
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:১৬
বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদী থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এ ভাঙন আরও তীব্ররূপ ধারণ করেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে- উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের খেজুরবাড়ি, গোয়াইলবাড়ি ও খোদাবখশা, বাইশারী ইউনিয়নের উত্তরকুল, বাংলাবাজার, নাটুয়ার পাড়, শিয়ালকাঠী, উত্তর নাজিরপুর দান্ডয়াট ও ডুমুরিয়া,সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের মসজিদবাড়ী, সাতবাড়িয়া,পূর্ব জিরারকাঠী, দাসেরহাট, দিদিহার ও নলশ্রী, সদর ইউনিয়নের জম্বুদ্বীপ, ব্রাহ্মণকাঠী ও কাজলাহার এবং চাখার ইউনিয়নের চাউলাকাঠী, চালিতাবাড়ী,
চিরাপাড়া, কালিরবাজার, হক সাহেবের হাট প্রভৃতি এলাকায় ভয়াবহভাবে ভাঙছে সন্ধ্যা নদী। এসব গ্রাম মানচিত্রে থাকলেও বাস্তবে সিংহভাগ নদী গ্রাস করে ফেলেছে। ফলে ভিটেমাটি ফসলি জমি সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব ও রিক্ত হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার।
নদী ভাঙনের কারণে ঝুঁকির মুখে বানারীপাড়ার শিয়ালকাঠী ফেরী ঘাট, উত্তর নাজিরপুর জামে মসজিদ, মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খোদাবখশা দাখিল মাদরাসা, কালির বাজার, জম্বুদ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা।
এর মধ্যে মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দান্ডয়াট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাটুয়ারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসা, উত্তরকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,, নলশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাঙ্গালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খোদাবখশা দাখিল মাদরাসাসহ আরও বেশ কয়েকটি স্কুল-মাদরাসা চার থেকে পাঁচ বার স্থানান্তর করতে হয়েছে।
এমন পরিবারও রয়েছে যারা নদী ভাঙনের কারণে ৪-৫ বার ঘর স্থানান্তর করেও ফের নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। বানারীপাড়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলার বহু এলাকাও পড়েছে সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে।
উজিরপুরের শিকারপুর, দাসেরহাট,,লস্করপুর, চতলবাড়ী ও ডাবেরকুলসহ বহু এলাকায় নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছে শত শত মানুষ। গত আওয়ামী লী সরকারের আমলে স্থানীয় জনসাধারণের বিক্ষোভ-প্রতিবাদ সত্ত্বেও বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে ৬টি ও অন্তর্বতীকালীণ সরকারের আমলে ৩টি পয়েন্টের বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়।
এবারও বরিশাল জেলা প্রশাসন এ ভাঙনকবলিত নদীতে বালুমহাল ইজারা দিয়েছে। ভাঙনপ্রবণ এ সন্ধ্যা নদীর বানারীপাড়া উপজেলার খেজুরবাড়ী ও মসজিদবাড়ীর পয়েন্টে যথাক্রমে দুই একর ও সাত একর নদীর জায়গা বালুমহাল ঘোষণা করে সম্প্রতি ইজারা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে বরিশালের রূপাতলীর মুসলিম ট্রেডার্স এ বালুমহাল দুটির ইজারা পেয়েছে।
উপজেলার মসজিদ বাড়ীর যে পয়েন্টে পাঁচ একর বালুমহাল ঘোষণা করে ইজারা দেওয়া হয়েছে , সেই পয়েন্টে মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মসজিদ বাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ বাড়ী দারুসসুন্নাত আলিম মাদরাসা, মসজিদবাড়ী ইসলামিয়া কলেজ, মসজিদ বাড়ী বালিকা বিদ্যালয়সহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি,রাস্তা-ঘাট, মসজিদ নদীতে বিলীণ হয়ে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি- নদীতে ব্লক দিয়ে ও জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙনের হাত থেকে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন তা না করে উল্টো বালুমহাল ইজারা দিয়েছে। এর ফলে নদীর তীরবর্তী জনসাধারণের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে । এর আগে গত বছর এ নদীতে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে বানারীপাড়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ মিছিল ও মানববন্ধন করে সর্বস্তরের মানুষ।
নদী ভাঙন রোধে বিভিন্ন সময় বালুমহাল ইজারা বন্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশনও দাখিল করা হয়। উপজেলার খেজুরবাড়ি ও মসজিদবাড়ীতে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতনমহল।
তাদের মতে, স্থানীয় জনমতকে উপেক্ষা করে নদী ভাঙনকবলিত এলাকায় বালু উত্তোলন করা হলে মানুষের দুর্ভোগ ও বাস্তুহারা হওয়ার ঝুঁকি চরমভাবে বৃদ্ধি পাবে।
