বার্তা পরিবেশক, দৌলতখান:: ভোলার দৌলতখান উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে চার মাসের অন্তঃসত্ত¡া মিনারা বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধূকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ দৌলতখান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। আহত মিনারা বেগম ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজের মেয়ে।

রবিবার (৭ জুন) বিকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ভুক্তভোগী গৃহবধূ মিনারা বেগম সাংবাদিকদের জানান, ১ বছর পূর্বে উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালুর ছেলে হুমায়ুনের সাথে তার পারিবারিকভাবে বিবাব হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য তাকে একাধিকবার নির্যাতন করে আসছে স্বামী হুমায়ুন ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে তার ঘরের টিনে ডিল মারেন ভাসুরের মেয়ে মরিয়ম। এনিয়ে ঘটনার দিন শনিবার (৬ জুন) মরিয়মের মা খালেদার সাথে তার বাকবিতণ্ডা হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তার বাসুরের স্ত্রী খালেদা ও নাজমা যৌথভাবে তাকে বেধড়ক মারধর করে।

তিনি আরও বলেন- গত তিন মাস আগে তার বাবার বাড়ি থেকে আসবাবপত্র না দেওয়াকে কেন্দ্র করে জামাতা হুমায়ুন, ননদ মুক্তা ও দেবর সবুজ তাকে মারধর করে। এতে করে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে।

ভুক্তভোগী মিনারা বেগম এর বাবা সিরাজ জানান, আমার আর্থিক অবস্থা ততটা ভালো নয়। দিন এনে, দিন খেতে হয়। তবুও ধারদেনা করে সামাজিক-ভাবে মেয়ের বিয়ে দিয়েছে। জামাতার বাড়িতে সমাজের সবার মত যা দেওয়ার দিয়েছি। তারপরও ওরা আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য মারধর করে।

স্থানীয়রা জানান, গৃহবধূ মিনারা বেগমকে প্রায় তার স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মারধর করতো। এনিয়ে গ্রাম্যভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে।

এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আব্দুল শহীদ জানান, গৃহবধূকে মারধরের বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি।
দৌলতখান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বজলার রহমান জানান, এঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’