একই ব্যক্তি বাদী হয়ে পরপর ৫টি মামলা দায়ের করে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ ও তার দিনমজুর পুত্রকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নলছিটি উপজেলার হয়বাৎপুর গ্রামের মৃত্যু আশ্রাব আলীর পুত্র মোঃ রুস্তুম হাওলাদার একই গ্রামের বৃদ্ধ ছত্তার আকন ও তার দিনমজুর (টমটম চালক) পুত্র সোহেল আকনের বিরুদ্ধে ওই ৫টি মামলা দায়ের করেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে মোঃ রুস্তুম হাওলাদার বাদী হয়ে গত বছর ২৯ জানুয়ারী ঝালকাঠী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌ:কা:বি: ১০৭/১১৭(গ) ধারায় এমপি-৪৮/১৫(নল) মোকর্দ্দমা দায়ের করেন। এতে ছত্তার আকন,তার স্ত্রী পিয়ারা বেগম,পুত্র সোহেল আকন,কন্যা রুমা বেগম,ভাইয়ের পুত্র শহীদ হাওলাদার ও তার স্ত্রী সুমা বেগমকে বিবাদী করা হয়। ওই মামলার শোকজ নোটিশ পাওয়ার পূর্বেই মোঃ রুস্তুম আলী হাওলাদার বাদী হয়ে গত বছর ১১ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌ:কা:বি: ১৪৪/১৪৫ ধারায় এমপি-৮০/১৫(নল) মোকর্দ্দমা দায়ের করেন।

 

এই মামলায়ও পূর্বোক্ত ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়। আদালত তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের জন্য নলছিটি থানাকে নির্দেশ দেয়। নলছিটি থানার এএসআই মো: মিজানুর রহমান গত বছর ৩০সেপ্টেম্বর এমপি-৮০/১৫(নল) মামলাটির ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি ও বিরোধীয় সম্পত্তিতে শান্তি শৃংখলা বজায় রয়েছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন। একই রুস্তুম হাওলাদার বাদী হয়ে গত বছর ২৩ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দন্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৪২৭/৩৭৯/৩২৩/৩৫৪/৫০৬(।।) ধারায় সি.আর-৩১/১৫(নল) মোকর্দ্দমা দায়ের করেন। এই মামলায়ও একই ব্যক্তিদের আসামী করা হয়। বৃদ্ধ ছত্তার আকনসহ অপর আসামীরা আদালতের মাধ্যমে জামিনে এলে রুস্তুম আলী গত ২৬ মে নলছিটি থানায় দন্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৫০৬(।।) ধারায় মামলা দায়ের করেন(মামলা নং-১৭)।

 

ওই মামলায়ও একই ব্যক্তিদের আসামী করা হলে আসামীরা আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। পরপর চারটি মামলায় হয়রানির শিকার হওয়ার পর ছত্তার আকন গত ১৬ জুন ঝালকাঠী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এলাকায় মামলাবাজ বলে খ্যাত রুস্তুম আলী গংদের বিরুদ্ধে সি.আর-৬৬/১৬(নল) মামলা দায়ের করেন। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) বরিশাল জেলাকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ প্রদান করলে পিবিআই’র উপ-পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান তালুকদার মামলাবাজ রুস্তুম আলীসহ অন্যান্য আসামীদের বিরুদ্ধে গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করেন।

 

এ প্রতিবেদনের বিষয়টি অবহিত হয়ে রুস্তুম আলী বাদী হয়ে গত ১০অক্টোবর পুনরায় ঝালকাঠী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছত্তার আকনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ১৪৩/৪৪৭/৩৭৯/৪২৭/৫০৬(।।) ধারায় এমপি-১১৪/১৬(নল) মোকর্দ্দমা দায়ের করেন। আদালত নলছিটি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেন। এদিকে রুস্তুম আলী নলছিটি থানায় আবারো এজাহার দায়েরের জন্য ৪/৫দিন যাবৎ ধর্না দিচ্ছেন বলে এসআই জাকির হোসেন জানিয়েছেন। মামলাবাজ রুস্তুম আলীর হয়রানি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বৃদ্ধ ছত্তার আকন সাংবাদিকদের মাধ্যমে ঝালকাঠী পুলিশ বিভাগের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে রুস্তুম আলীর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।