নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। এ অবস্থায় পায়রা বন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। ঘূর্ণিঝড় প্রভাবে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। থেমে থেমে বৃষ্টি এবং বাতাসের গতিবেগ বাড়তে থাকায় সমুদ্র উপকূলের মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকেই জানমাল নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটছেন।

হঠাৎ করে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অপেক্ষাকৃত নিম্নাঞ্চল অনেকটা প্লাবিত হয়ে যায়। এতে বাসা-বাড়ি, দোকান-পাটে ঢুকে পড়েছে পানি। বিশেষ করে ওয়াপদা বেঁড়িবাধের বাইরে শত শত পরিবার পানির কারণে বাড়িঘর ছেড়ে সড়কের উপর আশ্রয় নিয়েছিল।

এদিকে, সমুদ্রের ঢেউয়ের তোড়ে শরীফ (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার দুপুরে কলাপাড়া উপজেলার ধূলাসর ইউনিয়নের কাউয়ারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া বেলা দেড়টার দিকে পৌর শহরের ইসমাইল হোসেন তালুকদার টেকনিক্যাল কলেজ সংলগ্ন এলকায় মৃত বাদল চন্দ্র ডাকুয়ার বসতবাড়ির উপর একটি চাম্বল গাছ পড়ে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
অপরদিকে, কলাপাড়া থেকে সকল প্রকার নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেমালের প্রভাবে পৌরশহরে মানুষের আনাগোনা ছিল কম। তবে রিকশা, অটোরিকশা তেমন একটা দেখা যায়নি। মানুষ ছিল অনেকটা ঘরমুখো।

জানা যায়, এ উপজেলায় মোট ১২টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা রয়েছে। এরমধ্যে লালুয়া, চম্পাপুর, ধানখালী, খাপরাভাঙ্গা, নীলগঞ্জ ও ধুলাসার ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকাগুলো অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া কলাপাড়া পৌর শহরের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন আন্ধারমানিক নদীর পাড়ের মানুষগুলো অত্যান্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। জোয়ারের পানি অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে এ সকল এলাকায়। ভোর থেকে উপজেলা জুড়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে দমকা হাওয়া বইছে। কিছু কিছু জায়গায় গাছপালা উপরে পড়েছে।

উপজেলার প্রতিটি মানুষের মাঝে থমথমে ভাব বিরাজ করছে। পৌর শহরসহ প্রতিটি ইউনিয়নের বাজার ঘাট দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, উপকূলীয় মানুষদের আশ্রয়ের জন্য ১৫৫টি আশ্রয় কেন্দ্র ও ২০টি মুজিব কেল্লা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা পরিষদ।’