দেশ ক্রীড়ায় এগিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। ক্রিকেটে বিশ্বমাত করা বাংলাদেশে শুধু ক্রিকেট নয় আর্ন্তজাতিক ক্ষেত্রেও মুখ উজ্জল করে রেখেছে। জাতীয় ছেড়ে বিশ্বে যখন ভাল অবস্থান কেড়ে নিচ্ছে তখনো অবহেলা আর উদাসীনতায় পিছিয়ে রাখা হয়েছে বরিশালকে। অথচ বরিশালে ক্রীড়াঙ্গনের সমস্ত উপাদান বিদ্যমান। কিন্তু কি কারনে বরিশালকে এমন ভিন্ন চোখে দেখা হচ্ছে সে ব্যাপারে উদ্বিগ্ন ক্রীড়মোদীরা। জানা গেছে, জমজমাট ক্রীড়া আয়োজন আর খেলোয়ার তৈরীর প্রবল সম্ভাবনা থাকলেও সরকারের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত দফতর এমন প্রতিবন্ধিত্বর অভিশাপ দিয়ে রেখেছে। যে কারনে অন্যান্য অঞ্চল এগিয়ে গেলেও পিছিয়ে আছে বরিশাল।

 
ক্রীড়ামোদীদের ভাষ্য, পিছিয়ে আছে নয় বরংছ পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তারা এটাকে শত্র“ততার সামিল বলে উদাহরন দিয়েছেন। আর এর পেছনে দায়ী বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা এই প্রতিষ্ঠানের পিছনে গচ্ছা দিলেও বরিশাল থেকে কোন খেলোয়ার তৈরী করতে পারছে না সরকারী এই প্রতিষ্ঠানটি। সরকার দিলেও অভিযোগ রয়েছে বিকেএসপি কেন্দ্রের কয়েকজন পরিচালক পদমর্যাদার ব্যাক্তির হস্তক্ষেপে এমন প্রতিবন্ধি করে ফেলেছে বরিশাল বিকেএসপি। যার কারনে বিগত কোন বছরে বরিশালের খেলোয়ার সুযোগ করে নিতে পারেনি জাতীয় বা আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে।

 
জানা গেছে বিকেএসপি ২০০৭ সালে কার্যক্রম শুরু করে বরিশালে। উদ্দেশ্য আঞ্চলিক পর্যায়ে খেলোয়ার তৈরী করা। কিন্তু শুরু থেকেই মুখ থুবরে আছে। বর্তমানে মাত্র ১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এখানে। প্রতিষ্ঠানটি খেলোয়ার তৈরী করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠা পেলেও খেলোয়ার এমনকি শিক্ষার্থী না বাড়লেও কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে আছে প্রায় দ্বিগুন অর্থাৎ ২৫ জন।

 
এরা সঠিক সময়ে নির্ধারিত বেতন পেয়ে থাকেন ঠিক ঠিক। একই সাথে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরে আছে প্রায় ১০ একর জমি। রোদ-ঝড়-বৃষ্টিতে পরে নষ্ট হচ্ছে মাঠ ও এর সরঞ্জামাদি। মাঝে মাঝে প্রাকটিস ক্যাম্প হলে এসব মাঠ আংশিক ব্যবহৃত হয় আর পুরো বছর এভাবেই পরে থাকে। ফলে শন, লম্বা ঘাস, লতাপাতায় ছোটখাটো জঙ্গল হয়ে আছে প্রাকটিসের মাঠ। আবার কোথাও কোথাও কর্মচারীরা বেগুন, লাউ, শশার ক্ষেত করে চাষাবাদ করছেন। অলস সময়ে এসব করে তারা সময় পার করে থাকেন। অবাক করা তথ্য হল, বিকেএসপিতে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, হ্যান্ডবল, লনটেনিস প্রাকটিসের প্রস্তুত মাঠ পরিত্যাক্ত অবস্থায় আছে। অথচ এসব খেলার অনুমতি নেই বরিশাল বিকেএসপিতে।

 
আঞ্চলিক এই কেন্দ্রে অনুমোদন রয়েছে মাত্র তিনটি খেলার। তাও অলিম্পিকের খেলা। যে খেলাগুলোর নাম কেউ জানে বলেও মনে হয় না। ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সৈয়দ হেদায়েতুজ্জামান বলেন, কারাতে, উষু এবং তাইকোয়ান্ড নামক তিনটি খেলার অনুমতি আছে এখানে। এর বাইরে বরিশাল আঞ্চলিক শাখায় অন্য কোন ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর অনুমতি নেই।

