নিজস্ব বার্তা পরিবেশক:: ইলিশ সংরক্ষণে প্রধান প্রজনন মৌসুম ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর ২২ দিন সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) প্রথম দিনেই বরিশাল নগরীর ইলিশ মোকাম হিসেবে পরিচিত পোর্ট রোড ছিল ইলিশে সয়লাব। তবে সেখানে বেশিরভাগই ছিল ডিমভর্তি মা ইলিশ। এ কারণে নিষেধাজ্ঞায় শতভাগ সফলতা আসেনি বলে দাবি করেছেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা। তাই তারা আরও ১৫ দিন ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা অব্যাহতের দাবি জানিয়েছেন।

মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নীরব হোসেন টুটুল ও ইলিশ ব্যবসায়ী জহির সিকদার সাংবাদিকদের বলেন, নিষেধাজ্ঞা আরও ১৫ দিন অব্যাহত থাকলে যেসব মাছ ডিম ছাড়তে পারেনি সেগুলো ছাড়তে পারতো। এতে মাছের উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে আসতো ইলিশ।

তারা আরও বলেন, মোকামে আসা ১০০ ইলিশের মধ্যে ৮০/৯০টির পেটেই ডিম।

তবে মৎস্য কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, নিষেধাজ্ঞায় ইলিশ প্রজননে শতভাগ সফল তারা। মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বছরে চারবার ডিম দেয় মা ইলিশ। এরমধ্যে দুইবার সরকারিভাবে নদীতে কঠোরতা অবলম্বন করা হয়। তাতেই আমাদের টার্গেট থেকে বেশি ইলিশ উৎপাদন হচ্ছে। আর এখন যে ইলিশ আসছে তার বেশিরভাগের পেটে ডিম নেই। তবে ব্যবসায়ীরা যেভাবে দাবি করেছেন, তা ঠিক নয়। কারণ আমাদের বিজ্ঞানিরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি সময় বের করেছেন। ওই সময়ে যে পরিমাণ ডিম ইলিশ নদীতে ছাড়বে তাতেই উৎপাদন বহু গুণ বেড়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি ইলিশ কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ লাখ ডিম দেয়। তাতে করে ২২ দিনে যে পরিমাণ মা ইলিশ নদীতে ডিম ছেড়েছে তাতে মৌসুমে জেলেদের জাল ভরে ইলিশ উঠবে।’

জানা গেছে, এ বছর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মা ইলিশ শিকার করেছে মৌসুমি জেলেরা। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ শিকারের দায়ে ৫৭৩ জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে ৬ মেট্রিক টন ইলিশ ও প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের জাল জব্দ করা হয়।

বরিশাল সদর উপজেলা শায়েস্তাবাদ জেলে সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। গত চার বছরের তুলনায় এ বছর সবচেয়ে বেশি মৌসুমি জেলেরা মা ইলিশ শিকার করেছে।’

খোরশেদ আরও বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জেলেদের যে সহায়তা দেওয়া হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় কম।’ সংসারে কমপক্ষে চার সদস্য যেন ঠিকমতো দু’বেলা ভাত খেতে পারে সে পরিমাণ চাল দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে গত ৮ থেকে ৩০ অক্টোবর রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়। ওই সময় নদী পাহারায় দায়িত্ব পালন করে মৎস্য অধিদফতর, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও র‌্যাব। বিমল চন্দ্র দাস আরও বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন বিভিন্ন নদীতে ৮৬৯টি অভিযান ও ২৬৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মামলা দায়ের করা হয় ৮৬৭টি।

মা ইলিশ শিকারের দায়ে ৫৭৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা আদায় করা হয় ২৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এছাড়া বিভিন্ন সাইজের ইলিশ জব্দ করা হয়, যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ মেট্রিক টন। এছাড়া ৬ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের জাল জব্দ করে তা আগুনে ধ্বংস করা হয়।’