দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি এমন ৫ শতাধিক আসামির বিচার দ্রুত শেষ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি তালিকা পাঠিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এই আসামিদের মধ্যে প্রায় সবাই হত্যাসহ গুরুতর অপরাধের ধারায় দায়ের করা মামলার আসামি। যেসব ধারায় যাবজ্জীবনসহ মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই তালিকা অনুসারে বরিশাল বিভাগের সাত কারাবন্দিও দ্রুত বিচারের আওতায় আসছে।

যার মধ্যে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের ১ আসামি, পটুয়াখালীতে ৩, পিরোজপুরে ১, ঝালকাঠিতে ১ ও বরগুনায় ১ জন। কেন্দ্রীয় একটি অনলাইন নিউজপোটালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রকাশ করা সংবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সংবাদ মাধ্যমটি তাদের ওই সংবাদে বছেছে- গত ১৪ সেপ্টেম্বর কারা অধিদফতর থেকে দেশের ৬৮টি কারাগারের মধ্যে ৫৬টি কারাগারে বন্দি থাকা ৫৪২ জন আসামির একটি তালিকা পাঠানো হয়। যারা হত্যা ও নারী নির্যাতনসহ গুরুতর অভিযোগের মামলার আসামি।

এসব মামলায় তারা দীর্ঘ ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধীন এসব মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে আসামি ও বাদী, উভয়পক্ষই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিচার-প্রক্রিয়া শেষ করা গেলে আসামিদের কেউ মুক্তি পেতে পারে, কারও হতে পারে সর্বোচ্চ শাস্তিও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা শাখা থেকে গত ১৯ অক্টোবর আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, দেশের ৫৬টি কারাগারে বিচারাধীন মামলায় কারাবন্দি ৫৪২ জন। তাদের বিচার কাজ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে অনুরোধ জানায়। গত আগস্টের হিসাব অনুযায়ী দেশের ৬৮ কারাগারের মধ্যে ৫৬টি কারাগারে পাঁচ বছরের বেশি বন্দি রয়েছে ৫৪২ জন।

এরমধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৮ জন, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ ৮ জন, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ ৬৫ জন, কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১ জন, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে ৩৫ জন, ফরিদপুর জেলা কারাগারে ৫জন, টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে ৩ জন, কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে ৯ জন, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ৩৭ জন, নরসিংদী জেলা কারাগারে ৬ জন ও মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ৩ জন রয়েছেন। রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, পিরোজপুর, নাটোর, ঝালকাঠি ও হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে ১ জন করে, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ও বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে ১ জন করে ও মাদারীপুর, নওগাঁ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বরগুনা ও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারে ২ জন করে আসামি রয়েছেন।

ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে ৩০ জন, শেরপুর জেলা কারাগারে ৩ জন, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৫ জন, পাবনা জেলা কারাগারে ৫ জন, বগুড়া জেলা কারাগারে ৫ জন, সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে ৫ জন, জয়পুরহাট জেলা কারাগারে ৫ জন, গাইবান্ধা জেলা কারাগারে ৩ জন, কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে ৩ জন, লালমনিরহাট জেলা কারাগারে ৪ জন, নীলফামারি জেলা কারাগারে ৭ জন, দিনাজপুর জেলা কারাগারে ৬ জন, ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে ৫ জন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ৯১ জন, কক্সবাজার জেলা কারাগারে ২৮ জন, খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে ১০ জন, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৪ জন, চাঁদপুর জেলা কারাগারে ৫ জন, নোয়াখালী জেলা কারাগারে ৭ জন, ফেনী জেলা কারাগারে ৩ জন, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৯ জন, মৌলভী জেলা কারাগারে ১১ জন, সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে ৪ জন, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ৪ জন, খুলনা জেলা কারাগারে ১৩ জন, সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে ৯ জন, ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ১০ জন, চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে ১১ জন ও পটুয়াখালী জেলা কারাগারে ৩ জন আসামি রয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কারা অধিদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক প্রিজন্স (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি তালিকা পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’ তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিচারাধীন এসব মামলার বিচার-প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হলে আসামি ও বাদী উভয়পক্ষের জন্যই ভালো হবে। গুরুতর অভিযোগের এসব মামলায় কেউ খালাস পেতে পারে, আবার কারও সর্বোচ্চ শাস্তিও হতে পারে।’’