৮ ঘণ্টা আগের আপডেট সকাল ৬:৪২ ; শনিবার ; মে ২১, ২০২২
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

১৯টি কবিতা ॥ লতিফ জোয়ার্দার

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
১:১৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০১৬

প্রেম ও প্রণয়ের ভাষা

যদি বলি বেদনার তীর্থভূমির নাম তুমি
যদি বলি সকল শূন্যতার নাম ভালোবাসা
বিভাজিত অশ্রুবারিতে ভিজে ভিজে একা
বুঝে গেছি আজ প্রেম ও প্রণয়ের ভাষা।
অবুঝ দুঃখ বুঝে না হৃদয়ের বিশালত্ব
সুগন্ধি স্বপ্নগুলো উড়ে আসে রোজ রোজ
যদি বলি অন্তর্বতী আর কিছু নেই তুমি ছাড়া
সব রহস্য দূরে রেখে করি তোমারই খোঁজ

 

বৃষ্টি

আমি যখন একটা হাত তোমার দিকে প্রসারিত করেছিলাম
সেই হাত ছুঁয়ে দিলে তুমি। আরো কিছু সময় আমি তাকিয়ে
থাকলাম তোমার দিকে। অতঃপর পা বাড়ালাম আমি। তুমি
আমার পা ভিজিয়ে দিলে। এবার আকাশের দিকে তাকালাম
তুমি আমার চুল থেকে চোখ, চোখ থেকে পুরো দেহ ভিজিয়ে
দিলে। আমার সব যন্ত্রণা তোমার কাছে রেখে ফিরে এলাম
আমি। জানালার পর্দা সরিয়ে তোমার রূপে মুগ্ধ হলাম। এই
যে তোমার থেকে আমার যে প্রিয় বন্ধন রচনা হলো আজরাতে
বৃষ্টি তোমার ভালবাসায় সিক্ত হয়ে থাকবো তোমার সাথে।

 

লাশ

যার কাছে আমার নেটওর্য়াক নেই তার হৃদয়ে আমি থাকি
নিস্তব্ধতার ভিতর তাকে দেখি সেকি দৃশ্যমান নাকি ফাঁকি
রাত্রী গভীর জোনাকজ্বলা চারিপাশে মুগ্ধতার সব আল্পনা
ধরো একদিন ছিলাম পাশাপাশি এখন কেবলি সব কল্পনা
জানি তোমাতে আমাতে বিস্তর ব্যবধান পাইনা কোন মিল
শুষ্ক এ বুকে তৃষ্ণা ছিলে তুমি প্রশান্তি যেন আমার অনাবিল
এখন আড়াল এখন জঞ্জাল এখন আমি এক দিকভ্রান্ত পথিক
দিব্যি দিয়ে বলতে পারিনি কেন আমারে বলবে তুমি নির্ভিক
মাটির সোদা গন্ধে ভরা আমার পূর্ব পুরুষের যত ইতিহাস
বেঁচে আছি আকাশের মত কেন আজো আমারে ভাবো লাশ

 

এক মুগ্ধতার রাত্রীতে ফিরে যাই

তোমাতে আমাতে মিল খুঁজে পাইনা কোন অমিলগুলো দৃশ্যমান হয় না বলে
তুমি যখন নিস্তব্ধতার ভিতর আড়াল করো ভুল, হৃদয় বৃক্ষে ঝরে পড়ে সুগন্ধি বকুল
কোন এক মুগ্ধতার রাত্রীতে ফিরে যাই বিভক্ত মনের কাছে
গন্তব্য এক হয়নি জেনে আর কোন আশ্রয় খুঁজিনি উদীপ্ত শরীরের কাছে
কোন অনুভবের কাছে পরাজয় স্বীকার করিনি, জড়াজীর্ণ পদভারে হারিয়ে যাইনি
বিপন্ন এই আমি। তোমার অনুকম্পা ভেবে স্বপ্নের ভিতর ছড়িয়ে দিয়েছি ভোর
কোন এক আগুন রোতে। মাদকতায় রঙিন স্পর্শে দীপ্তমান স্মৃতির কোলাহল
অভিন্ন উচ্চারণ ছিলো একদিন ভালোবাসি, একাকিত্বের বেদনার ভিতর
ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছি বিশ্বাস। অস্থির সময়ের কাছে অনুগামী সন্তানের মত
এই ফিরে আসা। আবার রক্তক্ষরণের দেশে, অস্পষ্টতায় সন্ধ্যার আড্ডায় ভারাক্রান্ত মনে

