বরিশাল নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চিহ্নিত মাদক কারবারি 'গাঁজা রফিক'-এর স্ত্রী ও একাধিক মাদক মামলার আসামি আনু বেগম কর্তৃক অনলাইন নিউজপোর্টাল 'তালাশ বিডি'-র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলামকে মুঠোফোনে মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এই হুমকির ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে প্রকাশিত সংবাদ এবং বিচারাধীন একটি মামলাকে কেন্দ্র করেই এই হুমকির জন্ম। গত ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬:১৫ মিনিটে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন সংগ্রাম রাস্তায় সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে একদল চিহ্নিত অপরাধী। ওই দলে উপস্থিত ছিল এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেল, মাইনুল ফকির, 'ইতালি শহীদ'-এর সহযোগী তাপস, গাঁজা রফিক, তুহিন এবং কালাম মেম্বারসহ আরও কয়েকজন।
সে সময় সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেল, মাইনুল ও তাপস অস্ত্র উঁচিয়ে সাংবাদিক আসলামের মাথায় ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখায়। তারা নাক কাটা রুবেলের বিরুদ্ধে পূর্বে প্রকাশিত সকল সংবাদ অনলাইন থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দেয় এবং ভবিষ্যতে তাদের কোনো অপরাধের খবর প্রকাশ না করার জন্য চূড়ান্ত হুমকি প্রদান করে।
প্রাণনাশের হুমকির পর সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম তার পত্রিকা সম্পাদকের সাথে পরামর্শ করে বরিশাল তৃতীয় যুগ্ম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ‘দ্রুত বিচার আইনে’ একটি নালিশি দরখাস্ত করেন। বিজ্ঞ বিচারক প্রাথমিক শুনানি ও ঘটনার বিবরণ দেখে সত্যতা অনুধাবন করেন এবং কোতয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) ঘটনাটি সরাসরি এজাহার বা এফআইআর (FIR) হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশের পর কোতয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি তাপস এবং মাইনুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত শেষে কোতয়ালি থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) রাজিব দাস সনেট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।
আদালতে চার্জশিট দাখিল ও আসামিদের কারাবরণের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অপরাধী চক্রটি। এর জের ধরেই গতকাল রাতে গাঁজা রফিকের স্ত্রী আনু বেগম মুঠোফোনে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, আদালত থেকে মামলা উঠিয়ে না নিলে তাকে বড় ধরনের মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের মামলায় জড়িয়ে চিরতরে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে।
পরপর এমন প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে সাংবাদিক আসলাম বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে তিনি পুনরায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নগরীর কোতয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।’

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৯
দৈনিক সমকালের সাবেক বরিশাল ব্যুরোপ্রধান পুলক চ্যাটার্জির পরিবারের পাওনা ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে সংবাদপত্রটি। পুলক চ্যাটার্জিকে সংবাদপত্রটির কার্যালয়ে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের তিন দিন পর এই টাকা পরিশোধ করা হলো। সমকালের বর্তমান বরিশাল ব্যুরোপ্রধান সুমন চৌধুরী জানিয়েছেন, গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর পুলকের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা চ্যাটার্জির ব্যাংক হিসাবে ওই টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর পরারা রোডে অবস্থিত সমকাল কার্যালয়ের ভেতর থেকে ৫৭ বছর বয়সী পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলক এর আগে বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বহু বছর ধরে নগরীর গণমাধ্যম অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৩ সালের মে মাসে তাকে সমকাল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। স্বজনেরা জানিয়েছেন, এ সময় তিনি গভীর মানসিক সংকটের মধ্যে ছিলেন।
মৃত্যুর আগে পুলক পাঁচটি চিরকুট লিখে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিনের সহকর্মী সুমন চৌধুরীকে উদ্দেশ করে লেখা একটি চিরকুটে তিনি সমকাল কার্যালয়ে থাকা তার পাওনা টাকা উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
পুলক স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং একমাত্র মেয়ে প্রকৃতিকে রেখে গেছেন। স্ত্রী ও মেয়েকে উদ্দেশ করে লেখা একটি চিরকুটে পুলক লিখেছেন, 'আমাকে ক্ষমা করো। এই পৃথিবীতে কারও জন্য কিছুই থেমে থাকে না।'
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, পুলক তার ছোট ভাই দীপক চ্যাটার্জিকেও স্ত্রী ও মেয়ের দেখাশোনা করার অনুরোধ করেছিলেন।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, পুলক আত্মহত্যা করেছেন। তবে উদ্ধার করা চিরকুটগুলো আসল কি না, তা যাচাই এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তার মৃত্যুর বিস্তারিত ঘটনা জানা যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৭
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতকে (৭৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের সেরাল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বিষয়টি বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত ওই এলাকার ছেলে। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। এ ছাড়া তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি সেরাল গ্রামে জনগণের মনে আতঙ্ক এবং ভীতি সৃষ্টি করে সড়কে মিছিল করার প্রস্তুতি নেয়। এতে আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। পরে এ ঘটনায় থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় পলাতক অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আগৈলঝাড়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৮
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমেনা নামে সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলা ও খামখেয়ালিপনা এবং নার্সদের দায়িত্বে গাফিলতির কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বর্তা গ্রামের মহিন্দ্রাচালক মিলন তালুকদারের শিশুকন্যা আমেনাকে খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও শিশুটির শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
স্বজনদের দাবি, শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নিতে চাইলেও হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। ফলে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই তাকে চিকিৎসাধীন রাখা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে। বিষয়টি কর্মরত নার্সদের জানানো হলেও তারা যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি।
একপর্যায়ে গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুটির বাবা মিলন তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার মেয়েকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। নার্সদের কাছ থেকেও যথাযথ সেবা পাওয়া যায়নি। উল্টো রোগীর স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের অবহেলা ও খামখেয়ালিপনার কারণেই তার মেয়ের অকাল মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও নার্সদের দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হামিদা আক্তার বলেন, ‘জন্ম-মৃত্যু আমাদের হাতে নেই।’ চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সকালে সংশ্লিষ্টদের ডেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৪:০৯
বরিশাল নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চিহ্নিত মাদক কারবারি 'গাঁজা রফিক'-এর স্ত্রী ও একাধিক মাদক মামলার আসামি আনু বেগম কর্তৃক অনলাইন নিউজপোর্টাল 'তালাশ বিডি'-র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলামকে মুঠোফোনে মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এই হুমকির ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে প্রকাশিত সংবাদ এবং বিচারাধীন একটি মামলাকে কেন্দ্র করেই এই হুমকির জন্ম। গত ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬:১৫ মিনিটে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন সংগ্রাম রাস্তায় সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে একদল চিহ্নিত অপরাধী। ওই দলে উপস্থিত ছিল এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেল, মাইনুল ফকির, 'ইতালি শহীদ'-এর সহযোগী তাপস, গাঁজা রফিক, তুহিন এবং কালাম মেম্বারসহ আরও কয়েকজন।
সে সময় সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেল, মাইনুল ও তাপস অস্ত্র উঁচিয়ে সাংবাদিক আসলামের মাথায় ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখায়। তারা নাক কাটা রুবেলের বিরুদ্ধে পূর্বে প্রকাশিত সকল সংবাদ অনলাইন থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দেয় এবং ভবিষ্যতে তাদের কোনো অপরাধের খবর প্রকাশ না করার জন্য চূড়ান্ত হুমকি প্রদান করে।
প্রাণনাশের হুমকির পর সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম তার পত্রিকা সম্পাদকের সাথে পরামর্শ করে বরিশাল তৃতীয় যুগ্ম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ‘দ্রুত বিচার আইনে’ একটি নালিশি দরখাস্ত করেন। বিজ্ঞ বিচারক প্রাথমিক শুনানি ও ঘটনার বিবরণ দেখে সত্যতা অনুধাবন করেন এবং কোতয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) ঘটনাটি সরাসরি এজাহার বা এফআইআর (FIR) হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশের পর কোতয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি তাপস এবং মাইনুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত শেষে কোতয়ালি থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) রাজিব দাস সনেট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।
আদালতে চার্জশিট দাখিল ও আসামিদের কারাবরণের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অপরাধী চক্রটি। এর জের ধরেই গতকাল রাতে গাঁজা রফিকের স্ত্রী আনু বেগম মুঠোফোনে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, আদালত থেকে মামলা উঠিয়ে না নিলে তাকে বড় ধরনের মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের মামলায় জড়িয়ে চিরতরে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে।
পরপর এমন প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে সাংবাদিক আসলাম বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে তিনি পুনরায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নগরীর কোতয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।’
দৈনিক সমকালের সাবেক বরিশাল ব্যুরোপ্রধান পুলক চ্যাটার্জির পরিবারের পাওনা ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে সংবাদপত্রটি। পুলক চ্যাটার্জিকে সংবাদপত্রটির কার্যালয়ে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের তিন দিন পর এই টাকা পরিশোধ করা হলো। সমকালের বর্তমান বরিশাল ব্যুরোপ্রধান সুমন চৌধুরী জানিয়েছেন, গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর পুলকের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা চ্যাটার্জির ব্যাংক হিসাবে ওই টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর পরারা রোডে অবস্থিত সমকাল কার্যালয়ের ভেতর থেকে ৫৭ বছর বয়সী পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলক এর আগে বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বহু বছর ধরে নগরীর গণমাধ্যম অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৩ সালের মে মাসে তাকে সমকাল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। স্বজনেরা জানিয়েছেন, এ সময় তিনি গভীর মানসিক সংকটের মধ্যে ছিলেন।
মৃত্যুর আগে পুলক পাঁচটি চিরকুট লিখে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিনের সহকর্মী সুমন চৌধুরীকে উদ্দেশ করে লেখা একটি চিরকুটে তিনি সমকাল কার্যালয়ে থাকা তার পাওনা টাকা উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
পুলক স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং একমাত্র মেয়ে প্রকৃতিকে রেখে গেছেন। স্ত্রী ও মেয়েকে উদ্দেশ করে লেখা একটি চিরকুটে পুলক লিখেছেন, 'আমাকে ক্ষমা করো। এই পৃথিবীতে কারও জন্য কিছুই থেমে থাকে না।'
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, পুলক তার ছোট ভাই দীপক চ্যাটার্জিকেও স্ত্রী ও মেয়ের দেখাশোনা করার অনুরোধ করেছিলেন।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, পুলক আত্মহত্যা করেছেন। তবে উদ্ধার করা চিরকুটগুলো আসল কি না, তা যাচাই এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তার মৃত্যুর বিস্তারিত ঘটনা জানা যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতকে (৭৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের সেরাল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বিষয়টি বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত ওই এলাকার ছেলে। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। এ ছাড়া তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি সেরাল গ্রামে জনগণের মনে আতঙ্ক এবং ভীতি সৃষ্টি করে সড়কে মিছিল করার প্রস্তুতি নেয়। এতে আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। পরে এ ঘটনায় থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় পলাতক অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আগৈলঝাড়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমেনা নামে সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলা ও খামখেয়ালিপনা এবং নার্সদের দায়িত্বে গাফিলতির কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বর্তা গ্রামের মহিন্দ্রাচালক মিলন তালুকদারের শিশুকন্যা আমেনাকে খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও শিশুটির শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
স্বজনদের দাবি, শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নিতে চাইলেও হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। ফলে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই তাকে চিকিৎসাধীন রাখা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে। বিষয়টি কর্মরত নার্সদের জানানো হলেও তারা যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি।
একপর্যায়ে গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুটির বাবা মিলন তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার মেয়েকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। নার্সদের কাছ থেকেও যথাযথ সেবা পাওয়া যায়নি। উল্টো রোগীর স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের অবহেলা ও খামখেয়ালিপনার কারণেই তার মেয়ের অকাল মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও নার্সদের দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হামিদা আক্তার বলেন, ‘জন্ম-মৃত্যু আমাদের হাতে নেই।’ চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সকালে সংশ্লিষ্টদের ডেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০৩
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০০
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৯
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৭