বার্তা পরিবেশক, বরিশাল::  এক তরুণীকে ধর্ষণের দেড় যুগ পর দুই বন্ধুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও দুজনের প্রত্যেককে আরও এক লাখ টাকা করে জরিমানা এবং তা অনাদায়ে চার বছরের জেল দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ৩ নম্বর আসামি নজরুলের স্ত্রী নাছিমা বেগম নাসরিনকে অন্য একটি ধারায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই বছরের দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামিকেও এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকালে আসামিদের অনুপস্থিতিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ ওই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান জানান, ২০০৩ সালের ৯ জুন চাকরির কথা বলে বরিশাল থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া যায় তরুণীটিকে। এসময় লঞ্চের কেবিনে আসামি নজরুল ও সাকিল তাকে ধর্ষণ করে। এরপর তাকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। আসামিদের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে তরুণী তার মাকে বিষয়টি জানালে ওই বছরের ২০ জুন তিন জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন তিনি। ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মাহিয়া খানম ওই তিন জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন। সাত জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরও জানান, নজরুল ও সাকিল আত্মসমর্পণ করলে পৃথক ধারায় দেওয়া দণ্ড একই সঙ্গে কার্যকর হবে। সেক্ষেত্রে শুধু যাবজ্জীবন কারা ভোগ করলেই তাদের দুটি ধারায় দেওয়া কারাদন্ড ভোগ করা হয়ে যাবে।