৩১ মিনিট আগের আপডেট রাত ১২:৫ ; বৃহস্পতিবার ; ডিসেম্বর ১, ২০২২
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

৭৫ বছর পর পেল যে গ্রামে প্রথম সরকারি চাকরি

Mahadi Hasan
৩:৩০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

৭৫ বছর পর পেল যে গ্রামে প্রথম সরকারি চাকরি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ৭৫ বছরে এই গ্রামে কেউ কখনো সরকারি চাকরির মুখ দেখেননি। সেই খরা কাটিয়েই এবার প্রথম সরকারি চাকরি পেয়েছেন গ্রামের এক যুবক। নাম তার রাকেশ কুমার। সে ভারতে বিহার রাজ্যের মুজাফ্ফরপুর জেলার ছোট্ট গ্রাম সোহাগপুরের বাসিন্দা।

এ গ্রামে অন্তত দুই হাজার মানুষের বাস হলেও এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। কেউ সরকারি চাকরি পাননি। ভারতের স্বাধীনতার পর ৭৫ বছরে প্রত্যন্ত এই গ্রামটিতে কেবল রাকেশেরই সরকারি চাকরি হলো৷ ঘুচল অপবাদ। তাই সোহাগপুর গ্রামে এখন খুশির জোয়ার ৷

৩০ বছর বয়সি রাকেশ গ্রামেরই একটি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক হিসেবে চাকরি পেয়েছেন। তার পরই তাকে নিয়ে মাতামাতি শুরু হয়েছে গ্রামজুড়ে। রাকেশের চাকরির খবর আসামাত্র সেখানে মিষ্টি বিতরণ, রঙ মাখামাখি শুরু হয়। গত 8 সেপ্টেম্বরে রাকেশ নিয়োগপত্র পেয়েছেন৷ খুব শিগগির মুজাফ্ফরপুরে বারকুরওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করবেন তিনি৷

গ্রামের স্কুলেই পড়াশোনা করেছেন রাকেশ৷ তার পর তিনি পাশের জেলা দ্বারভাঙায় যান স্নাতকোত্তর করতে ৷ এর পর রাজস্থান থেকে বিএডও করেন ৷ সম্প্রতি তিনি বিহারের ‘টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট’-এ উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি প্রাথমিক স্কুলে এ চাকরি পেলেন ৷

গ্রামের স্থানীয় এক নেতা দেবেন্দ্র চৌধুরী বলেন, সেই ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় থেকে সোহাগপুর গ্রামে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষ একটা স্থায়ী, ভালো বেতনের চাকরির জন্য আশা করে থেকেছেন। কিন্তু সেটি করতে পারার পথ ছিল খুব কমই।

অনেক শিক্ষার্থীই কাছের অনেক বড় বড় নগরীতে পড়াশোনা করতে গেছে। কিন্তু কেউই এত দিন একটা সরকারি চাকরি হাসিল করতে পারেনি। কুমারের সফলতা অবশেষে গ্রামের ওপর থেকে দুর্ভাগ্যের কাল ছায়া সরিয়ে দিয়েছে। গ্রামের মানুষ এবার আশাবাদী, বাকি তরুণরাও রাকেশ কুমারের পথে হেঁটে সরকারি চাকরি পাবেন ৷ গ্রামের সম্মান বাড়বে বলে জানান দেবেন্দ্র।

ওদিকে চাকরি পাওয়ার আনন্দে রাকেশ বিবিসিকে বলেন, গ্রামের গর্ব হতে পেরে তিনি খুবই উচ্ছ্বসিত। তবে এই পথ যে মোটেও সহজ ছিল না সে কথাও খোলাসা করে বলেছেন রাকেশ।

রাকেশের বাবা ছিলেন একজন মুদি দোকানদার। বাবাকে ছোট বয়সেই হারিয়েছিলেন তিনি। এর পরের দীর্ঘ সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে রাকেশ বলেন, তাকে ২০ মাইল সাইকেল চালিয়ে কাছের মুজাফ্ফরপুরে হাইস্কুলে পড়তে যেতে হতো।

পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য অবসর সময়ে গ্রামের শিশুদের পড়াতেও হতো। এই উপার্জন দিয়েই বই কিনে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এ যুবক। রাকেশ বলেন, বাবার স্বপ্নপূরণের জন্য আমি সংগ্রাম করেছি। বাবা চাইতেন আমি চিকিৎসক কিংবা শিক্ষক হই। এখন আমি সেই স্বপ্নপূরণ করেছি।

আন্তর্জাতিক খবর

 

আপনার মতামত লিখুন :

 
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  অনিয়ম-দুর্নীতি/ বরিশাল কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সেই অধ্যক্ষকে বদলি  কবরস্থানে গাঁজা সেবনে বাধা; অতঃপর নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি!  ছিনতাইয়ের অভিযোগে এমপির বিরুদ্ধে মামলা  পিরোজপুরে মাদক মামলায় যুবকের কারাদণ্ড  বিজয় মাসের প্রথম দিনে মুক্তিযোদ্ধা এনছান আলী'র দাবি  পটুয়াখালীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম  এমপি ভাগ চাওয়ায় বরাদ্দ পাওয়া কম্বল ফেরত দিল চেয়ারম্যানরা  ডিসেম্বরেই আসছে শৈত্যপ্রবাহ: সাগরে দুটি লঘুচাপ  সিইসির আশ্বাসে কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির কর্মসূচি স্থগিত  গৌরনদীর ১৬ স্কুলে ১০ টাকায় ‘দুপুরের খাবার’