২২দিন ডিমওয়ালা ইলিশ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভোলার চরফ্যাশনের জেলেরা অবসর সময়ে জাল বুনার কাজে নিয়োজিত হয়েছেন। শুক্রবার ভোলার চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাটে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। নদীর পাড়ে তাবু টানিয়ে জাল বুনার কাজে ব্যস্ত জেলে কামাল বলেন, ‘সরকারের আইন মেনে ইলিশ শিকার বন্ধ রেখেছি। অবসর সময়ে বাড়িতে মন বসেনা তাই জাল বুনে অলস সময় পার করছি।’

আরেক জেলে মাইনুদ্দিন জানান, তার পরিবারে সদস্য সংখ্যা ১০ জন। মা ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে দিন অতিবাহিত করছেন। এ সময় বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে সরকারের দেয়া বিশেষ ভিজিএফের চাল দ্রুত দেয়ার দাবি জানায় জেলেরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস জানায়, ‘মা ইলিশ রক্ষায় বিশেষ ভিজিএফ হিসেবে উপজেলার ১৬ হাজার একজন জেলের জন্য মাথাপিছু ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ পেয়েছি। যা ১৭ অক্টোবর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যানদের বরাবর ছাড় করা হয়েছে।’

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা (অ.দা.) দীলিপ কুমার কুমার দাস বলেন, ‘বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে পাওয়া চালের ডিও গ্রহণের জন্য আমরা ইউপি চেয়ারম্যানদের সংবাদ দিয়েছি। এখন যে কোনো সময় তারা গুদাম থেকে চাল নিয়ে তা জেলেদের মাঝে বিতরণ করতে পারেন।’

আছলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘তালিকা প্রায় চুড়ান্ত হয়ে গেছে। রবি কিংবা সোমবার জেলেদের মাঝে এ চাল বিতরণ করা যাব বলে আশা করছি।’

চরমাদ্রাজ ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক জমাদারও একই কথা বলেছেন।

উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, এ উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২১ হাজার ছয় শ ২২ জন। এর মধ্যে বিশেষ বরাদ্দের আওতাভুক্ত জেলের সংখ্যা ১৬ হাজার চারজন।

উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মো. নান্নু মিয়া  এবং জাতীয় মৎস্য জীবী সমিতির উপজেলা শাখার সভাপতি খন্দকার নাছির আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিগত দিনে এ চাল বিতরণ কমিটিতে আমাদের সমিতির প্রতিনিধিদের অর্ন্তভুক্ত করা হলেও এবারের কমিটিতে আমাদের সমিতির প্রতিনিধিদের অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি। এ জন্য তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যাবেন।