 

অন্ধকারের মুখ

একদিন বিনিময়ে তোমাকেও দিতে হবে ওষ্ঠের যাদু ধরো এভাবেই
প্রেম আলিঙ্গনের উত্তাপে পুড়েছি কতটা কাল। কিছুতেই হাসতে
পারি না আর। দুঃখ পাহাড় গুলো একাকী দাঁড়িয়ে থাকে মাথা তুলে
মনে করো আকাশের সব আলো নিভে গেছে আজ। পড়ন্ত বিকেলের
ঘোর মুছে গেছে কিছটা সময় আগে। এখন চারিদিকে অন্ধকারের মুখ!
সেই কবে যাত্রা শুরু হয়েছিলো,অতঃপর একদিন খড়িমাটিতে এঁকেছিলে
আমার ভবিষ্যত্ব। অনিবার্য ভাবে একদিন এভাবেই পৌঁছে যাবো তোমার
কাছে। শেষতম প্রেমিক আমি বৃষ্টিগন্ধা হয়েছিলাম সব ক্লান্তি শেষে।
উড়িয়ে দিয়েছিলাম সজ্জিত ভোর ফসলের মাঠে মাঠে। বাতাসের মর্মরে

 

অতঃপর

রিতিমত মুগ্ধ আমি একবারও পলক পড়েনি এই চোখের
চোখের কী দোষ দেই বলুন ! এ গল্প তো নয় অন্ধ লোকের
পাশাপাশি থাকলে বসে হয়তো ভালোই হতো আজ আমার
শরীরের গন্ধ ঢেকে পারফিউম ছিলো তোমাতে নিরাকার
অতঃপর কত অভিমান চারিপাশে মনে হলো যুদ্ধরত সৈনিক
কী করে বলবো আমি নই কবি নই কোন বিশারদ গানিতিক
বিষয়টা বুঝে সে নতুন করে আবার ক্লান্তির ভিতরে হারালো
যে আমার সামনে ছিলো এতক্ষণ সে প্রেম নয় জাগতিক আলো

 

রাতের ভূগোল

হাত বাড়ালেই ফিরে আসো ম্লান সন্ধ্যার মত
হয়তো কিছু সময় পরে ফিরে যাবে অন্ধকারে
রাতের ভূগোল আগলে রাখো বন্ধনীর ভিতর
বিচলিত হয়নি আজো বুকে নিয়ে নির্জনতারে
যে রাত্রী খুন হয় নিজে শাড়ি তার বাতাসে উড়ে
তার কথা ভেবে ঘুমের ভিতরে ডুবেছিলে কবে
নিজেকে আড়াল করে চুপেসারে থাকো কিছুদিন
মনে হবে আমারই ছিলে অথচ আমাকেই হারালে

 

