বরিশাল নগরীর জাগুয়ায় রাতের আধারে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী অস্ত্রবাজদের বিরুদ্ধে নামছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। খুব শিগগিরই সংস্থাটি এই অস্ত্রবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করবে। অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) দক্ষিণ জাগুয়া এলাকার এক ব্যবসায়ি আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মূলত ওই মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক মো. আলী হোসাইন অস্ত্রবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার আর্দেশ দেন পিআইবিকে। আদালতের বিচারকের নির্দেশনার আলোকে খুব শিগগিরই পিআইবি অনুসন্ধানে নামবে বলে জানিয়েছে। এই মামলায় নামধারী অভিযুক্তরা হলেন- ওই এলাকার মৃত রহম আলীর ছেলে মো. শাহাদাত হাওলাদার (৪০), আব্দুল ওহাবের ছেলে শহিদুল ইসলাম খোকন হাওলাদার (৪৫) এবং মৃত আব্দুল আলীর ছেলে মো. সিদ্দিক খান (৫০)।

তবে এছাড়াও আরও অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত সূত্র জানিয়েছে- পেশায় জমি ব্যবসায়ি বাদী কবির বিশ্বাস মামলায় উল্লেখ করেছেন অভিযুক্তরা তার কাছে দীর্ঘদিন যাবত ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। ওই টাকা না পেয়ে বাদীকে হুমকিও দেয়।

এতে ব্যবসায়ি প্রতিবাদ করলে আসামিরা বাদীর ওপরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার জেরে গত ১৫ জুলাই অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলযোগে দক্ষিণ জাগুয়া জোড়াপোল এলাকায় বাদীর বাসায় স্বশস্ত্র হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা তিন তিনবার গুলিও বর্ষণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ওই হামলাকালে বাসার গেটের দুটি লাইট ও মূল ফটক কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

বিষয়টি বাদী প্রত্যক্ষ করলেও জীবন রক্ষার্থে বাসার পাশে লুকিয়ে ছিলেন। ফলে আসামিরা হুমকি দেয় ২দিনের ভেতরে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। নতুবা কবির বিশ্বাসকে দুনিয়া থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া হবে।’ এর আগেও অভিযুক্তরা গত ৬ জুলাই কবির বিশ্বাসের কাছে চাঁদা দাবি করে জীবন নাশের হুমকি দিয়েছিল। যে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। ওই অভিযোগটি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজমলের কাছে তদন্তধীন রয়েছে।

এদিকে হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পরে অভিযুক্তরা বাদীর বাসায় গিয়ে ফের হুমকি দিয়েছে। এমনকি বলেও বেড়াচ্ছে কবির বিশ্বাসের এত বড় সাহস হয় কী করে যে মামলা করে। এ জন্য তাকে অনেক বড় খেসারত দিতে হবে বলেও আরেক দফা হুমকি দেয়।

ফলে বাদী আরও বেশিমাত্রায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই অস্ত্রবাজদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। সেই সাথে তাদের প্রতিরোধে গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে। সুতরাং বোঝার অপেক্ষা থাকে না যে এবার সবকিছু মিলিয়ে বিষিয়ে উঠতে পারে এই ভয়ানক অপরাধীদের ভর্বিষ্যত।”