আসন্ন ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিকে সামনে রেখে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। পর্যটকদের সেবা দিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে ৪০ শতাংশ হোটেল-রিসোর্ট বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কক্ষ এবং দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা, সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পর্যটকদের বরণে হোটেল-মোটেলগুলো রঙিন সাজে সেজে উঠেছে। সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে যাতায়াতের পথঘাট। আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টগুলো তাদের কক্ষগুলো নতুনভাবে সাজিয়ে পর্যটক আকর্ষণে প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সিনিয়র ভাইস-প্রেমিডেন্ট জহিরুল ইসলাম জানান, পুরো রমজান মাসজুড়ে কুয়াকাটা পর্যটকশূন্য থাকায় হোটেল-মোটেলগুলো এই সময়টায় নিজেদের পরিপাটি করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ঈদের ছুটি থেকে শুরু হওয়া টানা বন্ধে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও রমজানের পর্যটক কম থাকায় সৈকতের পরিবেশেও এসেছে ভিন্নতা। শীত মৌসুম শেষে বর্ষার শুরুর এই সময়ে সৈকতে উঁচু ঢেউ, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য এবং প্রকৃতির মনোরম পরিবেশ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে।
হোটেল-মোটেল ও অপারেটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেল রয়েছে ২২০টির বেশি যার ধারণক্ষমতা ২৫-৩০ হাজার। তবে আগত পর্যটকদের সংখ্যা দৈনিক লাখের উপরে উঠতে পারে বলে ধারণা তাদের। ঈদসহ বড় ছুটিগুলোতে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের অনেকেই দিনব্যাপী ঘোরাঘুরি শেষে রাতে নিজ গন্তব্য ফিরে। এ ছাড়াও এই সময়গুলোতে আবাসিক হোটেলের পাশাপাশি সৈকতের কাছাকাছি বাসাবাড়িতেও পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হয়। পর্যটক বরণে প্রস্তুত কুয়াকাটা, ৪০ শতাংশ হোটেল-রিসোর্ট বুকিং সম্পন্ন
হোটেল ডি মোর-এর ব্যবস্থাপক জয়নুল আবেদীন জুয়েল বলেন, আমাদের হোটেলে মোট ৩০টি কক্ষ রয়েছে। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই বুকিংয়ের ফোন আসছে। ইতোমধ্যে ঈদ পরবর্তী ৩ থেকে ৪ দিনের জন্য প্রায় ৪০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আশা করছি বাকি দিনগুলোতেও পুরো বুকিং সম্পন্ন হবে। পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে সুইমিং সুবিধা ও হোটেলের বাড়তি সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ জানায়, ঈদকে কেন্দ্র করে যারা ইতোমধ্যে হোটেল বুকিং দিয়েছে এদের অনেক পর্যটক ফোন করে শঙ্কা প্রকাশ করছে পরিবহন নিয়ে। তেলের সংকটে যদি পরিবহন বন্ধ হয়ে যায় তাহলে সেই প্রভাব পর্যটন খাতেও আঘাত করবে। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোতে বুকিং হচ্ছে। সবমিলিয়ে হোটেল ভেদে ৪০ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে।
এদিকে কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু জানান, পর্যটকদের আগমনের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে তারাও প্রস্তুতি নিয়েছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ট্যুর বুকিং এসেছে। প্রতিটি উৎসবের সময় দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সেবা দিতে ইতোমধ্যে শতাধিক ট্যুর গাইড প্রস্তুত রয়েছে।
কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, ঈদকে ঘিরে বাড়তি পর্যটকের আগমন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত নিরাপত্তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট, স্কাউটের কয়েকটি টিম, স্বেচ্ছাসেবক এবং সৈকতে রেসকিউ টিম কাজ করবে, যাতে পর্যটকরা কোনো ধরনের হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়ার শিকার না হন।
টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লেম্বুরবন থেকে রামনাবাদ চ্যানেল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় টুরিস্ট পুলিশের একাধিক টিম মোতায়েন থাকবে। জল ও স্থলপথে সার্বক্ষণিক পর্যটকদের সেবায় তারা নিয়োজিত থাকবে।
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:০৫
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে সেতু নির্মাণের দাবিতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সব শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ।
ভোলা (ভেলুমিয়া)- পটুয়াখালী (ধুলিয়া) সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তেঁতুলিয়া নদীর তীরের পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মঠবাড়িয়া-ধুলিয়া লঞ্চঘাট ও বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশা এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. মোফাজ্জেল হোসেন মফু। তিনি লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশের সড়ক পথের সঙ্গে দ্বীপ জেলা ভোলাকে যুক্ত করতে সবচেয়ে সহজ পথ তেঁতুলিয়া নদীর ভোলার ভেলুমিয়া থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণ। যার দুরত্বমাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার। এতে দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে। যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
ভোলা থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া হয়ে বরিশালের বারেকগঞ্জ হয়ে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বরিশাল শহরে পৌঁছানো যাবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ভোলার সাথে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে, মংলা বন্দর সহ দক্ষিণের ৬টি জেলার ২৫টি উপজেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে।
