সাধারণত সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক মহাসড়কে স্পিড বেকার দেওয়া হয়। এক্ষত্রে কোন রকম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অপরিকল্পিতভাবে স্পিড ব্রেকার তৈরি করায় ওই সড়ক মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এরই মধ্যে ব্যক্তি উদ্যোগে যত্রতত্র স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য স্পীড ব্রেকার। যার কারণে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হচ্ছে।

স্পিড ব্রেকারগুলোর আগে পরে নেই কোন প্রতিকী চিহ্ন, লেখা নেই কোন সতর্কবানী। এমনকি রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়নি ওই স্পিড ব্রেকারগুলো। সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বরিশাল থেকে লেবুখালী ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তায় ২৩ টি গতিরোধক (স্পিড ব্রেকার) রয়েছে। শুধুমাত্র বরিশাল থেকে বাকেরগঞ্জ পর্যন্ত ২০ কি.মি রাস্তায় ১৭ টি স্পিড ব্রেকার রয়েছে।

একই অবস্থা বরিশাল-ঝালকাঠি মহাসড়কে। এই মহাসড়কে বরিশাল থেকে ঝালকাঠি পর্যন্ত প্রায় ১৩ কি.মি রাস্তার স্পিড ব্রেকার রয়েছে ১১ টি। কিছু কিছু স্পিড ব্রেকার এতো উঁচু যে, এগুলোর উপর দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় বেশ জোরে ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রায়ই ড্রাইভারদের সাথে যাত্রীদের কথা কাটাকাটি ও বাক-বন্ডিতার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব রাস্তায় যাতায়াতকারী রোগী ও শিশুরা ঝাঁকুনিতে প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

সড়কের পাশে কেউ নতুন বাড়ি নির্মাণ করলে সেখানে দেয়া হয় একটি স্পিড ব্রেকার। আর হাট-বাজার, দোকান থেকে শুরু করে চা দোকানের সামনে অবাধে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেক সময় বিভিন্ন মাহফিল ও মসজিদ নির্মাণের নামে পাকা সড়কের ওপর ইট ও মাটি দিয়ে অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করে গাড়ির পথরোধ করার চেষ্টা করছে অসচেতন মহল। সোহেল রানা নামের এক মোটরসাইকেল চালক জানান, উঁচু স্পিড ব্রেকারগুলোতে গাড়ির গতি কমিয়ে উঠার চেষ্টা করলে গাড়ি স্পিড ব্রেকারের ওপর উঠতে চায়না। তাই বাধ্য হয়ে জোরে চালিয়ে উঠতে হয়ে। মাঝেমধ্যে ওই স্পিড ব্রেকারগুলোতে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা।
স্থানীয়রা জানান, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এই স্পিড ব্রেকারগুলোর কারণে সাইকেল, ভ্যান, মোটরসাইকেল চালকরাও সমস্যায় পড়েছেন। প্রতিদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, শীঘ্রই স্পিড ব্রেকারগুলোতে রঙ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। জনস্বার্থে যেখানে স্পিড ব্রেকার প্রয়োজন শুধু সেখানেই স্পিড ব্রেকার থাকবে। বাকি সব স্পিড ব্রেকার অপসারণ করা হবে।”