নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জমি নিয়ে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মসজিদ কমিটির বিরোধে তিন দশকের পুরোনো মসজিদটির উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে মসজিদে নামাজ পড়া মুসল্লিদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

১৯৮৫ সালে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থাপনের সময় ব্যবসায়ী, যাত্রী ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের জন্য স্থানীয় উদ্যোগে টিনের ছাপড়ার এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। পরে মসজিদ ঘেঁষে বিআরটিসি বাস ডিপো ও পেট্রল পাম্প স্থাপিত হয়।

৩৯ বছরে নানা উন্নয়নে বাস টার্মিনাল এলাকার দৃশ্যপট বদলালেও মসজিদটি অনুন্নতই রয়ে গেছে। মসজিদের জমির মালিকানা দাবি করছে বিআরটিসি ডিপো কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে কমিটির বিরোধের জেরে মসজিদের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।

মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, বৃষ্টি হলে মুসল্লিদের সমস্যায় পড়তে হয়। চলতি মাসে কয়েকবার বৃষ্টির পানি প্রবেশ করায় ওয়াক্তের নামাজ বন্ধ রাখতে হয়। গত কয়েকটি রমজানে তারাবি নামাজ পড়তেও সমস্যা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মসজিদ প্রতিষ্ঠা কমিটির আহ্বায়ক শেখ শামসুল আলম মিলন বলেন, বাস টার্মিনাল প্রতিষ্ঠার পর ওই এলাকায় মসজিদ ছিল না। তখনকার পরিত্যক্ত জমিতে স্থানীয়রা উদ্যোগী হয়ে ১৯৮৫ সালে প্রথমে পাঞ্জেগানা মসজিদ করেন।

১৯৯৯ সালে বিআরটিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান সফরে এলে তাঁর অনুমতিতে মসজিদে জুমা চালু করা হয়। তখন বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছিল, তারা মসজিদ উন্নয়ন ও ইমামের বেতন বহন করবে। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। যে কারণে টার্মিনালের ব্যবসায়ী, পথচারী ও যাত্রীরা জরাজীর্ণ মসজিদে নামাজ আদায় করে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মো. সাঈদ খান সাংবাদিকদের বলেন, উন্নয়নকাজ করতে গেলেই বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়। কয়েক যুগ ধরে এভাবেই চলছে। বৃষ্টির পানির প্রবেশ ঠেকাতে সম্প্রতি ভিটি উঁচু করার কাজ শুরু করলে বাধার মুখে বন্ধ হয়ে যায়। সাঈদের দাবি, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমিতে মসজিদ করেছেন। পরে জরিপে মসজিদের নামে ১০ শতাংশ জমি রেকর্ড করা হয়। বিআরটিসির মালিকানা দাবির ভিত্তি নেই।

বরিশাল বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি অসীম দেওয়ান সাংবাদিকদের বলেন, এটি টার্মিনালের সবচেয়ে পুরোনো মসজিদ। বিআরটিসি ডিপোর সঙ্গে বিরোধের জেরে উন্নয়ন না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি এ সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিআরটিসির ডিপো ব্যবস্থাপক মো. জামাশেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, মসজিদটির উন্নয়ন তাঁরাও চান। যেহেতু জমির মালিক বিআরটিসি, তাই তাদের তত্ত্বাবধানেই উন্নয়ন হতে হবে।