বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় : ড. এ কে আজাদ চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেছেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের যে প্রান্তেই সৃষ্টি হোক না কেন তার কাজ হচ্ছে জ্ঞানের প্রজ্বলন করা। জ্ঞান সৃষ্টি করা।

মানবতার উন্নয়ন ঘটিয়ে অনেক উচ্চ স্তরের সমাজ গড়ে তোলা। কোনো খণ্ডিত পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিবেচনা করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় যখন সৃষ্টি হয় তখন তার জ্ঞানের কোনো পরিসীমা থাকে না। বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আলোচনা সভায় প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী আরও বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এর মান রক্ষার দায়িত্ব এখানকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় একদিন নিজেকে নিয়ে যাবে ঈর্ষান্বিত পর্যায়ে। একদিন আমরা গর্ব করে বলতে পারব বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ড. গুলশান আরা লতিফা এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবির।

রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন এবং ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার, বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট আরিফ হোসেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তারেক মাহমুদ আবীর, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি বাহাউদ্দিন গোলাপ, গ্রেড ১১-১৬ কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নূরউদ্দিন এবং গ্রেড ১৭-২০ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আরিফ সিকদার।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, প্রক্টর, প্রভোস্ট, পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, দপ্তরপ্রধান, কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ অন্যান্য অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। এর আগে সকাল ১১ টায় প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য অতিথিরা বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন করেন।

পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অতিথিরা। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাসের মুক্ত মঞ্চ থেকে একটি আনন্দ র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।

এছাড়াও স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং বিকেলে মুক্তমঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হয়। ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার কর্নকাঠী এলাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্থর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদের ২৫টি বিভাগে ১০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।