এক মুগ্ধতার রাত্রীতে ফিরে যাই

তোমাতে আমাতে মিল খুঁজে পাইনা কোন অমিলগুলো দৃশ্যমান হয় না বলে
তুমি যখন নিস্তব্ধতার ভিতর আড়াল করো ভুল, হৃদয় বৃক্ষে ঝরে পড়ে সুগন্ধি বকুল
কোন এক মুগ্ধতার রাত্রীতে ফিরে যাই বিভক্ত মনের কাছে
গন্তব্য এক হয়নি জেনে আর কোন আশ্রয় খুঁজিনি উদীপ্ত শরীরের কাছে
কোন অনুভবের কাছে পরাজয় স্বীকার করিনি, জড়াজীর্ণ পদভারে হারিয়ে যাইনি
বিপন্ন এই আমি। তোমার অনুকম্পা ভেবে স্বপ্নের ভিতর ছড়িয়ে দিয়েছি ভোর
কোন এক আগুন রাতে। মাদকতায় রঙিন স্পর্শে দীপ্তমান স্মৃতির কোলাহল
অভিন্ন উচ্চারণ ছিলো একদিন ভালোবাসি, একাকিত্বের বেদনার ভিতর
ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছি বিশ্বাস। অস্থির সময়ের কাছে অনুগামী সন্তানের মত
এই ফিরে আসা। আবার রক্তক্ষরণের দেশে, অস্পষ্টতায় সন্ধ্যার আড্ডায় ভারাক্রান্ত মনে

 

যেতে হবে রাত্রীগন্ধার কাছে

জলে কাপড় ভিজবে বলে দাঁড়িয়ে আছো কাঁদামাখা পথে
ডানাহীন পাখি বলে উড়তে পারো না তুমি অথচ তোমার
মন উড়ে বেড়ায়। ধানক্ষেত মাড়িয়ে যাও তেপান্তরের ওপারে
ঘোমটাপড়া বউ তো তুমি নও। তোমাকে যেতে হবে দূরে
তুমি তো আগামীকাল জানো না। দিনশেষে গোধূলি লগ্নের
কথা বলতে পারো না। কেবল আকাশে মেঘ দেখলে বৃষ্টির
সম্ভাবনার কথা বলো। তুমি তো আবহাওয়াবিদ নও। তুমি
তো বলতে পারো না! ঝড়ো হাওয়ার কথা। জেলেদের ঘরে
ফেরার কথা। কেবল জানো জেলে বউয়ের উৎকণ্ঠার কথা
একদিন রেড়িও ছিলো। সমুদ্রের কথা শুনতো সে কান পেতে
মাছদের কথা। বাতাসের কথা। জাল আর ট্রলারের কথা
শ্রাবণের এই সন্ধ্যায় ধরো নিতান্ত বাধ্য হয়েছ তুমি। রাতের
নামতে পড়তে হবে তোমায়। জোনাকির নতুন প্রজন্মের কাছে
যেতে হবে। যেতে হবে রাত্রীগন্ধার কাছে চুপি চুপি একা…

 

 

ঈশ্বরের চাবুক

বাহিরে শ্বেতশুভ্র সৌন্দর্যে ভেজা ঘাসের মত আর ভিতরে প্রজ্বলিত আগুন
নেশায় ঢুলু চোখে সুবাসিত কদমের বিভাজিত স্বপ্নের রহস্যময়ী পদযাত্রায়
একটা ভোর এসে এলোচুলে দাঁড়িয়ে আছে অন্তহীন স্মৃতির কণায় কণায়
মিশে একাকার হবার জন্যে। ছায়ার প্রাচীরের সাথে লেপ্টে আছি কতদিন
মনে হয় বিনম্র বিশ্বাস আর বিস্মৃতির আর্দ্র মুহূর্তে আশ্রয় প্রার্থনা করি তোমার
কাছে। পরিত্যাক্ত ট্রেন লাইনের মত কল্পনার স্রোতে ভেসে আমার এই উন্মত্ততা
যে তৃষ্ণায় বুকের ভূমিতে ঈশ্বরের চাবুক এসে পড়ে। সেখানে গাঢ় গভীর অন্ধকার
প্রতিদিন যন্ত্রণার তীব্র আঘাত আর প্রতিদিন আহত কান্নার ধ্বনিতে জেগে উঠা

 

