৯ ঘণ্টা আগের আপডেট সকাল ৯:৫০ ; রবিবার ; মে ৩১, ২০২০
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

‌‌‘মা’ ইলিশ শিকারের মহোৎসব, নদীতে নেমেছে মৌসুমি জেলেরা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
১০:৩০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

বার্তা পরিবেশক, অনলাইন:: মানিকগঞ্জে জেল-জরিমানাতেও বন্ধ হচ্ছে না মা ইলিশ ধরা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পদ্মা-যমুনায় ইলিশ ধরছেন অসাধু জেলেরা। নদী পাড়ে গড়ে উঠেছে ইলিশ বিক্রির অস্থায়ী বাজারও। জেলেরা বলছেন, নদীতে এবার ইলিশ ধরা পড়ছে বেশি এবং সাইজেও অনেক বড়। এ কারণে পেশাদারদের পাশাপাশি মৌসুমি জেলের সংখ্যাও বেড়েছে।

জেলার হরিরামপুর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলায় মা ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র রয়েছে। সরেজমিন নদীতে ঘুরে দেখো গেছে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পদ্মা-যমুনায় ডিমওয়ালা ইলিশ ধরার যেন ধুম লেগেছে। শত শত ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ ধরছেন মুনাফালোভী জেলেরা।

রহিম, মফজেল ও কাউছারসহ কয়েকজন জেলে জানান, বিগত বছরের তুলনায় নদীতে এবার মাছ ধরা পড়ছে বেশি। ইলিশের সাইজও অনেক বড়। একেকজন জেলে দিনে অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ইলিশ মাছ বিক্রি করেন। এ কারণে লোভে পড়ে অনেকেই মাছ ধরতে নেমেছেন। আবার অনেক জেলেই নেমেছেন পেটের দায়ে। সরকারিভাবে কিছু জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হলেও অনেকের ভাগ্যেই তা জোটেনি।

জেলেরা জানান, প্রথম দিকে প্রতি কেজি ইলিশ গড়ে (ছোট বড় মিলিয়ে) ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতো। কিন্তু বর্তমানে মাছের পরিমাণ কমে আসায় দাম বেড়েছে। বর্তমান গড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ইলিশ। তবে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজিতে।

জেলেরা জানান, প্রশাসনের অভিযানের আগে-পরে তারা নদীতে নামেন। তবে অনেকেই এবার ধরা পড়ে জেল-জরিমানার শিকার হয়েছেন। কেউ পেটের দায়ে কেউ সখ করেই ইলিশ ধরেন করেন নদীতে।

শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ধামরাই থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারে ইলিশের ব্যাগ সাজানো হচ্ছে। এ প্রতিবেদক ছবি তুলতে গেলেই তারা মাছ নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। চরাঞ্চল থেকে আসা প্রতিটি নৌকার বেশির ভাগ যাত্রীর কাছেই ছিল ইলিশ মাছ। বাজারের ব্যাগ, বস্তা, স্কুল ব্যাগ এবং কাপড়ের ব্যাগে করে নানা কৌশলে নেয়া হচ্ছে এসব মাছ।

স্থানীয়রা বলছেন, নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরা ও বিক্রি বন্ধে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু তারপরও ইলিশ ধরা বন্ধ হচ্ছে না। কারনণ প্রশাসন যতটা আন্তরিক ততটা আন্তরিক নয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। অনেক জায়গাতেই মাছ ধরায় তাদের মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে অভিযান পুরোপুরি সফল হচ্ছে না।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, ইলিশ ধরা, পরিবহন ও বিপণন বন্ধে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিন উপজেলায় নিয়মিত অভিযান চলছে। অসাধু জেলে এবং ক্রেতাদের ধরে জেল দেয়া হচ্ছে, জরিমানা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অস্থায়ী বাজারগুলো ভেঙে দেয়া হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে। কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। সাধারণ জনগণ আগের চেয়ে অনেক সচেতন।

মানিকগঞ্জ জেলা মৎস কর্মকর্তা ড. মো. মনিরুজ্জামান জানান, মা ইলিশ রক্ষায় মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, নৌ ও থানা পুলিশ প্রতিদিনই যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলে এবং ক্রেতা রয়েছেন। আটক বেশির ভাগ জেলেকেই এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বাকিদের জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ ইলিশ মাছ এবং কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। মাছগুলো স্থানীয় মাদরাসা ও এতিম খানা এবং জেলা কারাগারে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জনবল ও নৌযান সংকট এবং চাহিদা মতো অর্থ বরাদ্ধ না মেলায় ইলিশ ধরা পুরোপুরি বন্ধ করা যায় না। এসব সমস্যার সমাধান হলে শতভাগ সফলতা পাওয়া যেতো।

প্রসঙ্গত, প্রজনন মৌসুম হওয়ায় ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

দেশের খবর

আপনার মতামত লিখুন :

 

বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে
সম্পাদক : হাসিবুল ইসলাম
ঠিকানা: শাহ মার্কেট (তৃতীয় তলা),
৩৫ হেমায়েত উদ্দিন (গির্জা মহল্লা) সড়ক, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: ০৪৩১-৬৪৮০৭, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  সেই খোরশেদের স্ত্রী শ্বাসকষ্ট নিয়ে জীবন সংকটে, আইসিইউ খালি নেই  ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করোনার হানা, কোয়ারেন্টিনে বহু কর্মকর্তা  পঞ্চম দফায় আরও ১ মাস লকডাউন বাড়াল ভারত  এক যাত্রীকে কিনতে হবে দুই টিকিট  বরিশালে ৯ পুলিশসহ আরও ২২ জনের করোনা সনাক্ত  মর্গে জায়গা হয়নি, এসি রুমে পচে গিয়েছিল ২৬ বাংলাদেশির লাশ  মেয়রসহ পরিবারের পাঁচজন করোনায় আক্রান্ত  এই দেশটাকে কখনও আমার দেশের মতো মনে হয়  বরিশালে করোনার লক্ষণ নিয়ে ২ জনের মৃত্যু  র‌্যাবের ১৩ সদস্য করোনা আক্রান্ত