পিরোজপুরের নেছারাবাদে সেনা ক্যাম্পের নেতৃত্বে গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে মাদক কারবারি রাসেল হাওলাদার (৩৫) ও তার স্ত্রী নাসরীন আক্তারকে (৩০) আটক করা হয়েছে। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ৩টার দিকে নেছারাবাদ উপজেলার রাসেলের নিজবাসায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাসেল স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জগৎপট্টি গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই দম্পতি এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং গোপনে ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছিলেন। অভিযানের সময় তাদের বসতঘর তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্থানীয় মাদক ক্রেতা ও সেবনকারীদের নাম প্রকাশ করেছেন।
উদ্ধার আলামতের মধ্যে রয়েছে- ৩৩০ পিস ইয়াবা, ৭ গ্রাম গাঁজা, ১২টি মোবাইল ফোন, ৫টি সিম কার্ড, ২টি সিসি ক্যামেরা, ১টি মেমোরি কার্ড, ৬টি গ্রাইন্ডার মেশিন, একটি জঙ্গল নাইফসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম। অভিযান শেষে আটকদের উদ্ধার আলামতসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেছারাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নেছারাবাদ সেনা ক্যাম্পের অফিসার আল আরাফের জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে দম্পতিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৬
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ; ভুয়া বিল-ভাউচারে প্রায় ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন, রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার একটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস. এম. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিসহ ২৪টি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা প্রায় ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়া, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন এবং সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান স্বাক্ষরিত স্মারক নং-০৫.১০.৭৯১৪.০০০.০৭.০০১.২৬-৯৪২-এর মাধ্যমে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ওই নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি ও বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা আনুমানিক ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার বিষয়টি। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যাংক হিসাব একক স্বাক্ষরে পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭৫৪ টাকা উত্তোলন এবং নির্ধারিত সময়ে ২৪ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ টাকার হিসাব দিতে না পারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি পিবিজিএসআই (PBGSI) প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যয় না করে ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে ২০ জন সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রী, ছয়জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাশাপাশি গত আড়াই বছরে উৎসে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করে সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্ট্যাম্প আইন অমান্য করে নগদ ভাউচারে স্ট্যাম্প ব্যবহার না করেও লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে অর্থের বিনিময়ে নির্ধারিত রোল নম্বর অতিক্রম করে বেআইনিভাবে ছাত্রী ভর্তি, শিক্ষকদের মধ্যে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমতি ছাড়া স্কুলের বেঞ্চ-টেবিল বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের বেঞ্চ ও টেবিল বাইরে নিয়ে গিয়ে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকায় একটি হোটেল মালিকের কাছে বিক্রি করা হয়।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুমা সুলতানা আক্তারের ব্যক্তিগত বিষয়—বিয়ে, বয়স, গায়ের রং ও পোশাক নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতির অনুমোদন ছাড়া একক সিদ্ধান্তে সহকারী প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার এবং শিক্ষকদের বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা বেআইনিভাবে বন্ধ রাখার অভিযোগ রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪-এর ৫৩(২) বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে না কেন, তার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে চান কি না, সেটিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ; ভুয়া বিল-ভাউচারে প্রায় ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন, রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার একটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস. এম. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিসহ ২৪টি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা প্রায় ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়া, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন এবং সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান স্বাক্ষরিত স্মারক নং-০৫.১০.৭৯১৪.০০০.০৭.০০১.২৬-৯৪২-এর মাধ্যমে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ওই নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি ও বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা আনুমানিক ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার বিষয়টি। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যাংক হিসাব একক স্বাক্ষরে পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭৫৪ টাকা উত্তোলন এবং নির্ধারিত সময়ে ২৪ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ টাকার হিসাব দিতে না পারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি পিবিজিএসআই (PBGSI) প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যয় না করে ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে ২০ জন সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রী, ছয়জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাশাপাশি গত আড়াই বছরে উৎসে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করে সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্ট্যাম্প আইন অমান্য করে নগদ ভাউচারে স্ট্যাম্প ব্যবহার না করেও লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে অর্থের বিনিময়ে নির্ধারিত রোল নম্বর অতিক্রম করে বেআইনিভাবে ছাত্রী ভর্তি, শিক্ষকদের মধ্যে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমতি ছাড়া স্কুলের বেঞ্চ-টেবিল বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের বেঞ্চ ও টেবিল বাইরে নিয়ে গিয়ে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকায় একটি হোটেল মালিকের কাছে বিক্রি করা হয়।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুমা সুলতানা আক্তারের ব্যক্তিগত বিষয়—বিয়ে, বয়স, গায়ের রং ও পোশাক নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতির অনুমোদন ছাড়া একক সিদ্ধান্তে সহকারী প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার এবং শিক্ষকদের বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা বেআইনিভাবে বন্ধ রাখার অভিযোগ রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪-এর ৫৩(২) বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে না কেন, তার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে চান কি না, সেটিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