তোমাকে না দেখলে

তোমাকে না দেখলে প্রতিদিন এই শহর ভিজে যায়
আলৌকিক যন্ত্রণায় কাতর হয় সন্ধ্যার কফি হাউজ
ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে থমকে থাকে গাড়ির বহর
শাহবাগের কবিদের আড্ডায় বিষন্নতা এসে ভিড় করে
তোমাকে না দেখলে সীমাহীন অস্থিরতায় তোলপাড় হয়
প্রতিটি দৈনিকের সাহিত্যপাতা। শব্দের সমুদ্রে বিবর্ণ অন্ধ
শূন্যতা এসে গ্রাস করে কথার মিছিল। সীমাবদ্ধ হয়
সবকিছু। তোমাকে না দেখলে ওভার পাসগুলো
হাওয়া মিলিয়ে যায়। ঘুমের ঘোরে হারায় মায়ার বন্ধন
তোমাকে না দেখলে ভালোবাসাহীন মনে হয় পুরো পৃথিবী
মধুরাতে নিমজ্জিত ভালোবাসা একাকী পালায়। এই শহর থেকে
দূরে বহুদূরে ভৌগলিক সীমানা ছেড়ে। তোমাকে না দেখলে

 

একা থাকা পাখিদের গল্প

আমাদের বাগানের পাখিরা কেউ কেউ একা থাকতেই পছন্দ করে ইদানিং
পেয়ারা গাছটায় বাসা বানিয়ে থাকতো যে দুটো শালিক। হয়তো তাদের
বিচ্ছেদ ঘন্টা ইতিপূবেই বেজেছিলো। এখন শুধু আয়োজন টুকু বাকি
ভাত ছিঁটানো উঠোনে এক সময় দেখতাম একসাথে শালিক চড়ই বুলবুলি
দল বেঁধে আসতো। এখন মাত্র একটা শালিক একলা একা আসে। ভাত পড়ে
থাকে উঠোনে। তাদের আর কারো দেখা মেলে না। টিনের চালার উপর
প্রতিদিন দুটি কবুতরকে দেখতাম নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতায় লিপ্ত থাকতে
তাদেরও আর দেখি না। বৃক্ষগুলো অবাক বিষ্ময়ে চেয়ে থাকে। তাদের নাচানাচি
তাদের একডাল থেকে আরেক ডালে ঘুরে বেড়ানো দেখে স্বর্গের কথা মনে হতো
গতকালও বিষন্ন দুটি পাখি এসে বসেছিলো মেহগনির মগডালে। ভাষাহীন
পাখি দুটির ছলছল চোখে অবিরত স্মৃতিময় ছিলো চারিপাশ। নতুন কোন স্বপ্ন
ছিলো না। একলা একা হয়ে যাওয়ার ভাবনায় ঘুমহীন রাত্রী ছিলো আর ছিলো
বিরহ বেদনার ঘোর। একলা একা থাকা পাখিদের গল্প এখন অনেকেই জানে

 

অস্তিত্ব

তোমাকে ছাড়া আজকাল সবকিছু শূন্য শূন্য লাগে, ঘর গেরস্থালীতে মন বসে না
অনাবিল মায়ায় তোমার অস্তিত্ব এসে দাঁড়িয়ে থাকে এই শুকনো বুকে। একদিন
তোমায় নিমজ্জিত হৃদয়ে সাঁতরাতে সাঁতরাতে দুর্ভাগা স্বপ্নগুলো চুপিচুপি এসে বলতো
একদিন তুমিও হারিয়ে যাবে। যেদিন আমার শরীরে লাল পিঁপড়া এসে বাসা বাঁধবে।
অতঃপর অন্তহীন তোমায় খুঁজে চলা। চোখের পাতায় আর ঘুম ছিলো না। জানালার
নীচে অন্ধকার। হাত বাড়িয়ে সামনের দিনগুলোকে মনে হতো অপার্থিব কিছু একটা।
ভালোবাসার প্রবল উচ্ছ্বাস নিয়ে আমার দীর্ঘশ্বাসগুলো হেঁটে বেড়ায় তোমার হৃদয়ে
এখন। এই যে জীবন আর এই জীবনের বাস্তবতা যাদুরখেলা ভেবে একদিন দুজনাই
বন্ধনে জড়িয়েছিলাম। হায় বন্ধন! হায় ভালোবাসা! এক মুহূর্তের চুম্বন যেন। এক মুহূর্তে
আবার ফিরে চলে যায় নিজস্ব গন্তব্যে। কোন বন্ধন তাকে ধরে কোনদিন রাখতে পারেনি।