 
অথচ জলবায়ুগত দিক থেকে বরিশাল অঞ্চলের মানুষ ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, লনটেনিস, ভলিবল, হ্যান্ডবল এর মত জনপ্রিয় খেলার সামর্থ রাখে। তেমন কোন সুযোগ কেন্দ্রিয় বিকেএসপি না দেয়ায় ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিবন্দি হয়ে আছে। আঞ্চলিক বিকেএসপি সূত্র জানিয়েছে, এ বছর ১২ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী রয়েছে। কোন কোন বছর এমনও গেছে যে কোন শিক্ষার্থীই ছিল না। শুধুমাত্র ক্যাম্প করা হয়েছে।

 
এদিকে বিকেএসপির এমন দুর্বলতা যেন বাইরে প্রকাশ না পায় সেজন্য অলিখিতভাবে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছেন কর্তৃপক্ষ। বরিশাল বিকেএসপিতে সাংবাদিক প্রবেশ করতে হলে ঢাকায় যোগাযোগ করে অনুমতি প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে প্রবেশ করতে পারে। সরেজমিনে এমন চিত্রই প্রতিয়মান হয়। প্রায় আড়াই ঘন্টা অপেক্ষা করে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি জোটে।
যদিও এখানে একজন উপ-পরিচালক দ্বায়িত্বরত রয়েছেন তবুও সমস্ত কিছু করতে হয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের জয়েন সেক্রেটারী, বিকেএসপির পরিচালক (প্রশাসন) রুহুল আজাদের কথায়। দেখা গেছে সাংবাদিকদের সাথে কি কথা বলবে এবং কতক্ষন কথা বলবে তারও সময় নির্ধারন করে দেন তিনি। তার নির্ধারিত বিষয়ের বাইরে কোন প্রশ্নর জবাব পাওয়া যায় না।
সূত্রের দাবী, কেন্দ্র থেকে শিক্ষার্থী ভর্তিতেও অঘোষিত কোটা দিয়ে দেয়া হয়। যে কারনে বরিশাল বিকেএসপি থেকেও নেই এর পর্যায়ে। এভাবে চলতে থাকলে বিকেএসপি প্রতিষ্ঠার আসল উদ্দেশ্য আঞ্চলিক পর্যায়ে ব্যর্থ হচ্ছে। তৈরী হচ্ছে না কোন খেলোয়ার।

 
এ ব্যপারে ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সৈয়দ হেদায়েতুজ্জামান বলেন, অত্যান্ত নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিকেএসপি পরিচালিত হচ্ছে। এটিও একটি ক্যাডেট প্রতিষ্ঠান। এটি হলো ক্রীড়া ক্যাডেট। সব কিছু ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রিত বিধায় কোন ধরনের অনিয়ম বা দুর্নিতীর সুযোগ নেই। খেলোয়ার তৈরীর প্রশ্নে বলেন, বরিশালে কোন ক্রীড়া সংঘ বা ক্লাব নেই। ফলে খেলোয়ার তৈরী হচ্ছে না। তিনি এই অঞ্চলকে ক্রীড়ায় নিরুৎসাহি অঞ্চল বলে চিহ্নিত করে বলেন বিকেএসপি থাকলেই চলবে না ক্লাব গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। কারাতে, উষু ও তাইকোয়ান্ডে-এই তিনটি বিষয় ছাড়া আর কোন খেলার বিষয় নেই কেন এমন প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারেননি তিনি। বলেন, এটা কেন্দ্রর নির্দেশনা।

 
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের জয়েন সেক্রেটারী, বিকেএসপির পরিচালক (প্রশাসন) রুহুল আজাদের সাথে  যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি অফিস টাইম ছাড়া কোন কথা বলতে পারবো না।
প্রসঙ্গত বরিশালে আর্ন্তজাতিক মানের স্টেডিয়াম ও ঘরোয়াভাবে প্রতি বছর ব্যক্তি পর্যায়ে খেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এমনকি বিকেএসপির ছাত্র না হয়েও ক্রিকেট জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন রাবিক্ষ। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে খেলাধুলায় বেশ অবদান বরিশালের। অথচ সরকারীভাবে কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে এই অঞ্চলকে।