পূর্ণিমার সৃষ্ট জোয়ার এবং বঙ্গোপসাগরে সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে ভোলায় নদ-নদীর পানি বিপদসীমার  ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।  পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে মনপুরা উপজেলায়। সেখানে মনপুরা ও হাজিরহাট ইউনিয়নের অন্তত ৭ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। রোববার (১১ জুন) বিকালে জোয়ারের এসব এলাকা প্লাবিত হয়।

এদিকে মেঘনায় পানি বিপদসীমার ২০০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এটি এ মৌমুমের সবোচ্চ জোয়ার বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে। এছাড়াও দিনভর জেলায়  ১৬ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় বহাল রয়েছে ৩ নাম্বার সতর্ককতা সংকেত।

মনপুরার  উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিনা আক্তার বরিশালটাইমসকে জানান, অতি জোয়ারে উপজেলার মনপুরা ও হাজিরহাট ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাঁধ না থাকায় এসব এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে।’

ভোলা পানি উন্নয়ন ডিভিশন-২ নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার হোসেন বরিশালটাইমসকে জানান, এ মৌসুমে সর্বোচ্চ জোয়ার প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার জোয়ারের উচ্চতা ছিলো বিপদসীমর ২০০ সেমি। বাধের ভেতর এবং বাইরের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে তজুমদ্দিনের চাদপুর, চরফ্যাশিনের কুকরী-মকুরী, ঢালচর চর পাতিলা, দৌলতখানের হাজিপুর, মেদুয়া, মদনপুর, সদরের রামদাসপুর, মাঝের চর, ধনিয়া এলাকা প্লাবিত হয়েছে।’

ধনিয়ার নাছির মাঝি জোয়ারে বাধের বাইরে পানি ঢুকে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ।

ভোলা আবহাওয়া অফিসের অবজারভার মাহাবুব রহমান বরিশালটাইমসকে বলেন, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারনে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করতে। এতে নদী বন্দরসমূহকে ৩ নাম্বার সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তা ঘাট, ফসলি জমি, ঘরবাড়িসহ বিস্তির্ণ জনপদ। পানির হাত থেকে রক্ষায় অনেকেই উচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

অরপদিকে জোয়ারের পানি ভোলা-লক্ষীপুর রুটের ইলিশা ফেরীঘাটের র‌্যাম ও অ্যাপ্রোস সড়ক তলিয়ে যাওয়ায়  ফেরীতে যানবাহন উঠা-নামায় মারাত্মক বিঘ্নের সৃষ্টি হচ্ছে।’’