নদী ভাঙন কবলিত এলাকার বিশিষ্টজন, বাংলা একাডেমি পুরস্কাপ্রাপ্ত অনুবাদক ও সাবেক রাজস্ব বোর্ডের সদস্য আলী আহমদ বলেন, ভাঙনকবলিত নদীতে স্থানীয় প্রশাসন কীভাবে বালুমহাল ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে আমি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এ ভাঙনকবলিত নদীতে বালু তোলার কারণে আমার এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মসজিদ বাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৪ বার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আবার সবার সহযোগিতায় নতুন করে স্থানান্তর করে তৈরি করেছি। অব্যাহত ভাঙনের ফলে এখন আবার এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নদীর কিণারে এসেছে।
আমরা নদীভাঙন রোধে যেখানে সরকারের সহযোগিতা চাচ্ছি, সেখানে স্থানীয় প্রশাসন বালুখেকোদের বালু তোলার সুব্যবস্থা করে দিয়ে আমাদের সাধারণ মানুষদেরকে নদীগর্ভে বিলীন করতে চাচ্ছে। মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, সন্ধ্যা নদী ষাট দশক ধরে ভাঙছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চার বার স্থানান্তর করতে হয়েছে।
মসজিদ বাড়ী গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ হলেও নদী ভাঙনের কারনে স্থানান্তর করে এটি পাশের গ্রাম সাতবাড়িয়ায় নেওয়া হয়েছে। এখন সাতবাড়িয়া গ্রামও ভাঙছে।
সেখানেও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। উপজেলার খোদাবখশা দাখিল মাদরাসার সহকারি শিক্ষক মোঃ খায়রুল ইসলাম রাসেল বলেন নদী ভাঙনের ফলে বেশ কয়েকবার মাদরাসাটি স্থানান্তর করতে হয়েছে।
এখনও ভাঙন হুমকিতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। তাদের বসত বাড়িও নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে বলেও জানান তিনি। উপজেলার উত্তর নাজিরপুর ধানের হাট জামে মসজিদের সাবেক সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন ফকির বলেন,নদী ভাঙনের ফলে বার বার মসজিদটি স্থানান্তর করতে হয়েছে ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় মসজিদটি এখন আবার নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মৎস্য সম্পদে সন্ধ্যা নদী ভরপুর। এ নদীর দু’পাড়ের অসংখ্য মানুষ এ নদীতে ইঁলিশসহ নানা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ নদীতে বালু তোলার ফলে মৎস্য প্রজননের অভয়ারণ্য বিনষ্ট হচ্ছে। ফলে জেলেদের জীবন-জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০- উল্লেখ রয়েছে- বালু বা মাটি উত্তোলন বা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ড্রেজিংয়ের ফলে যদি কোনো নদীর তীর ভাঙনের শিকার হয় এমন নদী থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে না।
নদীর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য, মৎস্য, জলজ ও স্থলজ প্রাণি, ফসলি জমি বা উদ্ভিদ বিনষ্ট হয় বা হবার আশঙ্কা থাকে এমন নদী থেকেও বালু উত্তোলন করা যাবে না।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়- নদী ভাঙনের কারণ হচ্ছে নদী দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধ করতে হবে। জেলা প্রশাসন বালু উত্তোলনের জন্য বালুমহাল ইজারা দিয়ে থাকে।
সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসনকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে বালুমহাল ঘোষণা করতে হবে। তবে অনেক সময় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইজারাদাররা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশে নদীর তীরসংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে।
ফলে নদীর তীর সংরক্ষণ করা যায় না, আবার ভাঙন শুরু হয়। নদীশাসন ও নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধ না করা গেলে প্রকল্পগুলোর সুফল অনেকাংশে কমে যাবে। তাই যেকোনোভাবেই স্থানীয় প্রশাসনকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বায়েজিদুর রহমান বলেন, বরিশাল জেলার মধ্যে শুধু বানারীপাড়া উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে দুটি পয়েন্টে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে।
