সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নামের অভিযান পরিচালনার দাবি কিংবা ভারতজুড়ে নেওয়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করে কাশ্মিরের সেনাঘাঁটিকে আবারও হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে জঙ্গিরা। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, জম্মু ও কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগরের ৫০ কিলোমিটার দূরে বারামুল্লাহ শহরে সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের দুটি ক্যাম্পে হামলা হয়। রবিবার রাতের এই হামলায় বিএসএফের এক সদস্য নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছেন।

 
বারামুল্লাহ জেলারই উরি সেনাছাউনিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় ১৯ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে আবারও এমন ঘটলো। এই হামলাটি এমন সময় হলো, যখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, বুধবার রাতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের সেনারা সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছে। ওই অভিযানে ৯ পাকিস্তানি সেনা ও ৩৫ থেকে ৪০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

 

 

পাকিস্তান দাবি করে আসছে, এটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ছিল না, সীমান্ত সংঘর্ষ বা আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলির ঘটনা ছিল। এতে তাদের দুই সেনা নিহত হয়েছে। দাবির সপক্ষে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। তবে পাকিস্তান ভারতের এই দাবিকে মিথ্যে দম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারাও গণমাধ্যমকে ব্যবহার করতে চাইছে অভিযানকে মিথ্যে প্রমাণের জন্য।

 
দুই দেশের এই সামরিকতার দম্ভ কিংবা আত্মমর্যাদার লড়াইয়ের মধ্যেই রবিবার বারামুল্লাহতে ঝিলম নদীর তীরে পাশাপাশি অবস্থিত ‘৪৬ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস’এর (রাষ্ট্রীয় রাইফেলস ভারতের সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট) ক্যাম্প ও বিএসএফের ক্যাম্পে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিন থেকে চারজন অস্ত্রধারী দুই ভাগে ভাগ হয়ে হামলায় অংশ নেয়। পুলিশ জানায়, সন্ত্রাসীরা প্রথমে ক্যাম্পে গ্রেনেড ছুড়ে মারে। পরে সেনা ও বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে তাদের গোলাগুলি হয়।

 
দ্য হিন্দু নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গোলাগুলিতে এক জওয়ান নিহত আর অপর এক জওয়ান আহত হওয়ার পাশাপাশি দুই হামলাকারী নিহত হয়েছে। ভারতীয় সেনাসূত্রের বরাত দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা গোলাগুলির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ড তাদের টুইটার বার্তাতেও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 
এর আগে শনিবার (০১ অক্টোবর) জম্মু-কাশ্মির সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখা এবং এর আশপাশ ঘিরে চলমান উত্তেজনায় ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশের সেনাপ্রধানের সুরেই যুদ্ধের আভাস পাওয়া গেছে। পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে ভারতের সম্ভাব্য সব রকমের আঘাতের সমুচিত জবাব দেওয়ার হুমকির পর পাকিস্তানের সীমান্তে যুদ্ধপ্রস্তুতির আলামত, এবং এ নিয়ে সেনাপ্রধানের সন্তুষ্টির খবর পাওয়া গেছে।

 

ওদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলের কমান্ড (নর্দার্ন কমান্ড) পরিদর্শন করতে গিয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধান যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেগুলোও যুদ্ধের প্রস্তুতিকেই ইঙ্গিত করে। দুই দেশের সীমান্তে সেই যুদ্ধের আলামতও পাওয়া গেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্থান টাইমস, রয়টার্স, এনডিটিভি, দ্য হিন্দু