আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বরিশালে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি’র মূল প্রতিপক্ষ ৮ দলীয় জোটের দুই শরিকের মধ্যে আসন সমঝোতা না হবার মধ্যে উভয় দলই স্ব স্ব অবস্থানে থেকে প্রচার প্রচারণা জোরদার করছে। এ জোটের মধ্যে এখনো বরিশাল সদর আসনের প্রার্থী নিয়েই প্রকাশ্যে ও পর্দার অন্তরালে টানাপোড়েন চলছে। উভয় দলই প্রার্থী ঘোষণার পরে শক্ত প্রচারণায়ও রয়েছেন গত কয়েকমাস ধরে। এমনকি ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াত ইসলামী, উভয়ই বরিশাল সদর আসনে তাদের দাবী অগ্রগণ্য বলে প্রকাশ্যে নানা যুক্তিও উপস্থাপন করে চলেছেন। গত সপ্তাহেই বরিশাল প্রেস ক্লাবে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি ফয়জুল করিম ‘বরিশাল সদর আসনটি অন্য কারো দাবী করা উচিত নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে জামায়াত প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল এ প্রসঙ্গে সরাসরি কোন মন্তব্য না করে ‘জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী নির্ধারণ হবে’ বলে জানিয়েছেন।
কিন্তু ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামী ইতোপূর্বে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি সংসদীয় আসনেই প্রার্থী ঘোষণার পরে প্রচারণার মাঠেও জোটের এ মূল দুই শরিকই সরগরম প্রচারণায় রয়েছেন। এরইমধ্যে গত ৪ ডিসেম্বর ৮ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতের আমীর উপস্থিত না হলেও বিশাল ঐ সমাবেশে দুটি দলের কর্মীরাই হাতপাখা ও দাড়িপাল্লার প্রতীক নিয়ে মহানগরীতে সমর্থনের পাল্লার জানান দিয়েছেন। তবে আমীরের বরিশাল সমাবেশে যোগ না দেয়ার বিষয়টি ‘সদর আসনে ইসলামী আন্দোলনকে ছাড় দেয়ার পূর্বাভাস’ বলে কেউ কেউ মন্তব্য করলেও দলের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে বিষয়টি নাকচ করে বরিশাল সদর আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা সহ এ আসনে তাদেরই নির্বাচন করার অনেক যুক্তিও তুলে ধরা হচ্ছে।
তবে এ পরিস্থিতির মধ্যেই এনসিপি’র সাথে জামায়াতে ইসলামীর নতুন করে আলোচনার বিষয়টিও ৮ দলীয় জোট শরিকদের মাঝে নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করছে। জোটের কোন কোন শরিকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে জোটের মধ্যে আসন সমঝোতার বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত পর্যায়ের মধ্যে নতুন করে শরিক বৃদ্ধি করায় অনেক কিছুই এলোমেলো হতে চলেছে। এনসিপি কতটি আসন চাইবে এবং তাদের কতটি আসন দেয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত না হলেও দলটি ৮ দলীয় জোটভুক্ত হলে, তাদের আসন ছেড়ে দিতে গিয়ে এতদিনের সব হিসেব নতুন করে করতে হবে বলে মনে করছেন একাধিক শরিক দল নেতবৃন্দ।
তবে এসব কিছুর মধ্যে ৮ দলীয় জোটের মূল শরিক ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি রেজাউল করিম, পীর ছাহেব চরমোনাই শুক্রবার দলীয় প্রার্থীদের হাতে মনোনয়নের চূড়ান্ত কাগজ তুলে দিয়েছেন। যেখানে বরিশাল সদর আসনের প্রার্থী হিসেবে মুফতি ফয়জুল করিমকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও বরিশাল সদর আসনে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীকে বরিশাল-৬ আসনটি ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে ইসলামী আন্দোলনের একাধিক সূত্র ‘বরিশাল সদর আসন নিয়ে কোন দল বা জোটের সাথে ছাড় দেয়া হবে না’ বলেই এখনো জানান হচ্ছে। জামায়াত ইসলামীর দায়িত্বশীল মহল প্রকাশ্যে কোন বক্তব্য না দিলেও ‘বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনার পথ এখনো খোলা আছে’ বলে জানালেও তারা যে যথেষ্ট বিব্রত এবং কর্মীরা ক্ষুব্ধ তা আড়াল থাকছে না।
তবে বিএনপি ও তাদের শরিকরা পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে। কারণ বরিশাল সদর আসনে ৮ দলীয় জোটের প্রার্থী কোন দল থেকে কে হচ্ছেন, তার ওপরই তাদের ভোটের মাঠের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে ।’

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৬
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকাগামী ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৭৯৫) আশোকাঠী এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৌরনদীর মো. মাহবুব (৩৯) ও শিশু আব্দুর রহমান (২), বরিশালের মনিরুজ্জামান (৩৮) ও মমতাজ বেগম (৬০) এবং চট্টগ্রামের জামাল হোসেন (৩৩)।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু। এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকাগামী ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৭৯৫) আশোকাঠী এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৌরনদীর মো. মাহবুব (৩৯) ও শিশু আব্দুর রহমান (২), বরিশালের মনিরুজ্জামান (৩৮) ও মমতাজ বেগম (৬০) এবং চট্টগ্রামের জামাল হোসেন (৩৩)।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু। এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৭
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দেড় বছর ধরে পড়ে আছে সংযোগ সড়কের অভাবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি এখনো যান চলাচলের জন্য কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না।
এদিকে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, যথাযথ জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে জমির মালিকদের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
জমির মালিক আঃ রব হাওলাদার অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণের সময় তার জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানালে প্রকৌশলী সুব্রত রায় সরকারি নিয়মে জমি অধিগ্রহণ করে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তার দাবি।
আঃ রব হাওলাদারের অভিযোগ, বর্তমানে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না হয়ে বরং মামলা করার হুমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় জমির মালিকদের প্রশ্ন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার করা হবে কি না। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প হলেও জমির মালিকের সম্পত্তির অধিকার এবং প্রচলিত আইন মেনেই জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময়ই সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, মালিকানা ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এখন প্রকল্পের সেই ঘাটতির দায় সাধারণ জমির মালিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরুর আগে প্রকল্পের নকশা, জমির দাগ-খতিয়ান, মালিকানা এবং জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কোনো কাজ না করার দাবি তাদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা না হলে জমির মালিকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি উন্নয়নের নামে জমি দখল নয়, আইনানুগভাবে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দেড় বছর ধরে পড়ে আছে সংযোগ সড়কের অভাবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি এখনো যান চলাচলের জন্য কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না।
এদিকে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, যথাযথ জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে জমির মালিকদের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
জমির মালিক আঃ রব হাওলাদার অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণের সময় তার জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানালে প্রকৌশলী সুব্রত রায় সরকারি নিয়মে জমি অধিগ্রহণ করে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তার দাবি।
আঃ রব হাওলাদারের অভিযোগ, বর্তমানে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না হয়ে বরং মামলা করার হুমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় জমির মালিকদের প্রশ্ন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার করা হবে কি না। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প হলেও জমির মালিকের সম্পত্তির অধিকার এবং প্রচলিত আইন মেনেই জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময়ই সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, মালিকানা ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এখন প্রকল্পের সেই ঘাটতির দায় সাধারণ জমির মালিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরুর আগে প্রকল্পের নকশা, জমির দাগ-খতিয়ান, মালিকানা এবং জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কোনো কাজ না করার দাবি তাদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা না হলে জমির মালিকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি উন্নয়নের নামে জমি দখল নয়, আইনানুগভাবে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৫৫
বরিশালসহ দেশের পাঁচটি জেলা শহরে শত শত পুকুর ভরাট ও অবৈধ দখল বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) আইনি নোটিস পাঠিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এইচআরপিবির সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠান।
যাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা হলেন— বরিশাল, বগুড়া, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক।
নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের পরিবেশ সুরক্ষা বিবেচনায় সরকার ২০০০ সালে ‘জলাধার সংরক্ষণ আইন’ পাস করে। এই আইন অনুযায়ী শহর এলাকায় পুকুর বা জলাধার ভরাট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং ভরাট ও দখলের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।’