উন্নয়নমূলক কাজে বালুর চাহিদার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধে বৈধ বালু মহাল ইজারা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও বরিশাল জেলা বলুমহাল কমিটির সভাপতি মো,. খায়রুল আলম সুমনের সঙ্গে তার অফিসিয়াল মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিলে তিনি সাড়া না দেওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে নদীর ভাঙনকবলিত ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর কাছে নদী ভাঙনরোধকল্পে স্থায়ী ও টেকসই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদী থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এ ভাঙন আরও তীব্ররূপ ধারণ করেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে- উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের খেজুরবাড়ি, গোয়াইলবাড়ি ও খোদাবখশা, বাইশারী ইউনিয়নের উত্তরকুল, বাংলাবাজার, নাটুয়ার পাড়, শিয়ালকাঠী, উত্তর নাজিরপুর দান্ডয়াট ও ডুমুরিয়া,সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের মসজিদবাড়ী, সাতবাড়িয়া,পূর্ব জিরারকাঠী, দাসেরহাট, দিদিহার ও নলশ্রী, সদর ইউনিয়নের জম্বুদ্বীপ, ব্রাহ্মণকাঠী ও কাজলাহার এবং চাখার ইউনিয়নের চাউলাকাঠী, চালিতাবাড়ী,
চিরাপাড়া, কালিরবাজার, হক সাহেবের হাট প্রভৃতি এলাকায় ভয়াবহভাবে ভাঙছে সন্ধ্যা নদী। এসব গ্রাম মানচিত্রে থাকলেও বাস্তবে সিংহভাগ নদী গ্রাস করে ফেলেছে। ফলে ভিটেমাটি ফসলি জমি সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব ও রিক্ত হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার।
নদী ভাঙনের কারণে ঝুঁকির মুখে বানারীপাড়ার শিয়ালকাঠী ফেরী ঘাট, উত্তর নাজিরপুর জামে মসজিদ, মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খোদাবখশা দাখিল মাদরাসা, কালির বাজার, জম্বুদ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা।
এর মধ্যে মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দান্ডয়াট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাটুয়ারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসা, উত্তরকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,, নলশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাঙ্গালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খোদাবখশা দাখিল মাদরাসাসহ আরও বেশ কয়েকটি স্কুল-মাদরাসা চার থেকে পাঁচ বার স্থানান্তর করতে হয়েছে।
এমন পরিবারও রয়েছে যারা নদী ভাঙনের কারণে ৪-৫ বার ঘর স্থানান্তর করেও ফের নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। বানারীপাড়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলার বহু এলাকাও পড়েছে সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে।
উজিরপুরের শিকারপুর, দাসেরহাট,,লস্করপুর, চতলবাড়ী ও ডাবেরকুলসহ বহু এলাকায় নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছে শত শত মানুষ। গত আওয়ামী লী সরকারের আমলে স্থানীয় জনসাধারণের বিক্ষোভ-প্রতিবাদ সত্ত্বেও বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে ৬টি ও অন্তর্বতীকালীণ সরকারের আমলে ৩টি পয়েন্টের বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়।
এবারও বরিশাল জেলা প্রশাসন এ ভাঙনকবলিত নদীতে বালুমহাল ইজারা দিয়েছে। ভাঙনপ্রবণ এ সন্ধ্যা নদীর বানারীপাড়া উপজেলার খেজুরবাড়ী ও মসজিদবাড়ীর পয়েন্টে যথাক্রমে দুই একর ও সাত একর নদীর জায়গা বালুমহাল ঘোষণা করে সম্প্রতি ইজারা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে বরিশালের রূপাতলীর মুসলিম ট্রেডার্স এ বালুমহাল দুটির ইজারা পেয়েছে।
উপজেলার মসজিদ বাড়ীর যে পয়েন্টে পাঁচ একর বালুমহাল ঘোষণা করে ইজারা দেওয়া হয়েছে , সেই পয়েন্টে মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মসজিদ বাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ বাড়ী দারুসসুন্নাত আলিম মাদরাসা, মসজিদবাড়ী ইসলামিয়া কলেজ, মসজিদ বাড়ী বালিকা বিদ্যালয়সহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি,রাস্তা-ঘাট, মসজিদ নদীতে বিলীণ হয়ে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি- নদীতে ব্লক দিয়ে ও জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙনের হাত থেকে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন তা না করে উল্টো বালুমহাল ইজারা দিয়েছে। এর ফলে নদীর তীরবর্তী জনসাধারণের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে । এর আগে গত বছর এ নদীতে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে বানারীপাড়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ মিছিল ও মানববন্ধন করে সর্বস্তরের মানুষ।
নদী ভাঙন রোধে বিভিন্ন সময় বালুমহাল ইজারা বন্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশনও দাখিল করা হয়। উপজেলার খেজুরবাড়ি ও মসজিদবাড়ীতে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতনমহল।
তাদের মতে, স্থানীয় জনমতকে উপেক্ষা করে নদী ভাঙনকবলিত এলাকায় বালু উত্তোলন করা হলে মানুষের দুর্ভোগ ও বাস্তুহারা হওয়ার ঝুঁকি চরমভাবে বৃদ্ধি পাবে।
