত রিকশার মেকার ভালো। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড।

জাতির মেরুদণ্ডকে মজবুত করে গড়ে তোলেন শিক্ষক। কিন্তু শিক্ষকের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেবার জন্য যেসব ছাত্রনেতা কাজ করে এবং যেসব নেতারা তাদের প্রশ্রয় দেন তাদের নেতা বলতে ঘৃণা লাগে। যেমন ঘৃণা লাগে জামায়াতকে যারা শিশুদের ভুল ইতিহাস পড়িয়ে বাংলাকে বিপথে নেবার চেষ্টা করেছিল। সর্বশেষ এ কথাই বলবো শওকত হোসেন হিরন ছিলেন গণমানুষের নেতা। তাকে নিয়ে তার মৃত্যুর পর নিন্দাত্মক আলোচনা করতে হবে তা কখনো ভাবিনি।

কিন্তু হিরনের রাজনৈতিক কুলঙ্গার পুত্ররা যখন শিক্ষকদের সামনে আঙ্গুল তুলতে সাহস দেখায় তখন হিরন কেন শত হিরনের ভুলগুলো সামনে আনতে শংকোচ হয় না। আমার বিশ্বাস শওকত হোসেন হিরনের রেখে যাওয়া এমন রাজনৈতিক গুন্ডাদের মাথাচরা দিয়ে ওঠার আগে নিঃশ্চিহ্ন করতে হবে। একই সাথে সজাগ থাকতে হবে যেন আর কোন গুন্ডা ছাত্র নেতা জন্ম না হয় যারা শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার সাহস পায়।
লেখক: কবি ও সাংবাদিক

56 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন