২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

২০০ চুরি-ডাকাতির মূলহোতা শহীদসহ টঙ্গীতে আটক ৮

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৫:১২ অপরাহ্ণ, ২৯ অক্টোবর ২০১৯

বার্তা পরিবেশক, অনলাইন:: রাজধানীর অদূরে টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকা থেকে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের মূলহোতা শহীদ ও কামালকে ছয় সহযোগীসহ আটক করেছে র‌্যাব। সোমবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে র‌্যাব-১ এর একটি দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে তাদের আটক করে।

তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় শর্টগান, চার রাউন্ড কার্তুজ, একটি পিস্তল কভার, একটি প্রাইভেটকার, দুটি ওয়াকিটকি সেট, তিনটি ডিবি লেখা জ্যাকেট, চারটি ধারাল ছুরি, একটি চাপাতি, ২০টি মোবাইলফোন, একটি কাটার, একটি গ্রান্ডিং মেশিন, একটি হেক্সোব্লেড, আটটি গাড়ির নম্বর প্লেট, তিনটি তালা খোলার রড, চারটি ওয়াকিটকি চার্জার উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলেন- সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের মূলহোতা মো. শহীদ আকন্দ (৪২), জাকির হোসেন ওরফে কামাল (৩৫), মো. শাহজাহান (৩৫), মাহবুব মানিক (৩১), বাবু ইসলাম ওরফে পিচ্চি বাবু (২৮), আল আমিন হোসেন (৩৬), নুর ইসলাম (২৯) এবং মোছা. আর্জিনা বেগম (২৩)। র‌্যাব বলছে, চক্রটির বিরুদ্ধে দুই শতাধিক ছোটবড় চুরি ও ডাকাতি সংঘটিত করার অভিযোগ রয়েছে।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চক্রের মূলহোতা শহীদ আকন্দ ও জাকির হোসেন কামাল। সংঘবদ্ধ ডাকাত দলটির স্থায়ী সদস্য ১৫-১৬ জন।

শহীদ ও কামাল মিলে ডাকাত দলটি নিয়ন্ত্রণ করত। এ অপরাধীচক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। ডিবি পরিচয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধ যেমন- ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি করে। ক্ষেত্রবিশেষে আসামি শহীদ আকন্দ ও জাকির হোসেন কামাল ডাকাতির জন্য এদের মধ্য থেকে আরও লোক নিয়োগ করে। চক্রটি ছয়-সাত বছর ধরে সক্রিয়। নিজেদের ডিবি হিসেবে উপস্থাপন করতে ডিবি জ্যাকেট, ওয়াকিটকি ইত্যাদি ব্যবহার করত।

সম্প্রতি চক্রটি গাজীপুর-টঙ্গীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ডাকাতির উদ্দেশে প্রথমে টার্গেট নির্ধারণ করে যেমন স্বর্ণের দোকান, বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ধরনের দোকান। এই চক্রের চার-পাঁচজন সদস্য নির্ধারিত টার্গেটে এসে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। পরে এই চক্রের অন্য সদস্যরা রাতের বেলায় বর্ণিত স্থানে ডিবি পরিচয় দিয়ে ঘোরাঘুরি করে এলাকায় ভীতিপ্রদর্শন করে এবং নাইটগার্ডকে ডিবি পরিচয় দিয়ে তাদের এখানে কাজ আছে বলে অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে ডাকাতি করে।

চক্রের সদস্যদের টার্গেটে ছিল রাস্তায় সাধারণ যাত্রীরাও। ডিবি পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে তুলে ভিকটিমের হাত-পা বেঁধে মারধর করে তার কাছে থাকা মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয় এবং ভিকটিমের কাছে টাকা না থাকলে বিকাশের মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করে। অতঃপর গাড়ির ভেতর ভিকটিমকে চোখমুখ বেঁধে নির্যাতন করে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। এই চক্রের সদস্যরা যাত্রী হিসেবে গাড়িতে থাকে যেন বাইরের কেউ সন্দেহ না করে।

তাছাড়াও এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাংকের গ্রাহকদের অপহরণ ও অর্থ ছিনিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে নানাবিধ কৌশল অবলম্বন করে। প্রথমত তাদের দলের একজন-দুজন ছদ্মবেশে ব্যাংকের বাইরে, দু-তিনজন গ্রাহকের ছদ্মবেশে ব্যাংকের ভেতর প্রবেশ করে এবং মূল দলটি মাইক্রোবাসসহ সুবিধাজনক স্থানে অপেক্ষা করতে থাকে। অতঃপর তারা সুবিধাজনক গ্রাহকদের শনাক্ত করতে চেষ্টা করে। যে গ্রাহক বেশি টাকা উত্তোলন করে কিন্তু নিজস্ব গাড়ি নেই সাধারণত তাদের টার্গেট করে। এরপর ভেতরের একজন ব্যাংক থেকে বের হয়ে এসে বাইরের জনকে টার্গেট বুঝিয়ে দেয় অথবা সরাসরি তারা মোবাইলের মাধ্যমে মূল দল বাইরে অবস্থানরত দলকে অবহিত করে। মাইক্রোবাসটি পেছন থেকে অথবা কখনও সামনে থেকে এসে সুবিধাজনক স্থানে ভিকটিমের গতিরোধ করে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। গাড়ির ভেতর ভিকটিমকে চোখমুখ বেঁধে নির্যাতন করে সব টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং রাস্তায় ফেলে চলে যায়।

স্ব-স্ব নির্দিষ্ট দায়িত্ব আগে থেকে বণ্টন করে চক্রের সদস্যদের। যেমন ডিবি অফিসারের মতো ভূমিকায় কে থাকবে, কে হ্যান্ডকাফ পরাবে, কে টার্গেট নির্ধারণ করবে, কে ড্রাইভারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। চক্রের সব সদস্য গাড়ি চালাতে পারদর্শী এবং সবাই ইয়াবা আসক্ত।

মূলহোতা শহীদ আকন্দকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত ৮-৯ বছর আগে গাজীপুর মহানগরীতে রিকশা চালাত। পরে সে বিভিন্ন দোকানে চুরি করা শুরু করে। চুরি করতে করতে এক পর্যায়ে ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ে। সে ২০১৭ সালে চুরি করার কারণে দুই মাস কারাভোগ করে এবং ২০১৯ সালে ডাকাতির অপরাধে চার মাস কারাভোগ করেছে। ২০১৩ সালের দিকে জাকির হোসেন কামালকে নিয়ে এই সংঘবদ্ধ দলটি গঠন করে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চার-পাঁচটি ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই মামলা রয়েছে। এই পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি চুরি, ডাকাতি করেছে বলে স্বীকার করে।

আটক জাকির হোসেন কামাল জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, শহীদের প্রধান সহযোগী হিসেবে সে কাজ করে। ডাকাতির সময় ডিবি অফিসারের মতো বেশভূষা ধারণ করে। ১০ বছর ধরে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। ২০১৪ সালে সবুজবাগ থানার একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিন মাস কারা ভোগ করেছে এবং ২০১৯ সালে ডাকাতির অপরাধে তিন মাস কারা ভোগ করেছে বলে জানায়। তার নামে সবুজবাগ থানায় দুটিসহ বিভিন্ন থানায় চার-পাঁচটি ডাকাতি মামলা রয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা দায়েরপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

3 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন