কাঠ ও কলাগাছের শহীদ মিনারে কাউখালীর শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশেই নেই কোনো শহীদ মিনার। ভাষা আন্দোলনের ৭২ বছরেও এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না ওই সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৬৭টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৪-৫টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকলেও বাকী বিদ্যালয় গুলোতে নেই কোনো শহীদ মিনার।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। প্রতি বছর ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কাঠ, কলাগাছ, বাঁশ ও ইট দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে সাদা কাগজ দিয়ে মোড়ানো অস্থায়ী শহীদ মিনারে শহীদ দিবস পালন করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বদরপুর, বাশুরী, সুবিদপুর, চিরাপাড়া এম ই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজেরা খাতুন মেমরিয়াল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কোনো শহীদ মিনার নেই। এসব স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কলাগাছ ও কাঠের তৈরি শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

ওই এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী জানান, শহীদ মিনার না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জন্য শিক্ষার্থীরা ইট বা কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে। অনেক স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা কাঠের তৈরি ছোট্ট একটি শহীদ মিনার তৈরি করে তা শ্রেণি কক্ষের টেবিলের উপরে রেখে তাতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এ ছাড়া ১৯ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪টিতে কোনো শহীদ মিনার নেই। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কলাগাছের তৈরি শহীদ মিনার তৈরি করে। উপজেলায় ১২ মাদরাসা থাকলেও এর কোনোটিতেই শহীদ মিনার নেই। তবে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদদের স্মরণ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

কাউখালী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত রায় জানান, বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল ও জায়গা না থাকায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার তৈরি করা যাচ্ছে না। কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিবুর রহমান বলেন, শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য সরকারি কোনো তহবিল নেই। তবে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ জরুরি। এর জন্য নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণ করতে বলা হয়েছে।