নদী ভাঙন কবলিত এলাকার বিশিষ্টজন, বাংলা একাডেমি পুরস্কাপ্রাপ্ত অনুবাদক ও সাবেক রাজস্ব বোর্ডের সদস্য আলী আহমদ বলেন, ভাঙনকবলিত নদীতে স্থানীয় প্রশাসন কীভাবে বালুমহাল ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে আমি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এ ভাঙনকবলিত নদীতে বালু তোলার কারণে আমার এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মসজিদ বাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৪ বার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আবার সবার সহযোগিতায় নতুন করে স্থানান্তর করে তৈরি করেছি। অব্যাহত ভাঙনের ফলে এখন আবার এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নদীর কিণারে এসেছে।
আমরা নদীভাঙন রোধে যেখানে সরকারের সহযোগিতা চাচ্ছি, সেখানে স্থানীয় প্রশাসন বালুখেকোদের বালু তোলার সুব্যবস্থা করে দিয়ে আমাদের সাধারণ মানুষদেরকে নদীগর্ভে বিলীন করতে চাচ্ছে। মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, সন্ধ্যা নদী ষাট দশক ধরে ভাঙছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চার বার স্থানান্তর করতে হয়েছে।
মসজিদ বাড়ী গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ হলেও নদী ভাঙনের কারনে স্থানান্তর করে এটি পাশের গ্রাম সাতবাড়িয়ায় নেওয়া হয়েছে। এখন সাতবাড়িয়া গ্রামও ভাঙছে।
সেখানেও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। উপজেলার খোদাবখশা দাখিল মাদরাসার সহকারি শিক্ষক মোঃ খায়রুল ইসলাম রাসেল বলেন নদী ভাঙনের ফলে বেশ কয়েকবার মাদরাসাটি স্থানান্তর করতে হয়েছে।
এখনও ভাঙন হুমকিতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। তাদের বসত বাড়িও নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে বলেও জানান তিনি। উপজেলার উত্তর নাজিরপুর ধানের হাট জামে মসজিদের সাবেক সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন ফকির বলেন,নদী ভাঙনের ফলে বার বার মসজিদটি স্থানান্তর করতে হয়েছে ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় মসজিদটি এখন আবার নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মৎস্য সম্পদে সন্ধ্যা নদী ভরপুর। এ নদীর দু’পাড়ের অসংখ্য মানুষ এ নদীতে ইঁলিশসহ নানা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ নদীতে বালু তোলার ফলে মৎস্য প্রজননের অভয়ারণ্য বিনষ্ট হচ্ছে। ফলে জেলেদের জীবন-জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০- উল্লেখ রয়েছে- বালু বা মাটি উত্তোলন বা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ড্রেজিংয়ের ফলে যদি কোনো নদীর তীর ভাঙনের শিকার হয় এমন নদী থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে না।
নদীর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য, মৎস্য, জলজ ও স্থলজ প্রাণি, ফসলি জমি বা উদ্ভিদ বিনষ্ট হয় বা হবার আশঙ্কা থাকে এমন নদী থেকেও বালু উত্তোলন করা যাবে না।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়- নদী ভাঙনের কারণ হচ্ছে নদী দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধ করতে হবে। জেলা প্রশাসন বালু উত্তোলনের জন্য বালুমহাল ইজারা দিয়ে থাকে।
সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসনকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে বালুমহাল ঘোষণা করতে হবে। তবে অনেক সময় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইজারাদাররা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশে নদীর তীরসংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে।
ফলে নদীর তীর সংরক্ষণ করা যায় না, আবার ভাঙন শুরু হয়। নদীশাসন ও নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধ না করা গেলে প্রকল্পগুলোর সুফল অনেকাংশে কমে যাবে। তাই যেকোনোভাবেই স্থানীয় প্রশাসনকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বায়েজিদুর রহমান বলেন, বরিশাল জেলার মধ্যে শুধু বানারীপাড়া উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে দুটি পয়েন্টে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে।
উন্নয়নমূলক কাজে বালুর চাহিদার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধে বৈধ বালু মহাল ইজারা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও বরিশাল জেলা বলুমহাল কমিটির সভাপতি মো,. খায়রুল আলম সুমনের সঙ্গে তার অফিসিয়াল মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিলে তিনি সাড়া না দেওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে নদীর ভাঙনকবলিত ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর কাছে নদী ভাঙনরোধকল্পে স্থায়ী ও টেকসই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

২৮ জুন, ২০২৬ ২২:৩৫
