নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: দেশি-বিদেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলেও নির্বাচন নিয়ে মানুষের অনাস্থা দূর করা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত এই এমপি বলেন, নানা জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এই নির্বাচনটি হয়ে যাওয়া দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং অসাংবিধানিক ধারার বিরুদ্ধে বিশেষভাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক বিজয়। তবে এ কথা সত্য যে, নির্বাচন সম্পর্কে জনমানুষকে যে অনাস্থাবোধ তা দূর করা যায়নি।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মেনন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

মেনন বলেন, কালোটাকার প্রভাব, বিশেষ সংস্থার নিয়ন্ত্রণ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব, শহরাঞ্চলগুলোতে ভোটারদের নগণ্য উপস্থিতি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করেছে। কিন্তু তা কোনোক্রমেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না। আমাদের সামনে সাম্প্রতিক পাকিস্তানের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাকিস্তানের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘লন্ডন ষড়যন্ত্র’ বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশের নির্বাচনকেও একই পরিণতি বহন করতে হতো।

এ সময় সংসদ বৈচিত্র্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মেনন। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের হার অনেক বেশি রয়েছে। ফলে নতুন নতুন রীতির সম্মুখীন হওয়া প্রাসঙ্গিক। এটার জন্য সংসদের জন্য সৌন্দর্য যাতে নষ্ট না হয়।

আওয়ামী লীগের দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যবস্থাটা রাজনীতিতে কি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে সেটা দেখার বিষয় বলে উল্লেখ করেন মেনন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার কথা বলছেন। এ ব্যবস্থায় ধনীরা থাকবেন, মধ্যবিত্ত, সাধারণ মানুষ নয়। সেই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যানের জন্য জমানত ১ লাখ টাকা এবং ভাইস চেয়ারম্যানে ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা করতে চাইলে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। না হলে উপজেলা নির্বাচনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ হবে না বলে মনে করেন মেনন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ছিল উল্লেখ করে মেনন বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের নামে ভিসানীতি, শ্রমিক অধিকার নীতি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে আসছিল। এই পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তখনই বলেছিলাম অবাধ নির্বাচন নয়, সরকার পরিবর্তনই তাদের লক্ষ্য। এদেশে তাদের স্বাভাবিক সহযোগি ছিল বিএনপি-জামায়াত। তারা দেশের অভ্যন্তরে সরকার পতনের আন্দোলনের নামে সব ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করার প্রয়াস নিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও জনগণের প্রতিরোধ তাদের সকল ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিয়েছিল।

সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা বলে উল্লেখ করেন মেনন। তিনি বলেন, বাজার সিন্ডিকেট না ভাঙ্গার কোনো কারণ নাই। কারণ কারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে সরকারের তা জানা। অন্য দলকে এ ব্যাপারে দোষ দিয়ে লাভ নেই। নিজের মানুষের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা এ ব্যাপারে গণ-বণ্টন ব্যবস্থার পূর্ণ রেশনিং চালু করার কথা বলেছিলাম। সরকারকে বিষয়টা আরেকবার বিবেচনার জন্য বললাম।

রোহিঙ্গা সমস্যা খুবই প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করে। মানবতা থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও তারা আজ বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রতি প্রত্যক্ষ হুমকিতে পরিণত হয়েছে। মায়ানমারের গৃহযুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের ওপর পড়ছে। এই হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষা করা আজ কর্তব্য।

সামনের চ্যালেঞ্জগুলো অতি কঠিন উল্লেখ করে মেনন বলেন, কোনো একক দলের পক্ষে এটা মোকাবিলা সম্ভব নয়। প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ সংগঠিত করা। শত্রু সাম্রাজ্যবাদ-মৌলবাদ। এ ব্যাপারে কোনো দ্বিধা থাকলে এখনই ঝেড়ে ফেলুন, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ জয়ী হবেই।’