নলছিটি: নলছিটি উপজেলার সন্ত্রাস কবলিত অশান্ত জনপদ সিদ্ধকাঠীর ত্রাস রনি গ্রুপের প্রধান রনি কাজীকে (৩৫) গ্রেফতারের পর এলাকায় শান্তি ফিরেছে। গ্রেফতারের পর এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে।

 

রনি কাজীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার দুপুরে সিদ্ধকাঠী স্কুলের সামনের সড়কে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে,স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির মদদে এখানে চলে সন্ত্রাসের লালন-পালন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এলাকার কয়েকজন উঠতি সন্ত্রাসীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে সন্ত্রাস কবলিত সিদ্ধকাঠীর নিরীহ জনসাধারণ। সম্প্রতিকালে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে অশান্ত ও উত্তপ্ত হয়ে উঠে সিদ্ধকাঠীর জনপদ।

 

ফলে নিরীহ জনগন আতংকের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছিল। গত ২৫ মে সকালে সিদ্ধকাঠী এলাকায় অভিযান চালিয়ে রনি কাজীকে গ্রেফতার করে নলছিটি থানার চৌকস পুলিশ অফিসার এএসআই শামীমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল।

 

রনি কাজীকে গ্রেফতারের পর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপে সিদ্ধকাঠী এখন  শান্তির জনপদে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জের ধরে ২৩ মার্চ রাত ১০টার দিকে মানপাশা বাজার এলাকায় অভয়নীল গ্রামের জালাল জোমাদ্দারকে (৫০) ধারালো হত্যার উদ্দেশ্যে ধারলো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে রনি কাজী ও তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসীরা। এ সময় সন্ত্রাসীরা  নগদ ৭০ হাজার ৭২৫ টাকা ও ৪৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

 

জালাল জোমাদ্দারের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় জালাল জোমাদ্দারের ছেলে রুবেল জোমাদ্দার বাদী হয়ে  রনি কাজী সহ ৭জনকে আসামী করে নলছিটি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার এড়াতে মামলা দায়েরের পর কিছুদিন আত্মগোপন থাকে রনি কাজী।

 

সম্প্রতি এলাকায় ফিরে মামলার বাদী রুবেল জোমাদ্দারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি ধামকি দেয় রনি কাজী। গত বুধবার সকালে রনি কাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিকে এলাকার চিহ্নিত বখাটে রনি কাজীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিদ্ধকাঠীর জনপদ। শনিবার দুপুরে সিদ্ধকাঠী স্কুলের সামনের সড়কে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।