বরিশাল সদর উপজেলার ১ নম্বর রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙারপোল এলাকায় মাদক সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশের জেরে এক জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভাঙারপোল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত ইয়াসিন খান সজিব (২৭) একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খানবাড়ির বাসিন্দা। তিনি আব্দুল আজীজ খানের ছেলে।
আহত সজিবের অভিযোগ, স্থানীয় আমিনুল মৃধার মাদক সেবনের একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ হওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে আমিনুল মৃধা, তার ভাই হুমায়ুন ও নজরুল এবং তাদের সহযোগীরা তার ও তার বাবার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উভয় পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। মোটরসাইকেল চুরির একটি মামলাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ২ জুন থানায় মামলা করতে গেলেও সেটি গ্রহণ করা হয়নি। পরে ১৪ জুন আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় সজিবসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে ২৫ জুন তারা আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।
সজিবের দাবি, ২৭ জুন সন্ধ্যায় আমিনুল মৃধার মাদক সেবনের ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার ওপর হামলা চালানো হয়।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত আমিনুল মৃধার বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি নেতা পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এছাড়া স্থানীয় বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আমিনুল মৃধা বর্তমানে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক পদে নেই।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বরিশাল টাইমস

২৮ জুন, ২০২৬ ১৭:৫৮

২৮ জুন, ২০২৬ ১৭:০৪
বরিশালে একটি বাসার শোবার ঘরের এসির ইনডোর ইউনিট থেকে চারটি কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের অভিযানে সাপগুলো জীবিত উদ্ধার করে হস্তান্তর করা হয় বন বিভাগের কাছে। তবে ধরা সম্ভব হয়নি এসির আউটডোর ইউনিটে থাকা আরও একটি সাপ।
গতকাল শনিবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাঠি গ্রামের সজিবুল হক সেন্টুর বাড়িতে এ উদ্ধার অভিযান চালান বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠন এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সদস্যরা।
সামাজিক বন বিভাগের বরিশাল সদর রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া দুই জোড়া কালনাগিনী বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে রোববার সকালে সাপগুলোকে নিরাপদ বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বাড়ির মালিক সজিবুল হক সেন্টু জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে তিনি শোবার ঘরের এসির নিচের অংশে একটি সাপের লেজ দেখতে পান। এরপর পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করে ওই কক্ষে প্রবেশ বন্ধ করে দেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে সেখান থেকে এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। খবর পেয়ে শনিবার বিকালে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেন।
এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা জানিয়েছেন, দীর্ঘ চেষ্টার পর চারটি কালনাগিনী জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসির আউটডোর ইউনিটে থাকা আরও একটি সাপ ধরা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার করা সাপগুলো পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসির অভ্যন্তরে উষ্ণ ও নিরাপদ পরিবেশের কারণেই সাপগুলো সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে চলতি মাসেই বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি কার্যালয়ে ডিআইজির কক্ষ থেকে চারটি এবং নগরীর সাগরদী এলাকার বরিশাল মেডিক্যাল সার্ভিসেস ক্লিনিকের একটি এসি থেকে আরও একটি কালনাগিনী উদ্ধার করেছিলেন একই সংগঠন।’
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
বরিশাল সদর উপজেলার ১ নম্বর রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙারপোল এলাকায় মাদক সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশের জেরে এক জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভাঙারপোল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত ইয়াসিন খান সজিব (২৭) একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খানবাড়ির বাসিন্দা। তিনি আব্দুল আজীজ খানের ছেলে।
আহত সজিবের অভিযোগ, স্থানীয় আমিনুল মৃধার মাদক সেবনের একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ হওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে আমিনুল মৃধা, তার ভাই হুমায়ুন ও নজরুল এবং তাদের সহযোগীরা তার ও তার বাবার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উভয় পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। মোটরসাইকেল চুরির একটি মামলাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ২ জুন থানায় মামলা করতে গেলেও সেটি গ্রহণ করা হয়নি। পরে ১৪ জুন আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় সজিবসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে ২৫ জুন তারা আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।
সজিবের দাবি, ২৭ জুন সন্ধ্যায় আমিনুল মৃধার মাদক সেবনের ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার ওপর হামলা চালানো হয়।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত আমিনুল মৃধার বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি নেতা পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এছাড়া স্থানীয় বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আমিনুল মৃধা বর্তমানে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক পদে নেই।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বরিশাল টাইমস
আটকে রাখল শতাধিক সিএনজি-অটোরিকশা
বরিশাল শহর অভ্যন্তরে যাত্রী পরিবহনকারী অটোরিকশা-সিএনজিগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। এই ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিবাদে রোববার সকালে অন্তত শতাধিক গণপরিবহন আটকে রাখা হয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় সামনের সড়ক থেকে আটক করে অটোরিকশা ও সিএনজিগুলো সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে নিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে জেলা প্রশাসন ভাড়া নির্ধারণের আশ্বাস দিলে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কিছুদিন ধরে বরিশাল নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজিতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু হয়। নথুল্লাবাদ টু লঞ্চঘাট এবং নথুল্লাবাদ-চৌমাথা টু রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অন্তত ১০/২০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এই অনিয়ম রোধে সপ্তাহখানেক আগে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হলেও ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা রোববার সকাল থেকে অটোরিকশা-সিএনজিগুলো আটক করেন।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজির ভাড়া সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নির্ধারণ করে দিতে হবে, দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এর ব্যত্তয় হলে আটোরিকশা ও সিএনজি শহর অভ্যন্তরে চলতে দেওয়া হবে না- হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
তবে সিএনজি ও অটোরিকশা চালকেরা দাবি করেছেন গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাধ্য হয়ে যানবাহনের ভাড়া বাড়িয়েছেন। গ্যাস ৬৫০, মালিকের জমা ৬০০ টাকাসহ মোট ১ হাজার ২৫০ টাকা জমা দিতে হয়। এরপর আর তাদের সংসার চালানোর মতো টাকা থাকেনা। অবশ্য রোববার শিক্ষার্থীদের আটক অভিযানের পরে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অটোরিকশা ও সিএনজি চালকেরা।
মো. নান্নু এবং মো. মামুনসহ অটোরিকশা ও সিএনজি চালকরা জানান, আগামীতে তারা এক পয়সাও অতিরিক্ত আদায় করবেন না। বরং সিটি কর্পোরেশন বা জেলা প্রশাসন যে ভাড়া নির্ধারন করবে, তাতেই সন্তুষ্টু থাকবেন।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি/তদন্ত) লুৎফর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, শিক্ষার্থী এবং শ্রমিকদের নিয়ে বিএম কলেজ ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বৈঠক হয়েছে। সেখানে সোমবার জেলা প্রশাসন থেকে ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। তবে এ নিয়ে সোমবার আবার বৈঠক হবে, ওইদিন থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর হবে। উভয়পক্ষ সিদ্ধান্তে সম্মতি প্রকাশ করায় বিকেল সোয়া ৩টার দিকে আটক করা যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, জানান ওসি।’
আটকে রাখল শতাধিক সিএনজি-অটোরিকশা
বরিশাল শহর অভ্যন্তরে যাত্রী পরিবহনকারী অটোরিকশা-সিএনজিগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। এই ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিবাদে রোববার সকালে অন্তত শতাধিক গণপরিবহন আটকে রাখা হয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় সামনের সড়ক থেকে আটক করে অটোরিকশা ও সিএনজিগুলো সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে নিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে জেলা প্রশাসন ভাড়া নির্ধারণের আশ্বাস দিলে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কিছুদিন ধরে বরিশাল নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজিতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু হয়। নথুল্লাবাদ টু লঞ্চঘাট এবং নথুল্লাবাদ-চৌমাথা টু রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অন্তত ১০/২০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এই অনিয়ম রোধে সপ্তাহখানেক আগে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হলেও ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা রোববার সকাল থেকে অটোরিকশা-সিএনজিগুলো আটক করেন।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজির ভাড়া সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নির্ধারণ করে দিতে হবে, দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এর ব্যত্তয় হলে আটোরিকশা ও সিএনজি শহর অভ্যন্তরে চলতে দেওয়া হবে না- হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
তবে সিএনজি ও অটোরিকশা চালকেরা দাবি করেছেন গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাধ্য হয়ে যানবাহনের ভাড়া বাড়িয়েছেন। গ্যাস ৬৫০, মালিকের জমা ৬০০ টাকাসহ মোট ১ হাজার ২৫০ টাকা জমা দিতে হয়। এরপর আর তাদের সংসার চালানোর মতো টাকা থাকেনা। অবশ্য রোববার শিক্ষার্থীদের আটক অভিযানের পরে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অটোরিকশা ও সিএনজি চালকেরা।
মো. নান্নু এবং মো. মামুনসহ অটোরিকশা ও সিএনজি চালকরা জানান, আগামীতে তারা এক পয়সাও অতিরিক্ত আদায় করবেন না। বরং সিটি কর্পোরেশন বা জেলা প্রশাসন যে ভাড়া নির্ধারন করবে, তাতেই সন্তুষ্টু থাকবেন।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি/তদন্ত) লুৎফর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, শিক্ষার্থী এবং শ্রমিকদের নিয়ে বিএম কলেজ ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বৈঠক হয়েছে। সেখানে সোমবার জেলা প্রশাসন থেকে ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। তবে এ নিয়ে সোমবার আবার বৈঠক হবে, ওইদিন থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর হবে। উভয়পক্ষ সিদ্ধান্তে সম্মতি প্রকাশ করায় বিকেল সোয়া ৩টার দিকে আটক করা যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, জানান ওসি।’
বরিশালে একটি বাসার শোবার ঘরের এসির ইনডোর ইউনিট থেকে চারটি কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের অভিযানে সাপগুলো জীবিত উদ্ধার করে হস্তান্তর করা হয় বন বিভাগের কাছে। তবে ধরা সম্ভব হয়নি এসির আউটডোর ইউনিটে থাকা আরও একটি সাপ।
গতকাল শনিবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাঠি গ্রামের সজিবুল হক সেন্টুর বাড়িতে এ উদ্ধার অভিযান চালান বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠন এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সদস্যরা।
সামাজিক বন বিভাগের বরিশাল সদর রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া দুই জোড়া কালনাগিনী বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে রোববার সকালে সাপগুলোকে নিরাপদ বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বাড়ির মালিক সজিবুল হক সেন্টু জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে তিনি শোবার ঘরের এসির নিচের অংশে একটি সাপের লেজ দেখতে পান। এরপর পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করে ওই কক্ষে প্রবেশ বন্ধ করে দেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে সেখান থেকে এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। খবর পেয়ে শনিবার বিকালে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেন।
এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা জানিয়েছেন, দীর্ঘ চেষ্টার পর চারটি কালনাগিনী জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসির আউটডোর ইউনিটে থাকা আরও একটি সাপ ধরা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার করা সাপগুলো পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসির অভ্যন্তরে উষ্ণ ও নিরাপদ পরিবেশের কারণেই সাপগুলো সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে চলতি মাসেই বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি কার্যালয়ে ডিআইজির কক্ষ থেকে চারটি এবং নগরীর সাগরদী এলাকার বরিশাল মেডিক্যাল সার্ভিসেস ক্লিনিকের একটি এসি থেকে আরও একটি কালনাগিনী উদ্ধার করেছিলেন একই সংগঠন।’