
২২ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩২
বরিশাল-পটুয়াখালীসহ দেশের আট অঞ্চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে কোথাও কোথাও বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বরিশাল, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চল সমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সাথে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।’
বরিশাল-পটুয়াখালীসহ দেশের আট অঞ্চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে কোথাও কোথাও বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বরিশাল, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চল সমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সাথে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।’

২২ জুলাই, ২০২৬ ২২:৩৫

২২ জুলাই, ২০২৬ ১৭:১৩
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু এলাকায় এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া নারীর বয়স আনুমানিক ৫০ বছরের বেশি। তাকে গত কয়েকদিন ধরে মহাসড়কের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এলাকাবাসীর ধারণা, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে কোনো অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় ওই নারী আহত হয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে যান। পরে তার মৃত্যু হয়। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পুলিশের সিআইডি টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেছে। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

২২ জুলাই, ২০২৬ ০১:৫৮
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস কর্মকারের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন খালপাড় এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার একটি মেস কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ।
জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে উচ্ছ্বাসের কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার রাতে কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে মেসের অন্য বাসিন্দারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুই দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আত্মহত্যা কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, এটি হাজারও শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ গড়ার স্থান। কিন্তু যখন সেই ক্যাম্পাসে একের পর এক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু বা আত্মহত্যার ঘটনাপ্রবাহ অব্যাহত থাকে বা সামনে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু দায়িত্ব রক্ষার্থে সোচ্চার? বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত কয়েকটি বছরে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার একাধিক ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রতিটি ঘটনার পর শোক প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের দাবি উঠলেও, স্থায়ীভাবে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, যা উদ্বেগের বিষয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের চলতি মাস পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। এছাড়া একাধিক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন বলে জানা গেছে।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর মৃত্যুর ঘটনায় প্ররোচনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলমের কাছে এক মাসের মধ্যে একজন স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবির ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা সংক্ষুব্ধ এবং উদ্বিগ্নও বটে।
এরই মধ্যে গত ২১ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি মেস থেকে ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচ্ছাস কর্মকারের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাটি আবারও পুরো বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টদের শোকাহত করেছে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আনাসহ বহুমুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অবশ্য জানাশোনা মহলও এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে, যা ফেসবুকসহ সমাজপাতাগুলোতে নেটিজেনদের পোস্ট কমেন্টে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি মর্মান্তিক ঘটনার পর শুধু শোকবার্তা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিব বরিশালটাইমসকে বলেন, “বিগত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে যখনই কোনো শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিসরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি ওঠে। সর্বশেষ আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর মৃত্যুর পরও এক মাসের মধ্যে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু আজও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই দাবি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
বারবার আত্মহত্যা বা আত্মহত্যাচেষ্টার মতো ঘটনার মাধ্যমে আমরা আমাদের সহপাঠী, বড়ভাইদের হারাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না দেখার কারণে এমন পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত একজন যোগ্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। "
এ বিষয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ভূমিকা সরকার বরিশালটাইমসকে বলছেন, একজন শিক্ষার্থীর হতাশা কিংবা ব্যক্তিগত দু:সময়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মত শক্তি জোগাবে এতটুকুর ব্যবস্থা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক আয়োজনের মধ্যে নেই। সম্ভাবনাময় প্রাণের এমন নিদারুন অপচয় গোটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে আহত করে, ক্ষতি হয় রাষ্ট্র ও সমাজের। আমরা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বারবার একজন কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগের কথা বললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কৌশলে সেই দাবি অতীতে এড়িয়ে গিয়েছে, এখনও যাচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অনতিবিলম্বে একজন কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দিতে হবে এবং মনোবিজ্ঞানী ও অপরাপর বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে একাডেমিক ও কো কারিকুলার আয়োজনকে ঢেলে সাজাতে হবে যেন একজন শিক্ষার্থী তার স্বকীয়তা- প্রাণোচ্ছলতা বাচিয়ে রাখার সুযোগটুকু পায় এবং জীবনের নানা প্রতিকূলতাকে ফেস করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গড়ে উঠতে পারে।
বিভিন্ন মহলের অভিন্ন যৌক্তিক এই দাবি অচীরের মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ববি কর্তৃপক্ষ। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বরিশালটাইমসকে জানান, শিগগিরই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সম্পন্ন হবে।
অবশ্য একই ধরনের ঘটনাপ্রবাহে বিতর্কের মুখে আগেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু ঘটনার রেশ কেটে যেতেই আলোচনা থেমে যায়। তবে এবার শিক্ষার্থী বিয়োগান্তের ঘটনায় পূর্বের সেই দাবিটি বাস্তবায়নে দ্রুত বাস্তবায়নে যে রব উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত কি ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।'
একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, এটি হাজারও শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ গড়ার স্থান। কিন্তু যখন সেই ক্যাম্পাসে একের পর এক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু বা আত্মহত্যার ঘটনাপ্রবাহ অব্যাহত থাকে বা সামনে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু দায়িত্ব রক্ষার্থে সোচ্চার? বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত কয়েকটি বছরে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার একাধিক ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রতিটি ঘটনার পর শোক প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের দাবি উঠলেও, স্থায়ীভাবে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, যা উদ্বেগের বিষয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের চলতি মাস পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। এছাড়া একাধিক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন বলে জানা গেছে।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর মৃত্যুর ঘটনায় প্ররোচনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলমের কাছে এক মাসের মধ্যে একজন স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবির ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা সংক্ষুব্ধ এবং উদ্বিগ্নও বটে।
এরই মধ্যে গত ২১ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি মেস থেকে ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচ্ছাস কর্মকারের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাটি আবারও পুরো বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টদের শোকাহত করেছে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আনাসহ বহুমুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অবশ্য জানাশোনা মহলও এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে, যা ফেসবুকসহ সমাজপাতাগুলোতে নেটিজেনদের পোস্ট কমেন্টে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি মর্মান্তিক ঘটনার পর শুধু শোকবার্তা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিব বরিশালটাইমসকে বলেন, “বিগত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে যখনই কোনো শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিসরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি ওঠে। সর্বশেষ আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর মৃত্যুর পরও এক মাসের মধ্যে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু আজও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই দাবি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
বারবার আত্মহত্যা বা আত্মহত্যাচেষ্টার মতো ঘটনার মাধ্যমে আমরা আমাদের সহপাঠী, বড়ভাইদের হারাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না দেখার কারণে এমন পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত একজন যোগ্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। "
এ বিষয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ভূমিকা সরকার বরিশালটাইমসকে বলছেন, একজন শিক্ষার্থীর হতাশা কিংবা ব্যক্তিগত দু:সময়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মত শক্তি জোগাবে এতটুকুর ব্যবস্থা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক আয়োজনের মধ্যে নেই। সম্ভাবনাময় প্রাণের এমন নিদারুন অপচয় গোটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে আহত করে, ক্ষতি হয় রাষ্ট্র ও সমাজের। আমরা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বারবার একজন কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগের কথা বললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কৌশলে সেই দাবি অতীতে এড়িয়ে গিয়েছে, এখনও যাচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অনতিবিলম্বে একজন কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দিতে হবে এবং মনোবিজ্ঞানী ও অপরাপর বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে একাডেমিক ও কো কারিকুলার আয়োজনকে ঢেলে সাজাতে হবে যেন একজন শিক্ষার্থী তার স্বকীয়তা- প্রাণোচ্ছলতা বাচিয়ে রাখার সুযোগটুকু পায় এবং জীবনের নানা প্রতিকূলতাকে ফেস করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গড়ে উঠতে পারে।
বিভিন্ন মহলের অভিন্ন যৌক্তিক এই দাবি অচীরের মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ববি কর্তৃপক্ষ। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বরিশালটাইমসকে জানান, শিগগিরই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সম্পন্ন হবে।
অবশ্য একই ধরনের ঘটনাপ্রবাহে বিতর্কের মুখে আগেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু ঘটনার রেশ কেটে যেতেই আলোচনা থেমে যায়। তবে এবার শিক্ষার্থী বিয়োগান্তের ঘটনায় পূর্বের সেই দাবিটি বাস্তবায়নে দ্রুত বাস্তবায়নে যে রব উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত কি ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।'
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু এলাকায় এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া নারীর বয়স আনুমানিক ৫০ বছরের বেশি। তাকে গত কয়েকদিন ধরে মহাসড়কের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এলাকাবাসীর ধারণা, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে কোনো অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় ওই নারী আহত হয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে যান। পরে তার মৃত্যু হয়। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পুলিশের সিআইডি টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেছে। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস কর্মকারের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন খালপাড় এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার একটি মেস কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ।
জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে উচ্ছ্বাসের কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার রাতে কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে মেসের অন্য বাসিন্দারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুই দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আত্মহত্যা কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
২২ জুলাই, ২০২৬ ২২:৩৫
২২ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪৭
২২ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩২
২২ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৫৪