বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মানবপাচারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং শিশু ও কিশোর-কিশোরী এবং স্থানীয়দের নিরাপদ রাখতে বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে সচেতনতামূলক পদযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কাশিপুর ইউনিয়নের নব আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক পদযাত্রা শুরু হয়। এ সময় মানব পাচার প্রতিরোধ, নিরাপদ অভিবাসন, অনলাইন প্রতারণা এবং শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা বিষয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান প্রদর্শন করা হয়। পদযাত্রা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আদর্শ সামাজিক সুরক্ষা কমিটির সভাপতি ও নব আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, মানব পাচার একটি গুরুতর সামাজিক অপরাধ। এর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও কমিউনিটির সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, পাচারকারীরা চাকরি, উচ্চ বেতন, বিদেশে কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে পাচারের ফাঁদে ফেলছে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেও বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও প্রলোভনের মাধ্যমে মানুষকে পাচারের ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। তাই অনলাইনে বা সরাসরি পাওয়া কোনো চাকরি কিংবা বিদেশে যাওয়ার প্রস্তাব গ্রহণের আগে যথাযথভাবে তথ্য যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরীদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, পরিচয়পত্র বা গুরুত্বপূর্ণ নথি শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অনলাইনে কোনো সন্দেহজনক প্রস্তাব বা চাকরির সুযোগ পেলে পরিবারের সদস্য, শিক্ষক অথবা বিশ্বস্ত ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়।
জাতিসংঘ ঘোষিত World Day Against Trafficking in Persons প্রতি বছর ৩০ জুলাই পালিত হয়। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য “Trapped Behind the Scam”। এবারের প্রতিপাদ্যে অনলাইন স্ক্যাম ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে মানুষকে পাচার এবং জোরপূর্বক যুক্ত করার ঝুঁকির বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে কিশোর-কিশোরী ক্লাব ও আদর্শ সামাজিক সুরক্ষা কমিটির সদস্য, বিদ্যালয়ের
শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় ইপি সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং কমিউনিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি কাশিপুর ইউনিয়নাধীন নব আদর্শ কিশোর-কিশোরী ক্লাব ও আদর্শ সামাজিক সুরক্ষা কমিটি-এর উদ্যোগে এবং Empowering Communities for Children Rights (ECCR) Project, World Concern Bangladesh-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক সংগঠন ও উপস্থিত অতিথিরা বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পরিবার ও কমিউনিটি পর্যায়ে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

০১ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৫১
বরিশালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ২টি ড্রেজার, ২টি বাল্কহেড এবং ৭ জন বালু উত্তোলনকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিকদের কাছ থেকে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) মধ্যরাতে বরিশাল সদর উপজেলার কাউনিয়া থানাধীন চরমোনাই নাইন্দার চর সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশন বরিশাল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ২টি ড্রেজার, ২টি বাল্কহেড এবং ৭ জন বালু উত্তোলনকারীকে আটক করা হয়।
পরে বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিকদের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, আটক বালু উত্তোলনকারীদের মুচলেকা নিয়ে ড্রেজার ও বাল্কহেডসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, নদী তীরবর্তী জনগণের ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষায় এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বরিশালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ২টি ড্রেজার, ২টি বাল্কহেড এবং ৭ জন বালু উত্তোলনকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিকদের কাছ থেকে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) মধ্যরাতে বরিশাল সদর উপজেলার কাউনিয়া থানাধীন চরমোনাই নাইন্দার চর সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশন বরিশাল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ২টি ড্রেজার, ২টি বাল্কহেড এবং ৭ জন বালু উত্তোলনকারীকে আটক করা হয়।
পরে বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিকদের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, আটক বালু উত্তোলনকারীদের মুচলেকা নিয়ে ড্রেজার ও বাল্কহেডসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, নদী তীরবর্তী জনগণের ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষায় এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:০১
নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় তৃণমূলভিত্তিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী করা, নিরাপদ জনপরিসর নিশ্চিত করা এবং নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নারী মুক্তির আন্দোলন বিস্তৃতিকরণ’ বিভাগীয় সম্মেলনের সংবাদ সম্মেলন। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার তৃণমূল নারী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, তরুণ নারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নারী নেত্রীসহ প্রায় ১২০ জন অংশ নেন।
আয়োজক সংস্থা নারীপক্ষ জানায়, নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি তৃণমূল ও নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্রাক লার্নিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নারীপক্ষের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার। নারীপক্ষের সদস্য সামিয়া আফরিন এবং দুর্বার নেটওয়ার্কের সদস্য ও শুভ’র নির্বাহী পরিচালক হাসিনা বেগম নীলাসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের ৪৩৩টি সুপারিশের মধ্য থেকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ৫১টি সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে পৃথক আইন প্রণয়ন, বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি সক্রিয় করা, কর্মজীবী নারীদের জন্য হোস্টেল ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন এবং বাস টার্মিনালসহ জনপরিসরে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলে ধরা হয়।
সংস্থাটি বলছে, সম্মেলনে গৃহীত সুপারিশগুলো স্থানীয় ও জাতীয়পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে নারী অধিকার আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় তৃণমূলভিত্তিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী করা, নিরাপদ জনপরিসর নিশ্চিত করা এবং নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নারী মুক্তির আন্দোলন বিস্তৃতিকরণ’ বিভাগীয় সম্মেলনের সংবাদ সম্মেলন। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার তৃণমূল নারী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, তরুণ নারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নারী নেত্রীসহ প্রায় ১২০ জন অংশ নেন।
আয়োজক সংস্থা নারীপক্ষ জানায়, নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি তৃণমূল ও নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্রাক লার্নিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নারীপক্ষের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার। নারীপক্ষের সদস্য সামিয়া আফরিন এবং দুর্বার নেটওয়ার্কের সদস্য ও শুভ’র নির্বাহী পরিচালক হাসিনা বেগম নীলাসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের ৪৩৩টি সুপারিশের মধ্য থেকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ৫১টি সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে পৃথক আইন প্রণয়ন, বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি সক্রিয় করা, কর্মজীবী নারীদের জন্য হোস্টেল ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন এবং বাস টার্মিনালসহ জনপরিসরে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলে ধরা হয়।
সংস্থাটি বলছে, সম্মেলনে গৃহীত সুপারিশগুলো স্থানীয় ও জাতীয়পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে নারী অধিকার আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:০২
বরিশাল ও মাদারীপুরে দায়ের হওয়া একাধিক মানবপাচার মামলার আসামি ইলিয়াস ফকিরকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার তাকে বরিশালের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এর আগে শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ থেকে র্যাব-১২ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে রাত ১০টার দিকে তাকে বরিশালের গৌরনদী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তার ইলিয়াস গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার রাঘদী ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে বরিশাল ও মাদারীপুরে অন্তত চারটি মানবপাচারের মামলা রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা গ্রামের বারেক বেপারীর ছেলে রাসেল বেপারীকে (২৯) ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে ইলিয়াস ফকিরের সঙ্গে ২০ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়। গত বছরের ২৩ নভেম্বর রাসেলের পরিবার দালালচক্রের হাতে ওই টাকা তুলে দেয়। পরদিন তাকে প্রথমে শ্রীলঙ্কা, পরে সৌদি আরব, কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর রাসেলকে একটি চক্র জিম্মি করে নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও নগদে আরও ২৪ লাখ টাকা আদায় করা হয়। তবুও তাকে ইতালিতে না পাঠিয়ে গত ১৬ জুন বিমানে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
দেশে ফিরে গত ১২ জুলাই রাসেল বরিশালের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ইলিয়াস ফকিরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান আসামি ইলিয়াসকে সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস ফকিরের বিরুদ্ধে মাদারীপুরেও তিনটি মানবপাচারের মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল সাংবাদিকদের জানান, লিবিয়ায় নির্যাতনের শিকার এক যুবকের করা মামলায় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য ইলিয়াস ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত। তার বিরুদ্ধে অন্য মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে সেসব মামলায়ও তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে।’
বরিশাল ও মাদারীপুরে দায়ের হওয়া একাধিক মানবপাচার মামলার আসামি ইলিয়াস ফকিরকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার তাকে বরিশালের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এর আগে শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ থেকে র্যাব-১২ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে রাত ১০টার দিকে তাকে বরিশালের গৌরনদী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তার ইলিয়াস গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার রাঘদী ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে বরিশাল ও মাদারীপুরে অন্তত চারটি মানবপাচারের মামলা রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা গ্রামের বারেক বেপারীর ছেলে রাসেল বেপারীকে (২৯) ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে ইলিয়াস ফকিরের সঙ্গে ২০ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়। গত বছরের ২৩ নভেম্বর রাসেলের পরিবার দালালচক্রের হাতে ওই টাকা তুলে দেয়। পরদিন তাকে প্রথমে শ্রীলঙ্কা, পরে সৌদি আরব, কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর রাসেলকে একটি চক্র জিম্মি করে নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও নগদে আরও ২৪ লাখ টাকা আদায় করা হয়। তবুও তাকে ইতালিতে না পাঠিয়ে গত ১৬ জুন বিমানে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
দেশে ফিরে গত ১২ জুলাই রাসেল বরিশালের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ইলিয়াস ফকিরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান আসামি ইলিয়াসকে সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস ফকিরের বিরুদ্ধে মাদারীপুরেও তিনটি মানবপাচারের মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল সাংবাদিকদের জানান, লিবিয়ায় নির্যাতনের শিকার এক যুবকের করা মামলায় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য ইলিয়াস ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত। তার বিরুদ্ধে অন্য মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে সেসব মামলায়ও তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে।’

৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪০
বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মানবপাচারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং শিশু ও কিশোর-কিশোরী এবং স্থানীয়দের নিরাপদ রাখতে বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে সচেতনতামূলক পদযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কাশিপুর ইউনিয়নের নব আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক পদযাত্রা শুরু হয়। এ সময় মানব পাচার প্রতিরোধ, নিরাপদ অভিবাসন, অনলাইন প্রতারণা এবং শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা বিষয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান প্রদর্শন করা হয়। পদযাত্রা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আদর্শ সামাজিক সুরক্ষা কমিটির সভাপতি ও নব আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, মানব পাচার একটি গুরুতর সামাজিক অপরাধ। এর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও কমিউনিটির সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, পাচারকারীরা চাকরি, উচ্চ বেতন, বিদেশে কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে পাচারের ফাঁদে ফেলছে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেও বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও প্রলোভনের মাধ্যমে মানুষকে পাচারের ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। তাই অনলাইনে বা সরাসরি পাওয়া কোনো চাকরি কিংবা বিদেশে যাওয়ার প্রস্তাব গ্রহণের আগে যথাযথভাবে তথ্য যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরীদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, পরিচয়পত্র বা গুরুত্বপূর্ণ নথি শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অনলাইনে কোনো সন্দেহজনক প্রস্তাব বা চাকরির সুযোগ পেলে পরিবারের সদস্য, শিক্ষক অথবা বিশ্বস্ত ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়।
জাতিসংঘ ঘোষিত World Day Against Trafficking in Persons প্রতি বছর ৩০ জুলাই পালিত হয়। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য “Trapped Behind the Scam”। এবারের প্রতিপাদ্যে অনলাইন স্ক্যাম ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে মানুষকে পাচার এবং জোরপূর্বক যুক্ত করার ঝুঁকির বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে কিশোর-কিশোরী ক্লাব ও আদর্শ সামাজিক সুরক্ষা কমিটির সদস্য, বিদ্যালয়ের
শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় ইপি সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং কমিউনিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি কাশিপুর ইউনিয়নাধীন নব আদর্শ কিশোর-কিশোরী ক্লাব ও আদর্শ সামাজিক সুরক্ষা কমিটি-এর উদ্যোগে এবং Empowering Communities for Children Rights (ECCR) Project, World Concern Bangladesh-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক সংগঠন ও উপস্থিত অতিথিরা বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পরিবার ও কমিউনিটি পর্যায়ে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৫১
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪২
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪০
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৪