ওই সংবাদ সম্মেল ও মানববন্ধনে তেঁতুলিয়া নদী বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নসহ ধুলিয়া, নাজিরপুর ও কাছিপাড়া ইউনিয়ন রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণেরও জোরালো দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক(ভারপ্রাপ্ত) তসলিম তালুকদার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাও. রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি আ. রব খান, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মো. বাবুল মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মো. নাইম সিকদার তারেক, ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম, সৈয়দ মো. রিপন, মো. তৌসিফুর রহমান রাফা প্রমূখ।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে সেতু নির্মাণের দাবিতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সব শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ।
ভোলা (ভেলুমিয়া)- পটুয়াখালী (ধুলিয়া) সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তেঁতুলিয়া নদীর তীরের পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মঠবাড়িয়া-ধুলিয়া লঞ্চঘাট ও বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশা এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. মোফাজ্জেল হোসেন মফু। তিনি লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশের সড়ক পথের সঙ্গে দ্বীপ জেলা ভোলাকে যুক্ত করতে সবচেয়ে সহজ পথ তেঁতুলিয়া নদীর ভোলার ভেলুমিয়া থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণ। যার দুরত্বমাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার। এতে দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে। যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
ভোলা থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া হয়ে বরিশালের বারেকগঞ্জ হয়ে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বরিশাল শহরে পৌঁছানো যাবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ভোলার সাথে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে, মংলা বন্দর সহ দক্ষিণের ৬টি জেলার ২৫টি উপজেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে।
ওই সংবাদ সম্মেল ও মানববন্ধনে তেঁতুলিয়া নদী বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নসহ ধুলিয়া, নাজিরপুর ও কাছিপাড়া ইউনিয়ন রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণেরও জোরালো দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক(ভারপ্রাপ্ত) তসলিম তালুকদার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাও. রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি আ. রব খান, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মো. বাবুল মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মো. নাইম সিকদার তারেক, ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম, সৈয়দ মো. রিপন, মো. তৌসিফুর রহমান রাফা প্রমূখ।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৮
পটুয়াখালীর দশমিনায় এক গ্রাম্য কবিরাজের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুর রহমান (৪২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মোল্লা বাড়ির কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আরিফুর রহমান ওই এলাকার নূর আলম মাতব্বরের ছেলে এবং পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন আরিফুর রহমান। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানীয় কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতের দিকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে ভেবে তার স্ত্রী বাড়ি ফিরে গেলেও মা ও আরিফুর কবিরাজের কাছে থেকে যান।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মা ঘুম থেকে জেগে ছেলেকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে কবিরাজের ঘরের সামনের পুকুরপাড়ের লোটানো অবস্থায় ছেলেকে দেখতে পান তিনি। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আরিফুরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কবিরাজ নূরজাহান বেগম দাবি করেন, রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে আরিফুরকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি আবোল-তাবোল বলতে বলতে পুকুরে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা চলে গেলে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে হাঁস-মুরগি ছাড়তে গিয়ে আরিফুরকে rtsপুকুরপাড় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
দশমিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, পুকুরপাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পটুয়াখালীর দশমিনায় এক গ্রাম্য কবিরাজের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুর রহমান (৪২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মোল্লা বাড়ির কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আরিফুর রহমান ওই এলাকার নূর আলম মাতব্বরের ছেলে এবং পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন আরিফুর রহমান। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানীয় কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতের দিকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে ভেবে তার স্ত্রী বাড়ি ফিরে গেলেও মা ও আরিফুর কবিরাজের কাছে থেকে যান।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মা ঘুম থেকে জেগে ছেলেকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে কবিরাজের ঘরের সামনের পুকুরপাড়ের লোটানো অবস্থায় ছেলেকে দেখতে পান তিনি। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আরিফুরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কবিরাজ নূরজাহান বেগম দাবি করেন, রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে আরিফুরকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি আবোল-তাবোল বলতে বলতে পুকুরে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা চলে গেলে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে হাঁস-মুরগি ছাড়তে গিয়ে আরিফুরকে rtsপুকুরপাড় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
দশমিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, পুকুরপাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:২১
