নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ঘূর্ণিঝড় রিমালের অগ্রভাগ আঘাত হেনেছে বাংলাদেশের উপকূলে। এর প্রভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন কুয়াকাটার বাসিন্দারা। তাই পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় অবস্থানরত সব পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সব আবাসিক হোটেলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেওয়া হয়েছে। কুয়াকাটায় থাকা যেকোনও পর্যটক অথবা স্থানীয়রা এখানকার যেকোনও হোটেলে গিয়ে আশ্রয় নিতে পারবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মোতালেব শরীফ বরিশালটাইমসকে বলেন, উপকূলবর্তী এলাকা হওয়ায় প্রতি বছরই ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। তাই উপকূলের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে কুয়াকাটার বহুতল আবাসিক হোটেলগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেওয়া হয়। প্রতিবারের মতো এবারও সব আবাসিক হোটেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কলাপাড়া আবহাওয়া অধিদফতরের ইলেকট্রনিক প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অ্যান্ড পিবিও আব্দুল জব্বার শরীফ বরিশালটাইমসকে বলেন, শনিবার থেকে বেড়েছে বৃষ্টি ও বাতাসের তীব্রতা। রবিবার সকাল থেকে ভারী বর্ষণ, বাতাস ও সাগর নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জলোচ্ছ্বাসে কয়েক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তাই সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে বলা হয়েছে।

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ পুলিশ রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বরিশালটাইমসকে বলেন, এই মুহূর্তে কুয়াকাটা অবস্থানরত সব পর্যটকের নিরাপত্তার নিশ্চিত করেছি। পাশাপাশি কুয়াকাটার সব আবাসিক হোটেল আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করার পর থেকে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য আমরা মাইকিং করছি। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় টুরিস্ট পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বরিশালটাইমসকে বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। কন্ট্রোল রুম, মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হলে দ্রুত গাছ অপসারণের জন্য আলাদাভাবে ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হবে। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগর পার্শ্ববর্তী পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সব আবাসিক হোটেলকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে।