বরিশালের বাবুগঞ্জে শিখন ঘাটতি দূরীকরণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধান শিক্ষকদের এক বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সময়ে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলিজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রহমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা আসফিয়া রহমানকে ওই বিদায়ী সংবর্ধনা ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা সরোয়ার হোসেন ও মোঃ অহিদুল ইসলাম। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা অনিতা রানী দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদায়ী সাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আসফিয়া রহমান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ক্ষুদ্রকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ আহমেদের সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খায়রুন নাহার, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর হোসনে আরা, রহমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন, উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য আবদুর রাজ্জাক বাচ্চু, বাবুগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনা বেগম, দেহেরগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, উত্তর দেহেরগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিনতি রানী দাস, খানপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা কনা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আবুল কাশেম, উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি আল-আমিন সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রাসেল প্রমুখ।
সাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আসফিয়া রহমানের বদলিজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান মানপত্র পাঠ করেন মুশুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা নার্গিস। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ওই শিক্ষক সমন্বয় ও সংবর্ধনা সভায় বিদায়ী অতিথিকে এসময় ফুলেল শুভেচ্ছাসহ সম্মাননা স্মারক ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। সংবর্ধিত অতিথির হাতে ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন প্রধান অতিথি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ অতিথিরা। শিক্ষার মানোন্নয়নে ওই সমন্বয় সভা ও বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষকদের একটি মিলনমেলায় পরিনত হয়। #

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫১
বরিশালসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে পরিবর্তন আসতে পারে। ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল ও ধীরগতির হয়ে পড়ায় বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পদুচেরি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপট্টনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। এরপর এর গতি কমে যায় এবং এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব পুরোপুরি কাটতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এর প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। দিঘা সমুদ্রসৈকতসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ পরিবর্তন ও গতি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে। খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে সম্প্রতি ঢাকাসহ খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর রাজধানী ঢাকায় হালকা বৃষ্টি বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ অবস্থান, গতিপথ ও বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৫৯
বরিশালের মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের অপেক্ষমাণ স্থানে চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ফ্যানটির আঘাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে দুই শিশু। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ আহত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী হাফসা বেগম জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে চারটি বেঞ্চে দুই শিশুসহ পাঁচ থেকে ছয়জন বসে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ওপরের একটি চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে শিশু দুটির পাশেই পড়ে যায়। ফ্যানটি তাদের গায়ে না লাগায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের পুরোনো ফ্যানগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হলে তা রোগীদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় হাসপাতালের সব ফ্যান পরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ ফ্যান মেরামত বা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফজলে রাব্বী বলেন, পুরোনো একটি ফ্যান খুলে পড়েছে। এ ঘটনায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হননি। হাসপাতালের সব ফ্যানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণগুলো পরিবর্তনের জন্য ইলেকট্রিশিয়ানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৫:০৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটের বহু এলাকা অন্ধকারে, ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট; কারণ অনুসন্ধানে দুই কমিটি
বরিশালের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের একাধিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। একই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকাতেও। এদিকে, জাতীয় গ্রিডের বিপর্যয়ের কারণে রাতেও প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহে এ বিপর্যয়ের ফলে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। তবে বরিশালের কোন কোন এলাকায় কতক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ত্রুটি, গ্রিডের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে।
তদন্তের মাধ্যমে বিপর্যয়ের কারণ শনাক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
গ্রিড বিপর্যয়ের প্রভাব কাটিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

২৪ অক্টোবর, ২০২৫ ১৮:৪২
বরিশালের বাবুগঞ্জে শিখন ঘাটতি দূরীকরণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধান শিক্ষকদের এক বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সময়ে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলিজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রহমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা আসফিয়া রহমানকে ওই বিদায়ী সংবর্ধনা ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা সরোয়ার হোসেন ও মোঃ অহিদুল ইসলাম। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা অনিতা রানী দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদায়ী সাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আসফিয়া রহমান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ক্ষুদ্রকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ আহমেদের সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খায়রুন নাহার, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর হোসনে আরা, রহমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন, উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য আবদুর রাজ্জাক বাচ্চু, বাবুগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনা বেগম, দেহেরগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, উত্তর দেহেরগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিনতি রানী দাস, খানপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা কনা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আবুল কাশেম, উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি আল-আমিন সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রাসেল প্রমুখ।
সাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আসফিয়া রহমানের বদলিজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান মানপত্র পাঠ করেন মুশুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা নার্গিস। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ওই শিক্ষক সমন্বয় ও সংবর্ধনা সভায় বিদায়ী অতিথিকে এসময় ফুলেল শুভেচ্ছাসহ সম্মাননা স্মারক ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। সংবর্ধিত অতিথির হাতে ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন প্রধান অতিথি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ অতিথিরা। শিক্ষার মানোন্নয়নে ওই সমন্বয় সভা ও বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষকদের একটি মিলনমেলায় পরিনত হয়। #
বরিশালসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে পরিবর্তন আসতে পারে। ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল ও ধীরগতির হয়ে পড়ায় বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পদুচেরি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপট্টনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। এরপর এর গতি কমে যায় এবং এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব পুরোপুরি কাটতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এর প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। দিঘা সমুদ্রসৈকতসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ পরিবর্তন ও গতি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে। খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে সম্প্রতি ঢাকাসহ খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর রাজধানী ঢাকায় হালকা বৃষ্টি বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ অবস্থান, গতিপথ ও বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বরিশালের মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের অপেক্ষমাণ স্থানে চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ফ্যানটির আঘাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে দুই শিশু। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ আহত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী হাফসা বেগম জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে চারটি বেঞ্চে দুই শিশুসহ পাঁচ থেকে ছয়জন বসে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ওপরের একটি চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে শিশু দুটির পাশেই পড়ে যায়। ফ্যানটি তাদের গায়ে না লাগায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের পুরোনো ফ্যানগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হলে তা রোগীদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় হাসপাতালের সব ফ্যান পরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ ফ্যান মেরামত বা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফজলে রাব্বী বলেন, পুরোনো একটি ফ্যান খুলে পড়েছে। এ ঘটনায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হননি। হাসপাতালের সব ফ্যানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণগুলো পরিবর্তনের জন্য ইলেকট্রিশিয়ানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটের বহু এলাকা অন্ধকারে, ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট; কারণ অনুসন্ধানে দুই কমিটি
বরিশালের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের একাধিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। একই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকাতেও। এদিকে, জাতীয় গ্রিডের বিপর্যয়ের কারণে রাতেও প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহে এ বিপর্যয়ের ফলে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। তবে বরিশালের কোন কোন এলাকায় কতক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ত্রুটি, গ্রিডের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে।
তদন্তের মাধ্যমে বিপর্যয়ের কারণ শনাক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
গ্রিড বিপর্যয়ের প্রভাব কাটিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।