 

রাধা

যে প্রণয় শিল্পে একদিন তুমি হয়েছিলে রাধা
সেখানে হয়তো আমিও ছিলাম। যে গোলাপ
ফুটেছিলো মলিন মৃত্তিকার বুকে। তোমার
নীলাভ দৃষ্টি তাকে অবলোকন করে মাড়িয়ে গেছে
এখন আর তোমাকে দেবার মত অবশিষ্ট কিছুই নেই
আমার। অন্তহীন পথের যাত্রী আমি।ভালোবাসা
এখন শবযাত্রার মত পালিয়ে যায় শ্বশান ঘাটে।
দুঃখের শ্বেতশুভ্র বিছানায় একলা নিঃসাড় এদেহ
মনে হয় কতদিন তোমার নক্ষত্রের আলোয়
নির্জনতায় বিরাজমান থেকেছি। আমার যত
স্বপ্নসাধ ছিলো আকাক্সক্ষা উৎকণ্ঠা ছিলো সবই
এখনো তোমার কাছে। আমি নির্গত জলের ধারা
সৌভাগ্য আমাকে স্পর্শ করেনি কোনদিন

 

পার্বতী

পার্বতীর ভালোবাসা কখনো কখনো অনুভব করি
চারিদিকে চোখ মিলে কোন এক পার্বতীকে খুঁজে বেড়াই
দেবদাস আমি তো নই ! তারপরও প্রেমিক আমি
তোমার বুকরে অধরে প্রতিদিন জন্ম দেই অন্তহীন ব্যথার সরবর
নিত্যদিন তোমাকেই পার্বতীর জায়গায় বসিয়ে অবলোকন করি
হাত বাড়িয়ে তোমার হাতে তুলেই দেই নির্জনতা
পাঠ করি তোমাকে এবাদতনামার মত। তুমি আন্দোলিত হও
একাকিত্ব মাড়িয়ে স্বপ্নের ভিতরে গড়ে তুলো নতুন আবাস

 

একাকিত্ব

তোমার একাকিত্বের ভিতর বসে থাকি আমি
এই শহর জানে কতটা নিঃসঙ্গ হলে হৃদযন্ত্র
থমকে যেতে চায়। যান্ত্রিকতার সময় কত
দ্রুত ফুরিয়ে যায়। ট্রাফিকজ্যামে আটকে থাকে
মন। সুগন্ধি মোমের পুতুলের মত বসে থাকি আমি
রহস্যময়তায় ফিরে যেতে পারি না আর তোমার
কাছে। তীব্র যন্ত্রণার আগুনে পোড়া ক্ষত চিহ্নগুলো
রক্তশূন্য করে চলেছে ধমনীকে। গভীর দুঃখগুলো
সমান্তরাল রেললাইনের মত চলে গেছে দূরের
কোন এক নগর ছুঁয়ে। যে প্রাসাদে তুমি থাকো না
সে প্রাসাদে অনেকেই থাকে। অনেকেই হাত বাড়িয়ে
বৃষ্টিকে ছুঁয়ে চলে যায়। অনেকেই পড়ে থাকে চুপিসারে
একাকিত্বে ডুবে যায়। ডুবে যায় মধ্যরাতের নক্ষত্র

 

