মঞ্চ প্রস্তুত। সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন। আজ রাত সাড়ে ১০টায় খুলনা জেলা কারাগারের এই মঞ্চেই কার্যকর করা হবে দুই বিচারক হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নেতা আসাদুল ইসলাম ওরফে জঙ্গি আরিফের ফাঁসি।

খুলনা জেলা কারাগারের জেলার জান্নাতুল ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফাঁসি কার্যকর করার জন্য কারাভ্যন্তরে মঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে আরিফের সঙ্গে তার স্বজনরা দেখা করে গেছেন। খুলনার সিভিল সার্জন দুপুরে কারাগার পরিদর্শন করেছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য জল্লাদও প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি জানান, আজ বেলা দেড়টায় কারাগারে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আরিফের সঙ্গে ১২ জন স্বজন দেখা করেন। এই স্বজনদের মধ্যে রয়েছেন আরিফের স্ত্রী, দুই মেয়ে, ৬ বোন, ভাইপো, শ্বশুর- শ্বাশুড়িসহ নিকট আত্মীয়রা। তারা বেলা পৌনে ৩টার দিকে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর তাদেরকে কারাগার চত্বরের একটি কক্ষে রাখা হয়।

আরিফের ভাইপো মো. জামাল জানান, আরিফ সুস্থ আছে। তার মনোবল চাঙ্গা রয়েছে। সে মৃত্যুকে বরণ করতে প্রস্তুত রয়েছে। আরিফের স্ত্রী এশবার কারাচত্বরের বাইরে আসেন এবং তিনি বাড়িতে ফোন করে কারও জন্য খাবার প্রস্তুত রাখার জন্য বলেন। ফোনে বলেন, ‘ওরা আমাদের মেহমান। ওদের ভাল করে যত্ন কর।’ এরপর সাংবাদিকরা তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি দ্রুত কারাচত্বরে প্রবেশ করেন।

এদিকে খুলনা জেলা কারাগার এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) মুখপত্র বিশেষ শাখার এডিসি শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, আরিফের ফাঁসির কারণে কারাগার চত্বরসহ এর সামনে ও সড়কের দু’পাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় ফোর্স সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

খুলনা জেলা কারাগারের জেলার জান্নাতুল ফরহাদ আরও বলেন, গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে ঝালকাঠী জেলার সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাঁড়েকে হত্যার দায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। এই রায়ের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসামি জঙ্গি আরিফের ফাঁসি খুলনা কারাগারে কার্যকর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, খুলনা কারাগারে ফাঁসি হবে। তারপরও যশোর ও বরিশাল জেলা কারাগারেও ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে জল্লাদের নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও জানান, রাত সাড়ে ১০টায় ফাঁসির রায় কার্যকর করতে খুলনা কারাগারে সকল প্রস্তুত সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠি জেলার সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাঁড়ের গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করে জেএমবি। ২০০৬ সালের ২৯ মে এ হত্যা মামলার রায়ে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রেজা তারিক আহম্মেদ সাতজনের ফাঁসির আদেশ দেন। ইতোমধ্যে ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। ওই মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জেএমবি নেতা আরিফ ২০০৭ সালের ১০ জুলাই ময়মনসিংহ থেকে গ্রেফতার হয়। এরপর আপিল করে সে। গত ২৮ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ আরিফের রিভিউ আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। জেএমবি নেতা আসাদুল ইসলাম আরিফ ২০০৮ সাল থেকে খুলনা জেলা কারাগারে রয়েছে।

২০০৪ সালের ৯ মে খুলনা জেলা কারাগারে কুখ্যাত খুনি এরশাদ শিকদারের ফাঁসি কার্যকর হয়। এর দীর্ঘদিন পর জঙ্গি নেতা আসাদুল ইসলাম ওরফে আরিফের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে।