বরিশাল: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার দাসের হাট এলাকার মসজিদ পয়েন্টে সন্ধ্যা নদীতে ডুবি যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চটি (এমএল ঐশী) উদ্ধার হয়েছে। লঞ্চের ভেতর থেকে ৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এখনো ১০ জন নিখোঁজ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নির্ভীক’ লঞ্চটি পানির উপর টেনে তোলে। এর আগে ভোর ৪টায় বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন শিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, লঞ্চটি উপরে টেনে তোলার পর ভেতর থেকে ৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- দাসেরহাটের মসজিদ বাড়ী এলাকার আ. মজিদের স্ত্রী রহিমা বেগম (৬০), বানারীপাড়ার সৈয়দকাঠীর আবুল ঘরামীর ছেলে মিলন ঘরামী (৪৫), সাতবাড়িয়া এলাকার আলম মীরের ছেলে সাগর মীর (২০), মজিবর রহমানের স্ত্রী কহিনুর বেগম (৪০), আ. মজিদ হাওলাদারের স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৫৫), মসজিদ বাড়ী এলাকার মুজাম্মেল মোল্লা (৬০), মৃত চান্দু মিঞার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৪৫), জিরাকাঠীর আ. রহিমের স্ত্রী রেহেনা বেগম (৩০) এবং উজিরপুরের সিরাজুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে জয়নাল হাওলাদার (৫৫), সিদ্দিকুর রহমান মোল্লার শিশু মেয়ে শান্তা (১১), মনিন্দ্রনাথ মল্লিকের ছেলে সুখদেব মল্লিক (৩৫), কেশবকাঠী এলাকার মৃত ওয়াজেদ হাওলাদারের ছেলে ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আ. রাজ্জাক (৭৫), পিরোজপুরের স্বরুপকাঠীর কামাল হোসেনের স্ত্রী হিরা বেগম (২৫) ও মনোয়ারা।

বৃহস্পতিবার সকালে লঞ্চের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো-সাফওয়ান (৩), রিয়াদ (৪), মাফিয়া আকতার (৩) ও মাইশা (৪)।

ঘটনাস্থলে পুলিশের খোলা কন্ট্রোলরুম সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ১০ জন নিখোঁজ রয়েছে। তারা হলেন- নিহত মিলন ঘরামীর স্ত্রী খুকুমনি (২৫), ফিরোজা বেগমের স্বামী আ. মজিদ হাওলাদার (৪৫), উজিরপুরের খলিল হাওলাদারের স্ত্রী হামিদা বেগম (৪০) ও তার ছেলে নাফফি (৯), মনিশংকরের স্ত্রী কল্পনা রানী (২৫), উজিরপুরের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে রাফি (৭), বানারীপাড়ার আলমগীর হোসেনের মেয়ে মারিয়া বেগম (৩), মালেক সরদারের ছেলে রুহুল আমিন (৩০), মুজা মোল্লা (৬২) ও দিদার (০৭)।