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আইকনিক পরিবহনের একটি ডাবল ডেকার স্লিপার বাস পুকুরে পড়ে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের খলিলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব ১২৪৫৫৫) ঢাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ জন পর্যটক নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে খলিলপুর এলাকায় পৌঁছলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অগভীর পুকুরে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন এবং গুরুতর ৬ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে পাঠান। বাসটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১ ও ২০২৩ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা ছিলেন। কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য তারা বাসটি রিজার্ভ নিয়েছিলেন।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আইকনিক পরিবহনের একটি ডাবল ডেকার স্লিপার বাস পুকুরে পড়ে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের খলিলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব ১২৪৫৫৫) ঢাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ জন পর্যটক নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে খলিলপুর এলাকায় পৌঁছলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অগভীর পুকুরে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন এবং গুরুতর ৬ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে পাঠান। বাসটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১ ও ২০২৩ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা ছিলেন। কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য তারা বাসটি রিজার্ভ নিয়েছিলেন।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

১৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:৪৯
আসন্ন ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিকে সামনে রেখে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। পর্যটকদের সেবা দিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে ৪০ শতাংশ হোটেল-রিসোর্ট বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কক্ষ এবং দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা, সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পর্যটকদের বরণে হোটেল-মোটেলগুলো রঙিন সাজে সেজে উঠেছে। সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে যাতায়াতের পথঘাট। আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টগুলো তাদের কক্ষগুলো নতুনভাবে সাজিয়ে পর্যটক আকর্ষণে প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সিনিয়র ভাইস-প্রেমিডেন্ট জহিরুল ইসলাম জানান, পুরো রমজান মাসজুড়ে কুয়াকাটা পর্যটকশূন্য থাকায় হোটেল-মোটেলগুলো এই সময়টায় নিজেদের পরিপাটি করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ঈদের ছুটি থেকে শুরু হওয়া টানা বন্ধে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও রমজানের পর্যটক কম থাকায় সৈকতের পরিবেশেও এসেছে ভিন্নতা। শীত মৌসুম শেষে বর্ষার শুরুর এই সময়ে সৈকতে উঁচু ঢেউ, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য এবং প্রকৃতির মনোরম পরিবেশ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে।
হোটেল-মোটেল ও অপারেটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেল রয়েছে ২২০টির বেশি যার ধারণক্ষমতা ২৫-৩০ হাজার। তবে আগত পর্যটকদের সংখ্যা দৈনিক লাখের উপরে উঠতে পারে বলে ধারণা তাদের। ঈদসহ বড় ছুটিগুলোতে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের অনেকেই দিনব্যাপী ঘোরাঘুরি শেষে রাতে নিজ গন্তব্য ফিরে। এ ছাড়াও এই সময়গুলোতে আবাসিক হোটেলের পাশাপাশি সৈকতের কাছাকাছি বাসাবাড়িতেও পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হয়। পর্যটক বরণে প্রস্তুত কুয়াকাটা, ৪০ শতাংশ হোটেল-রিসোর্ট বুকিং সম্পন্ন
হোটেল ডি মোর-এর ব্যবস্থাপক জয়নুল আবেদীন জুয়েল বলেন, আমাদের হোটেলে মোট ৩০টি কক্ষ রয়েছে। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই বুকিংয়ের ফোন আসছে। ইতোমধ্যে ঈদ পরবর্তী ৩ থেকে ৪ দিনের জন্য প্রায় ৪০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আশা করছি বাকি দিনগুলোতেও পুরো বুকিং সম্পন্ন হবে। পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে সুইমিং সুবিধা ও হোটেলের বাড়তি সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ জানায়, ঈদকে কেন্দ্র করে যারা ইতোমধ্যে হোটেল বুকিং দিয়েছে এদের অনেক পর্যটক ফোন করে শঙ্কা প্রকাশ করছে পরিবহন নিয়ে। তেলের সংকটে যদি পরিবহন বন্ধ হয়ে যায় তাহলে সেই প্রভাব পর্যটন খাতেও আঘাত করবে। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোতে বুকিং হচ্ছে। সবমিলিয়ে হোটেল ভেদে ৪০ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে।
এদিকে কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু জানান, পর্যটকদের আগমনের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে তারাও প্রস্তুতি নিয়েছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ট্যুর বুকিং এসেছে। প্রতিটি উৎসবের সময় দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সেবা দিতে ইতোমধ্যে শতাধিক ট্যুর গাইড প্রস্তুত রয়েছে।
কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, ঈদকে ঘিরে বাড়তি পর্যটকের আগমন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত নিরাপত্তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট, স্কাউটের কয়েকটি টিম, স্বেচ্ছাসেবক এবং সৈকতে রেসকিউ টিম কাজ করবে, যাতে পর্যটকরা কোনো ধরনের হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়ার শিকার না হন।
টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লেম্বুরবন থেকে রামনাবাদ চ্যানেল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় টুরিস্ট পুলিশের একাধিক টিম মোতায়েন থাকবে। জল ও স্থলপথে সার্বক্ষণিক পর্যটকদের সেবায় তারা নিয়োজিত থাকবে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৯
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৭
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৮
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