নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ২ নম্বর মগড় ইউনিয়নে এক বখাটে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এতে ওই প্রতিবন্ধী কিশোরী ৭ মাসের অন্ত:সত্ত্বা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত লম্পট জিয়া হাওলাদার মগড় ইউনিয়নের রায়াপুর গ্রামের মৃত মোকছেদ হাওলাদারের ছেলে। এই সংক্রান্তে কিশোরীর পরিবারের দেওয়া একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

প্রতিবন্ধী কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নলছিটি উপজেলার ২ নম্বর মগড় ইউনিয়নের পূর্ব রায়াপুর গ্রামের মোকসেদ হাওলাদারের মেয়ে হাসিনা তার বাসায় কাজ করানোর জন্য প্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাসা থেকে নিয়ে যায়। এর কিছুদিন পরেই লম্পট জিয়া তার বোন হাসিনার বাসায় যাতায়াত শুরু করে। এ সময় তার কু-দৃষ্টি পড়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীর ওপর। এতে ধীরে ধীরে লম্পট জিয়ার লালসার শিকারে পরিণত হয় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী। লম্পট জিয়ার লাগাতার ধর্ষণে অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে প্রতিবন্ধী কিশোরী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অন্ত:সত্ত্বা কিশোরীর পরিবারের ৬ সদস্যের মধ্যে ৫ জনই বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী। এবং লম্পট জিয়া হাওলাদারের ২ ভাই আফজাল ও স্বপন পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় মামলা করতে পারছে না। এমনকি প্রতিবন্ধী পরিবার হওয়ায় তাদেরকে কেউ আইনী সহায়তা দিতে এগিয়ে আসছে না।

এ ঘটনায় মহিলা ইউপি সদস্য সাজেদা বরিশালটাইমসকে জানান, পরিবারটির সব সদস্য প্রতিবন্ধী। তাই তারা কি করবে, কার কাছে যাবে কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। আর আমাদের কাছে অভিযোগ না দিলে আমাদের কিছু করার নেই।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন বরিশালটাইমসকে জানান, ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করলে আমাদের পক্ষ থেকে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, লম্পট জিয়া হাওলাদারের ২ভাই পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় নলছিটি থানা পুলিশ বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এদিকে অসহায় পরিবারটির সকল সদস্য প্রতিবন্ধী হওয়ার সুবাদে তাদের নিকটাত্মীয় স্বজনের একটি পক্ষ সমঝোতার অস্ত্র ব্যবহার করে অর্থনৈতিক ফায়দা লুটতে ব্যস্ত রয়েছে।

এমতাবস্থায় অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবারটি লম্পট জিয়ার শাস্তি এবং অনাগত সন্তানের পরিচয়ের দাবি জানিয়ে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক এবং মানবাধিকার সংগঠনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।’