বরিশাল: অবশেষে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় জেলখাল সংলগ্ন সেই সড়কটির আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক। গতকাল মঙ্গলবার শতাধিক জনতার উপস্থিতিতে দোয়া মোনাজাত করে খাল সংলগ্ন সড়কে দাড়িয়েই উদ্বোধন করলেন। এসময় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মানিক বীর প্রতীক এবং প্রফেসর মো. হানিফ।

এদিকে ঘটা করে জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান সড়কটি উদ্বোধন করলেও একমাথায় দেয়াল নির্মানের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন এক ছাত্রলীগ নেতা। ইতিমধ্যে ওই ছাত্রলীগ নেতার উদ্যোগ সফল করতে নথুল্লাবাদ ব্রীজ সংলগ্ন সড়কটির মাথায় বেড়া দিয়ে আটকিয়েও দেয়া হয়েছে। অথচ কয়েকদিন আগে খোদ জেলা প্রশাসক সেই ঘটনাস্থলে গিয়ে সেই দৃশ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি ওই ছাত্রলীগ নেতাকে জনভোগান্তি সৃষ্টি হয় এধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থেকে দখল নির্মান কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

কিন্তু জেলা প্রশাসকের নির্দেশ উপেক্ষা করে ওই ছাত্রলীগ নেতা নেপথ্যে থেকে বিপ্লব ওরফে ভোমা বিপ্লব এবং হেমায়েত হোসেন নামে দুই ব্যক্তিকে দিয়ে দখল মিশন বাস্তবায়ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে হাজারো জনতার চলাচলের একমাত্র সহজতর পথটি আটকে দেয়ার পরিকল্পনা তাদের হতাশ করেছে। এমনকি জেলা প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে দখল মিশনে ওই ছাত্রলীগ নেতার লোকজন অনঢ় থাকায় চরম ভোগান্তির কথা ভাবছে স্থানীয়রা।

কারন নথুল্লাবাদ ব্রীজ থেকে সিএন্ডবি রোডে উঠতে সড়কে ওই সড়কটি ব্যবহার করে প্রতিদিন ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ব্রীজ সংলগ্ন সেন্ট্রাল পয়েন্ট নিউ মার্কেটের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ওই সড়কটি দখলে অনেক আগে থেকেই টার্গেট নিয়েছিলো ওই ছাত্রলীগ নেতা। কিন্তু বরিশাল জেলা প্রশাসন খাল উদ্ধারে সোচ্চার থাকায় তিনি আর পেরে উঠছিলেন না। এমতাবস্থায় কিছুদিন নিশ্চুপ থাকার পরে ওই ছাত্রলীগ নেতা ফের দখল মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। ব্রীজ সংলগ্ন সড়কটির মাথায় দেয়াল দিয়ে আটকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অবশ্য প্রস্তুতিস্বরুপ সেখানে ইট-বালু মজুদ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। তা ছাড়া রাতের আধারে ওই সড়কে একটি বেড়া দিয়ে আটকানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও ওই ছাত্রলীগ নেতা প্রকাশ্যে না এসে বিপ্লব এবং হেমায়েতকে দিয়েই সকল কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিনিময়ে বিপ্লবের সাথে হয়েছে সন্ধিচুক্তি।

সড়কটির মাথা আটকে তিনটি দোকান নির্মান করা হলে একটি দেয়া হবে তাকে। পাশাপাশি হেমায়েতকেও সেই দোকানের পাশেই ব্রীজের ঢালে একটি চায়ের দোকান দিয়ে দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন ওই ছাত্রলীগ নেতা। ছাত্রলীগ নেতার দাবী সড়কটির মাথাসহ আরো কিছু জমি জেলা পরিষদের কাছ থেকে তিনি বন্দোবস্ত নিয়েছেন। তার সেই জমিতে দোকানও ছিল। কিন্তু জেলা প্রশাসন সম্প্রতি জেল খাল উদ্ধারের নামে ভেঙ্গে দিয়ে রাস্তা করে দিয়েছে। এমনকি সেখানে তার একটি ওয়েষ্টার্ন ফার্মেসি নামে দোকানও রয়েছে বলে জানান তিনি।

অথচ স্থানীয়রা জানিয়েছে ওই ছাত্রলীগ নেতা অবৈধভাবে বরিশাল জেলা পরিষদের জমি দখল নেয়ার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। যা সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়। এসময় নথুল্লাবাদ ব্রীজ থেকে সিএন্ডবি রোডে উঠতে সহজতর যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে জেলা প্রশাসন খালের পাড় দিয়ে সড়কটি উন্মুক্ত করে দেয়। এখন জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই ওই ছাত্রলীগ নেতা বিপ্লব এবং হেমায়েতকে দিয়ে সড়কটি বন্ধের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল সড়কটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনকালে সেই চিত্র দেখে জেলা প্রশাসক ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এমনকি সড়ক বন্ধে পায়তারা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। নতুবা অভিযান চালিয়ে সব উচ্ছেদ করে দেয়া হবে বলে জেলা প্রশাসক উপস্থিত অতিথিদের বিষয়টি অবহিত করেছেন।’