বিনম্র দুঃখগুলো

স্মৃতির কোষগুলো থেকে মুছে ফেলো আমার নাম

একদিন বিনম্র দুঃখগুলো ঘাসফুল হয়ে ফুটবে।
আলিঙ্গনের আঁধার মেখে বুকের সাথে লেপটে দিতে
হয়তো চেয়েছিলে বুঝি! যদি ইচ্ছে হয় অনুজ্জ্বল আলোয়
রেখো মুখ। নতুন কোন এক প্রান্তর দিয়ে ভিড়ের ভিতর
নইতো বৃষ্টিস্নাত হয়ে জলের ধারায় হারাবো।
কতটা অনুভবে ছিলে। কতটা উপলব্ধিতে ছিলে
নৈসর্গিক ব্যথার চিহ্ন হয়তো দ্বিধাহীন ঠোঁটের কাছে
লুকিয়ে ছিলো। আমাকে অস্বীকার করে নুতন ঠিকানা
খুঁজে নিয়ো। সেখানে শান্তি ও স্বস্তির ঠিকানা পাবে।

 

তোমাকে না দেখলে

তোমাকে না দেখলে প্রতিদিন এই শহর ভিজে যায়
আলৌকিক যন্ত্রণায় কাতর হয় সন্ধ্যার কফি হাউজ
ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে থমকে থাকে গাড়ির বহর
শাহবাগের কবিদের আড্ডায় বিষণœতা এসে ভিড় করে
তোমাকে না দেখলে সীমাহীন অস্থিরতায় তোলপাড় হয়
প্রতিটি দৈনিকের সাহিত্যপাতা। শব্দের সমুদ্রে বিবর্ণ অন্ধ
শূন্যতা এসে গ্রাস করে কথার মিছিল। সীমাবদ্ধ হয়
সবকিছু। তোমাকে না দেখলে ওভার পাস গুলো
হাওয়া মিলিয়ে যায়। ঘুমের ঘোরে হারায় মায়ার বন্ধন
তোমাকে না দেখলে ভালোবাসাহীন মনে হয় পুরো পৃথিবী
মধুরাতে নিমজ্জ্বিত ভালোবাসা একাকী পালায়। এই শহর থেকে
দূরে বহুদূরে ভৌগলিক সীমানা ছেড়ে। তোমাকে না দেখলে

 

তোমাকে দেখলেই

তোমাকে দেখলেই আমার রাজসিক কীর্তির কথা মনে পড়ে
আমার অনুভূতিগুলো উজ্জ্বল আলোর মত জ্বলে উঠে বারংবার
হৃদয়ের অভ্যন্তরে ভাষ্কর্য হয়ে বসে থাকো। সংকলিত কবিতার মত
তোমাকে দেখলেই যথারীতি স্মৃতির নৌকায় প্রতিস্থাপন করি মধুর
আলিঙ্গন। সঙ্গোপনে অস্থির হই স্পর্শের ছোঁয়াগুলো ফিরিয়ে দেবার জন্য
স্বপ্নের ঘোরে বসে থাকো বলে সোনালী ডানায় ছড়িয়ে দিয়েছ
ভাগ্যলিপির ভ্রূণ। যে শ্বেত সারস উড়ে গেল আজ বিনীত বিষাদে
তার শরীর জুড়ে জলের ডুবুরি বসে থাকে। মনে তার আগ্রাসী প্রেম
তোমাকে দেখলেই আমার একটি শ্বেত সারসের কথা মনে পড়ে

সাহিত্য

 

আপনার মতামত লিখুন :

 
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  বরিশালবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন জুনের শেষ সপ্তাহে  মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবি: ৮ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড  বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস  বরিশালে নৌকাডু‌বিতে নিখোঁজ জেলের লাশ উদ্ধার  বরিশালে নিউনেস স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণী  আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসবে: ঝালকাঠিতে আমু  ঝালকাঠিতে পাবজি গেমস খেলতে না দেওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা  নলছিটিতে ২০ বস্তা আটা নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড!  বিয়ের ২৬ দিনের মাথায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার  পদ্মা নদীতে ধানবোঝাই ট্রলার ডুবি: ২ শ্রমিক নিখোঁজ