বরিশালসহ দেশের পাঁচটি জেলা শহরে শত শত পুকুর ভরাট ও অবৈধ দখল বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) আইনি নোটিস পাঠিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এইচআরপিবির সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠান।
যাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা হলেন— বরিশাল, বগুড়া, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক।
নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের পরিবেশ সুরক্ষা বিবেচনায় সরকার ২০০০ সালে ‘জলাধার সংরক্ষণ আইন’ পাস করে। এই আইন অনুযায়ী শহর এলাকায় পুকুর বা জলাধার ভরাট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং ভরাট ও দখলের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।’

২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৫:৩২
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বরিশালে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি’র মূল প্রতিপক্ষ ৮ দলীয় জোটের দুই শরিকের মধ্যে আসন সমঝোতা না হবার মধ্যে উভয় দলই স্ব স্ব অবস্থানে থেকে প্রচার প্রচারণা জোরদার করছে। এ জোটের মধ্যে এখনো বরিশাল সদর আসনের প্রার্থী নিয়েই প্রকাশ্যে ও পর্দার অন্তরালে টানাপোড়েন চলছে। উভয় দলই প্রার্থী ঘোষণার পরে শক্ত প্রচারণায়ও রয়েছেন গত কয়েকমাস ধরে। এমনকি ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াত ইসলামী, উভয়ই বরিশাল সদর আসনে তাদের দাবী অগ্রগণ্য বলে প্রকাশ্যে নানা যুক্তিও উপস্থাপন করে চলেছেন। গত সপ্তাহেই বরিশাল প্রেস ক্লাবে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি ফয়জুল করিম ‘বরিশাল সদর আসনটি অন্য কারো দাবী করা উচিত নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে জামায়াত প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল এ প্রসঙ্গে সরাসরি কোন মন্তব্য না করে ‘জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী নির্ধারণ হবে’ বলে জানিয়েছেন।
কিন্তু ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামী ইতোপূর্বে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি সংসদীয় আসনেই প্রার্থী ঘোষণার পরে প্রচারণার মাঠেও জোটের এ মূল দুই শরিকই সরগরম প্রচারণায় রয়েছেন। এরইমধ্যে গত ৪ ডিসেম্বর ৮ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতের আমীর উপস্থিত না হলেও বিশাল ঐ সমাবেশে দুটি দলের কর্মীরাই হাতপাখা ও দাড়িপাল্লার প্রতীক নিয়ে মহানগরীতে সমর্থনের পাল্লার জানান দিয়েছেন। তবে আমীরের বরিশাল সমাবেশে যোগ না দেয়ার বিষয়টি ‘সদর আসনে ইসলামী আন্দোলনকে ছাড় দেয়ার পূর্বাভাস’ বলে কেউ কেউ মন্তব্য করলেও দলের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে বিষয়টি নাকচ করে বরিশাল সদর আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা সহ এ আসনে তাদেরই নির্বাচন করার অনেক যুক্তিও তুলে ধরা হচ্ছে।
তবে এ পরিস্থিতির মধ্যেই এনসিপি’র সাথে জামায়াতে ইসলামীর নতুন করে আলোচনার বিষয়টিও ৮ দলীয় জোট শরিকদের মাঝে নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করছে। জোটের কোন কোন শরিকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে জোটের মধ্যে আসন সমঝোতার বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত পর্যায়ের মধ্যে নতুন করে শরিক বৃদ্ধি করায় অনেক কিছুই এলোমেলো হতে চলেছে। এনসিপি কতটি আসন চাইবে এবং তাদের কতটি আসন দেয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত না হলেও দলটি ৮ দলীয় জোটভুক্ত হলে, তাদের আসন ছেড়ে দিতে গিয়ে এতদিনের সব হিসেব নতুন করে করতে হবে বলে মনে করছেন একাধিক শরিক দল নেতবৃন্দ।
তবে এসব কিছুর মধ্যে ৮ দলীয় জোটের মূল শরিক ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি রেজাউল করিম, পীর ছাহেব চরমোনাই শুক্রবার দলীয় প্রার্থীদের হাতে মনোনয়নের চূড়ান্ত কাগজ তুলে দিয়েছেন। যেখানে বরিশাল সদর আসনের প্রার্থী হিসেবে মুফতি ফয়জুল করিমকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও বরিশাল সদর আসনে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীকে বরিশাল-৬ আসনটি ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে ইসলামী আন্দোলনের একাধিক সূত্র ‘বরিশাল সদর আসন নিয়ে কোন দল বা জোটের সাথে ছাড় দেয়া হবে না’ বলেই এখনো জানান হচ্ছে। জামায়াত ইসলামীর দায়িত্বশীল মহল প্রকাশ্যে কোন বক্তব্য না দিলেও ‘বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনার পথ এখনো খোলা আছে’ বলে জানালেও তারা যে যথেষ্ট বিব্রত এবং কর্মীরা ক্ষুব্ধ তা আড়াল থাকছে না।
তবে বিএনপি ও তাদের শরিকরা পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে। কারণ বরিশাল সদর আসনে ৮ দলীয় জোটের প্রার্থী কোন দল থেকে কে হচ্ছেন, তার ওপরই তাদের ভোটের মাঠের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে ।’
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২২
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২০
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:১২