নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে জাকারিয়া হোসেন সম্রাট (১৭) নামে এক কিশোরকে হত্যার পর মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে তারই বন্ধু রিফাত হোসেনের (১৭) বিরুদ্ধে।

শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক। তিনি বলেন, মূলত একটি ক্যামেরাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। সকালে নিহত কিশোরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাটি গ্রামে রিফাতের প্রতিবেশী মতিয়ার রহমানের বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সম্রাটের উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত রিফাত সাঘাটা উপজেলার পশ্চিম বাটি গ্রামের মিলন হাজারীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রিফাত ও সম্রাট বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুবাদে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। তারা দুজনেই অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। সম্প্রতি রিফাত জুয়া খেলায় টাকা জোগাড় করতে তার শখের ডিএসএলআর ক্যামেরাটি সম্রাটের কাছে বন্ধক রাখে।

কিছুদিন পর রিফাতের কাছে সম্রাট ক্যামেরা বাবদ বন্ধকি টাকা ফেরত চাইলে রিফাত দিতে না পাড়ায় সম্রাট ক্যামেরাটি অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। বুধবার (১৭ এপ্রিল) রিফাত টাকা জোড়ার করে ক্যামেরা ফেরত চাইলে সম্রাট সেটি বিক্রি করে দিয়েছে বলে জানায়। এতে ক্ষুব্ধ রিফাত পরদিন কৌশলে সম্রাটকে তার বাড়িতে ডেকে এনে কোমল পানীয়তে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার পর নিথর মরদেহ প্রতিবেশীর সেফটি ট্যাংকে ফেলে রাখে।

এদিকে, সম্রাট রিফাতের খোঁজে গিয়ে আর বাড়ি না ফেরায় বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সাঘাটা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে সম্রাটের পরিবার। পরে জিডির সূত্র ধরে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) পুলিশ রিফাতকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এক পর্যায়ে রিফাত বন্ধু সম্রাটকে হত্যার পর মরদেহ সেফটি ট্যাঙ্কে ফেলেছে বলে স্বীকার করে। এ ঘটনায় সম্রাটের মা মিনি বেগম বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত রিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।