৩ মিনিট আগের আপডেট রাত ৯:২৯ ; শুক্রবার ; মে ২৯, ২০২০
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধসমূহ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা

অ্যাড. কাওসার হোসাইন
৯:৪১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯

মানুষের জীবনে প্রযুক্তিগত কল্যাণ নিশ্চিতের জন্য সর্বত্র তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেবা পৌছে গেছে। এর সুবাদে ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ইউটিউব, ইমু, ভাইবারসহ নানাবিধ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার বেড়েছে বহুগুনে। এ জাতীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সঠিক ব্যবহার মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ যেভাবে সহজতর করেছে তেমনি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কিন্তু এর অপব্যবহার বা স্বার্থান্বেষী ব্যবহার সৃষ্টি করে নানা সমস্যা এবং তা অন্যর জন্য মানহানিকর, অপমানজনক। এমনকি বিরোধ, বিদ্বেষ বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। সময়ের পরিবর্তনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছে যে তা প্রতিরোধ করার জন্য সরকার আইন পাশ করতে বাধ্য হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এ জাতীয় আইনের উদাহরণ।

বর্তমানে এ সংক্রান্তে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ বিদ্যমান। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সচরাচর সংঘটিত অপরাধসমূহ হলো ২৫/২৯ ধারার অপরাধ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় উল্লেখ আছে যে, কেউ যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বা জ্ঞাতস্বরে কোন ওয়েবসাইটে বা ডিজিটাল মাধ্যমে কাউকে অপমান, অপদস্ত, বিরক্ত বা হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য বা জাতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে মিথ্যা কোন তথ্য প্রেরণ করে বা প্রকাশ করে বা প্রসার ঘটায় তাহলে তা অপরাধ এবং এ জাতীয় অপরাধের শাস্তি  সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড, পাশাপাশি এ জাতীয় অপরাধ একাধিকবার করলে শাস্তি হবে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারা বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, উল্লেখিত ধারার অপরাধ সংঘটিত হবার জন্য প্রেরিত বা প্রকাশিত বা প্রসারিত তথ্যটি ওয়েবসাইট বা যেকোন ডিজিটাল মাধ্যমে প্রেরিত বা প্রকাশিত হতে হবে যা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বা জ্ঞাতস্বরে এবং তথ্যটি অবশ্যই মিথ্যা হতে হবে। যা অনেকেই বিবেচনা না করে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করতে যান বিধায় অনেক মামলার পিটিশন খারিজ হয়ে যায় বা স্বাক্ষ্য প্রমাণে তা প্রমাণ করতে পারে না বিধায় আসামী বা অভিযুক্ত খালাস পেয়ে যায়।

এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৯ ধারায় উল্লেখ আছে, কেউ যদি কোন ওয়েবসাইট বা ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে অন্য কারো বিরুদ্ধে মানহানিকর কোন তথ্য প্রেরণ বা প্রকাশ করে তাহলে তা অপরাধ এবং উক্ত অপরাধের শাস্তি হলো সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড এবং একই অপরাধ একাধিকবার করলে তার শাস্তি সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা বা উভয়দণ্ড।

উক্ত ধারার মামলা বিশ্লেষণ করলে দেখা  যায়, অপরাধটি কোন ওয়েবসাইট বা ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে হতে হবে এবং প্রেরিত বা প্রকাশিত তথ্যটি বাংলাদেশের দন্ডবিধি-১৮৬০ আইনের ৪৯৯ ধারায় সংজ্ঞায়িত মানহানির অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।সেক্ষেত্রে দন্ডবিধিতে উল্লেখিত মানহানির ব্যতিক্রম ব্যাখাগুলোও প্রযোজ্য হবে অর্থাৎ দন্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় যে সকল ব্যতিক্রম ক্ষেত্রগুলোতে মানহানির অপরাধ সংঘটিত হবে না সে সকল ক্ষেত্রেগুলোতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৯ ধারার অপরাধও সংঘটিত হবে না।উল্লেখিত ধারার মামলা দায়ের বা স্বাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে আসামীর দোষ প্রমাণের ক্ষেত্রে বা আসামীকে নির্দোষ প্রমাণের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোকে সতর্কতার সাথে বিবেচনায় নিতে হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫/২৯ ধারার উপাদান অনেকটা একই রকম এবং অনেকক্ষেত্রে দুটো ধারার অপরাধ একত্রে সংঘটিত হতে পারে। ওয়েবসাইটে বা ডিজিটাল মাধ্যমে কেউ কারো বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বা জ্ঞাতস্বরে কোন মিথ্যা তথ্য কাউকে অপমান ,অপদস্থ, বিরক্ত, হেয়প্রতিপন্ন এবং মানহানিকরার উদ্দেশ্যে করে থাকলে বা জাতির ভারমূর্তি ক্ষুন্ন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করে থাকলে তা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫(১)/২৯(১) ধারার অপরাধ হবে।

উপরোক্ত আইনগত বিশ্লেষণের পাশাপাশি একটি বিষয় আমাদের সবাইকে বিবেচনায় নিতে হবে যে মানুষ সামাজিক জীব এবং একজন সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের রয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা। যে দায়বদ্ধতার কথা গভীরভাবে চিন্তা করলে এ জাতীয় অপরাধে কেউ জড়িত হতে পারে না। সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের উচিত আধুনিক প্রযুক্তির ফলে সহজলভ্য হওয়া ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমগুলো সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানো, সামাজ ও জনগণের কল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা, অন্য কাউকে অপমান, অপদস্থ, বিরক্ত, হেয়প্রতিপন্ন, মানহানি ঘটানো বা জাতীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন বা গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নয়। তাহলে একসময় ডিজিটাল অপরাধমুক্ত হবে রাষ্ট্র এবং উপকৃত হবো আমরা সবাই।

লেখক : সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও কলামিস্ট।

কলাম

আপনার মতামত লিখুন :

 

বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে
সম্পাদক : হাসিবুল ইসলাম
ঠিকানা: শাহ মার্কেট (তৃতীয় তলা),
৩৫ হেমায়েত উদ্দিন (গির্জা মহল্লা) সড়ক, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: ০৪৩১-৬৪৮০৭, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  করোনা রোগী ‘জন্ডিসের রোগী’ সেজে চাচার বাড়ি!  করোনা রোগীর রক্তের নমুনা নিয়ে পালাল বানর  পিরোজপুরে আইসোলেশনে থাকা এক ব্যক্তির মৃত্যু  প্লেন ভাড়া করে সস্ত্রীক দেশ ছাড়লেন মোরশেদ খান  করোনা: লঞ্চ চলবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, বাড়ছে না ভাড়া  সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি পুলিশ করোনায় আক্রান্ত  শ্বাসকষ্টে মৃত নারীর লাশ নেয়নি স্বামী স্বজনেরা, দাফন করল পুলিশ!  জিয়া সড়কে দোকানি মনুর সন্ত্রাস, মা-মেয়েকে পেটালো রাস্তায় ফেলে  কলাপাড়া আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা র‌্যাবের  'বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেই ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত'