https://www.ucb.com.bd/banking/retail-banking/auto-loan/
Featured news image

লাল শাপলার স্বর্গরাজ্য, সাতলা বিল

প্রকৃতি যখন নিজের হাতে কোনো ক্যানভাস সাজায়, তখন তার রূপ কেমন হতে পারে, তা বরিশালের সাতলা বিলে না গেলে অনুধাবন করা অসম্ভব। শরতের ভোরের আলো ফুটতেই এখানে চোখ জুড়িয়ে যায় এক অলৌকিক দৃশ্যে। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এক জলাশয়, আর তার বুক চিরে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে কোটি কোটি লাল শাপলা। দূর থেকে মনে হবে যেন সবুজ পাতার বিছানায় কেউ লাল গালিচা পেতে রেখেছে, কিংবা ভোরের উদীয়মান সূর্যটাই টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পানির বুকে।বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা হলেও, একসঙ্গে এত শাপলার মেলা দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। তাই বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার এই সাতলা গ্রামটি এখন সারা দেশে পরিচিত 'শাপলার রাজধানী' বা 'লাল শাপলার স্বর্গরাজ্য' হিসেবে। বছরের অন্য সময়ে সাতলা বিল দেখতে আর দশটা সাধারণ জলাভূমির মতোই মনে হয়। শুষ্ক মৌসুমে এখানে চাষ হয় ইরি ধান। কিন্তু বর্ষার পানি আসতেই বিলটি তার রূপ বদলাতে শুরু করে। মে-জুন মাস থেকে বিলে পানি জমতে শুরু করলে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় লাল শাপলা। আগস্ট থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত চলে শাপলার এই রাজত্ব। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বিলের সৌন্দর্য পৌঁছায় তার চূড়ায়। ভোরের আলোয় লাল শাপলার মেলাসাতলা বিলের আসল রূপ দেখতে হলে আপনাকে ঘুমকে ছুটি দিতে হবে। সূর্য ওঠার ঠিক আগে, যখন চারপাশ হালকা কুয়াশায় ঢাকা থাকে, তখন বিলের রূপ সবচেয়ে মোহনীয় দেখায়। ভোরের নরম আলোয় পাপড়ি মেলে ধরা শাপলাগুলোর ওপর যখন ভোরের শিশিরবিন্দু জমে থাকে, তখন মনে হয় যেন মুক্তো ছড়ানো রয়েছে। সকাল ৮টা বা ৯টা বেজে যাওয়ার পর যখন রোদের তীব্রতা বাড়ে, তখন ফুলগুলো ধীরে ধীরে বুজে যায়। তাই সাতলার সৌন্দর্য উপভোগ করার মোক্ষম সময় হলো ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা।বিলের জীবন ও জীবিকাসাতলা বিল শুধু পর্যটকদের জন্যই আনন্দের খোরাক নয়, এটি স্থানীয় শত শত পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস। বিলের বুকজুড়ে যখন নৌকায় করে পর্যটকেরা ঘুরে বেড়ায়, স্থানীয় মাঝিরা গল্প শোনায় এই বিলের। অনেকে আবার বিল থেকে শাপলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এই শাপলা দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু তরকারি। শুধু তাই নয়, বিলের মিষ্টি শালুকও স্থানীয়দের অন্যতম প্রিয় খাবার। বরিশাল সদর কিংবা উজিরপুর উপজেলা থেকে খুব সহজেই সাতলা বিলে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে লঞ্চ বা বাসে বরিশাল এসে, সেখান থেকে মাহিন্দ্র (থ্রি-হুইলার) বা বাস যোগে শিকারপুর হয়ে শাতলা যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করেও উজিরপুর বা সাতলা যাওয়া সম্ভব। বিলে ঘোরার জন্য স্থানীয় ঘাটে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা পাওয়া যায়, যা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ভাড়া নেওয়া যায়। প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। ভ্রমণের সময় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট বা কোনো বর্জ্য বিলে ফেলে পানি দূষিত করবেন না। মনে রাখবেন, ফুল গাছের চেয়ে পানির বুকেই সবচেয়ে বেশি সুন্দর। তাই অকারণে ফুল ছিঁড়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য নষ্ট করা থেকে বিরত থাকাই একজন সচেতন ভ্রমণকারীর পরিচয়। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি মুছে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক চিলতে শান্তি পেতে চাইলে, শরতের কোনো এক ভোরে ঘুরে আসতেই পারেন লাল শাপলার এই স্বর্গরাজ্য থেকে।’
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতীয়

কলাম

সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

অনলাইন ভোট

বরিশাল টাইমস ভিডিও

সারাদেশ

প্রবাস

খবর বিজ্ঞপ্তি

বিনোদন

ছবি