কৃত্রিম সংকটে বেড়েছে মুরগির দাম, কেজিতে ২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: রমজানকে সামনে রেখে একদল অসাধু ব্যবসায়ী মাংসের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। ফলে কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি গরুর মাংস এবং নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের সাধারণ মানুষের প্রাণিজ আমিষের বড় উৎস ডিমও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

তবে শীতের শেষ সময়ে এসে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। মৌসুম জুড়ে চড়া দামে বিক্রি হলেও শেষ সময় হওয়ায় সব ধরনের সবজি সহনীয় পর্যায়ে আসতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে মুরগির চাহিদা বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি পড়ায় ব্রয়লারসহ সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে। যদিও রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই তা স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে দাবি করেন তারা।

সরেজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লারসহ সব ধরনের মুরগির মাংসে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা। গত সপ্তাহের শুরুতে এরকম দামে বিক্রি হলেও মাঝে ২০ টাকা কমে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হয়েছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। তবে কোনো কারণ ছাড়াই আবারও মুরগির দাম বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন ক্রেতারা।

পাশাপাশি এখন গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা গরুর মাংস বিক্রি করেছেন ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। এরপর থেকে বাজারে গরুর মাংসের দাম বাড়ছিল। ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিতে অন্তত ৫০ টাকা বেড়েছে।

শান্তিনগর বাজারের বিক্রমপুর ব্রয়লার হাউজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু কালাম বলেন, বাচ্চা ও খাবারের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ কম হওয়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। তবে রোজা শুরু হলে মুরগির দাম কমে আসবে। মুরগির মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম। ফার্মের ডিম খুচরায় প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।

রাজধানীর মগবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হাবিব বলেন, ‘বাজারে সব ধরনের মাছ-মাংসের দাম বাড়তি হলেও আজ (গতকাল) সবজির দাম কম দেখা যাচ্ছে। এমন দাম থাকলে, তাও কিছু কিছু সবজি আমরা কিনে খেতে পারি। সবজির দাম কম হলেও অন্য সব নিত্যপণ্যের দাম বেশি। ফলে সেগুলো কিনতে হিমশিম খেতে হয়।’

এদিকে আগে থেকে তেতে থাকা মাছের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি সাগরের পোয়া ১৮০ থেকে ২২০, নদীর পোয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। প্রতি কেজি চন্দনা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা, পাঙাশ ২১০-২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২২০ টাকা ও চাষের কই ১২০-৪০০ টাকা।

এ ছাড়া প্রতি কেজি রুই আকার ভেদে ৩৫০-৪৪০, কাতল ৩০০-৫০০, টেংরা ৪৮০-৫০০, ছোট কাঁচকি ২৬০-৪০০, পাবদা ৩৮০-৫৫০, ছোট সাইজের বেলে (ছোট) কেজি ২৩০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে রোজার আগে সরকার সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমিয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজসহ অন্যান্য জরুরি পণ্যের দাম কমার লক্ষণ নেই।