স্ত্রী হিসেবে গ্রহণের দাবি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে প্রেমিক মাহবুবের বাড়িতে অবস্থান করছেন প্রেমিকা কলেজছাত্রী জোৎস্না বেগম (২০)। স্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এ ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, রাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামপুর গ্রামের জাফর শিয়ালীর মেয়ে ভোলা সরকারি কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী জোৎস্না বেগমের সঙ্গে একই গ্রামের শাহজাহান চৌকিদারের ছেলে মাহবুবুর রহমানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতে উভয়ের মধ্যে শারীরিক সর্ম্পক হয়। তবে প্রেমিক মাহবুবুর রহমান তাদের এ সম্পর্ক অস্বীকার করলে প্রেমিকা জোৎস্না বেগম গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রেমিক মাহবুবের বাড়িতে অবস্থান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

জোৎস্না বেগমের দাবি, তার সঙ্গে মাহবুবুর রহমানের গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে চলা ওই প্রেমের সম্পর্ক একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়। তাদের এ সম্পর্কের কথা উভয় পরিবারসহ এলাকার অনেকেই জানেন বলেও জানান প্রেমিকা জোৎস্না বেগম। তিনি  জানান, স্বামী-স্ত্রীর মতো ওই সস্পর্কের পর প্রেমিক মাহবুবকে বিয়ের কথা বললে মাহবুব এড়িয়ে গিয়ে বলে, ‘আমি কোনো  চাকরি-বাকরি করি না। আমি বেকার। তাই আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না।’

জোৎস্না বেগম বলেন, “মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রেমিক মাহবুবকে ফোন দিলে সে আর ফোনও রিসিভ করছে না। তাই বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রেমিক মাহবুবের বাড়িতে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছি।” স্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান চালিয়ে যাবেন বলেও জানান জোৎস্না। অন্যথায় আত্মহত্যারও হুমকি দেন তিনি। এ ঘটনার পর থেকে প্রেমিক মাহবুব এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রেমিক মাহবুবের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “জোৎস্না নামের কোনো মেয়েকে আমি চিনি না। তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্কও ছিল না। এ ছাড়া কোনো মেয়ে আমার বাড়িতে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছে বলেও আমি দেখিনি। প্রেমিকার এ দাবি অস্বীকার করে প্রেমিকের চাচা স্থানীয় ইউপি মেম্বার ইমাম হোসেন চৌকিদার বুধবার দুপুরে বলেন, “দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে কোনো ছেলে-মেয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা নয়। এটা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

এ ব্যাপারে জানতে রাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিঠু চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন দিলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মীর খায়রুল কবির বলেন, “এ ধরনের কোনো খবর কেউ আমাদেরকে জানায়নি।”