পিরোজপুরের নাজিরপুরে নিজের মেয়েকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে অহিদুল মোল্লা নামের একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত অহিদুল মোল্লা বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ডোবাতলা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। তিনি নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করেন। পেশায় একজন অটোচালক।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসান মিয়াসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অহিদুলের প্রথম স্ত্রী কয়েক বছর আগে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পেই বিষপানে আত্মহত্যা করেন। প্রথম স্ত্রীর গর্ভে যমজ ছেলে ও ১২ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। ভিকটিম শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অহিদুল পুনরায় বিবাহ করেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী বর্তমানে প্রবাসে থাকায় ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।
ভুক্তভোগী শিশু জানায়, তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘ ৬ মাস ধরে ধর্ষণ করে আসছিলেন তার বাবা। দুই মাস আগে বিষয়টি দাদিকে জানালে তিনি কাউকে বলতে নিষেধ করেন। ঘটনা প্রকাশ করলে তাকে হত্যার হুমকি দেন অহিদুল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সোমবার সকালে শিশুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করে। পরে অহিদুল বাড়িতে ফিরলে স্থানীয়রা তাকে গণটিুনি দেন। একপর্যায়ে অপরাধ স্বীকার করেন অহিদুল।
খবর পেয়ে নাজিরপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় অহিদুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পিরোজপুরের নাজিরপুরে নিজের মেয়েকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে অহিদুল মোল্লা নামের একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত অহিদুল মোল্লা বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ডোবাতলা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। তিনি নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করেন। পেশায় একজন অটোচালক।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসান মিয়াসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অহিদুলের প্রথম স্ত্রী কয়েক বছর আগে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পেই বিষপানে আত্মহত্যা করেন। প্রথম স্ত্রীর গর্ভে যমজ ছেলে ও ১২ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। ভিকটিম শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অহিদুল পুনরায় বিবাহ করেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী বর্তমানে প্রবাসে থাকায় ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।
ভুক্তভোগী শিশু জানায়, তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘ ৬ মাস ধরে ধর্ষণ করে আসছিলেন তার বাবা। দুই মাস আগে বিষয়টি দাদিকে জানালে তিনি কাউকে বলতে নিষেধ করেন। ঘটনা প্রকাশ করলে তাকে হত্যার হুমকি দেন অহিদুল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সোমবার সকালে শিশুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করে। পরে অহিদুল বাড়িতে ফিরলে স্থানীয়রা তাকে গণটিুনি দেন। একপর্যায়ে অপরাধ স্বীকার করেন অহিদুল।
খবর পেয়ে নাজিরপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় অহিদুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:২৩
পিরোজপুরের নেছারাবাদে মো. আবুল মল্লিক (৫৫) নামে এক অসহায় চা দোকানির লাশ নিজের দোকানের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নের কামারকাঠি ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, আবুল মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি অনেক সময় অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। পাশাপাশি সংসারে ছিল চরম অভাব-অনটন। একসময় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও প্রায় পাঁচ বছর ধরে অসুস্থ থাকায় সেই কাজ করতে পারতেন না। পরে ধারদেনা করে বাড়ির সামনে একটি ছোট চায়ের দোকান দেন। তবে দোকান থেকেও সংসারের অভাব দূর হয়নি।
নিহতের মেয়ের জামাই আবীর হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার আবুল মল্লিককে হাতে রশি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। প্রতিদিনের মতো রাতে তিনি নিজের চা দোকানেই ঘুমিয়ে ছিলেন। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় তাকে ডাকতে যান স্বজনরা। একপর্যায়ে দোকানের ফাঁক দিয়ে গলায় লাইলনের রশি পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হারুন বলেন, আবুল মল্লিক অত্যন্ত অসহায় ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পাশাপাশি সংসারে অভাব থাকায় তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের অনেক সময় ভিক্ষা করে সংসার চালাতে হয়েছে। গতকালও তাকে হাতে রশি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে জানান তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পিরোজপুরের নেছারাবাদে মো. আবুল মল্লিক (৫৫) নামে এক অসহায় চা দোকানির লাশ নিজের দোকানের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নের কামারকাঠি ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, আবুল মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি অনেক সময় অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। পাশাপাশি সংসারে ছিল চরম অভাব-অনটন। একসময় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও প্রায় পাঁচ বছর ধরে অসুস্থ থাকায় সেই কাজ করতে পারতেন না। পরে ধারদেনা করে বাড়ির সামনে একটি ছোট চায়ের দোকান দেন। তবে দোকান থেকেও সংসারের অভাব দূর হয়নি।
নিহতের মেয়ের জামাই আবীর হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার আবুল মল্লিককে হাতে রশি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। প্রতিদিনের মতো রাতে তিনি নিজের চা দোকানেই ঘুমিয়ে ছিলেন। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় তাকে ডাকতে যান স্বজনরা। একপর্যায়ে দোকানের ফাঁক দিয়ে গলায় লাইলনের রশি পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হারুন বলেন, আবুল মল্লিক অত্যন্ত অসহায় ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পাশাপাশি সংসারে অভাব থাকায় তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের অনেক সময় ভিক্ষা করে সংসার চালাতে হয়েছে। গতকালও তাকে হাতে রশি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে জানান তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:২৯
পিরোজপুরের নেছারাবাদে সেনা ক্যাম্পের নেতৃত্বে গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে মাদক কারবারি রাসেল হাওলাদার (৩৫) ও তার স্ত্রী নাসরীন আক্তারকে (৩০) আটক করা হয়েছে। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ৩টার দিকে নেছারাবাদ উপজেলার রাসেলের নিজবাসায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাসেল স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জগৎপট্টি গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই দম্পতি এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং গোপনে ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছিলেন। অভিযানের সময় তাদের বসতঘর তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্থানীয় মাদক ক্রেতা ও সেবনকারীদের নাম প্রকাশ করেছেন।
উদ্ধার আলামতের মধ্যে রয়েছে- ৩৩০ পিস ইয়াবা, ৭ গ্রাম গাঁজা, ১২টি মোবাইল ফোন, ৫টি সিম কার্ড, ২টি সিসি ক্যামেরা, ১টি মেমোরি কার্ড, ৬টি গ্রাইন্ডার মেশিন, একটি জঙ্গল নাইফসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম। অভিযান শেষে আটকদের উদ্ধার আলামতসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেছারাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নেছারাবাদ সেনা ক্যাম্পের অফিসার আল আরাফের জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে দম্পতিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৪
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৮
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৬
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫২